সংকটজনক অবস্থার মুখে আজ কলকাতার ট্রাফিক

Spread the love
  • 32
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    32
    Shares

 

রাজীব মুখার্জী, সাঁতরাগাছিঃ বেসরকারি এক সংস্থার কর্মী শিবদুলাল বাবুকে নিত্যদিন পার্ক স্ট্রিট যেতে হয় তার কর্মসূত্রে। প্রতিদিনকার মতো আজও বাড়ি থেকে বেরিয়ে সকাল ৯ টায় বাস ধরার জন্য ক্যারি রোড ও বেতরের ক্রসিং-এ দাঁড়িয়ে প্রায় দেড় ঘন্টা ধরে অপেক্ষা করছিলো সে। তার গন্তব্য স্থান ময়দান মেট্রো স্টেশন। কিন্তু চৌমাথায় দাঁড়িয়ে তিনি বুঝতে পারছিলেন না যে, কিভাবে পৌঁছবেন অফিসে। দীর্ঘক্ষণ আসে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা লোকেদের জিজ্ঞ্যাসাবাদ করে শেষে শরণাপন্ন হন ট্রাফিক সিগনালে কর্তব্যরত ট্রাফিক সার্জেন্ট দেবাশীষ প্রামানিকের কাছে। তিনিও কোন সমাধান করতে পারেননি। “অন্য দিন এখান থেকে অনেক বাস যায়। কিন্তু আজ কী হলো?” কপালের ভাঁজ ও মুখে এই কথার মধ্যে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল তার দুশ্চিন্তার ছাপ। অগত্যা ক্যারি রোড ধরে হেটে দ্বিতীয় ব্রিজ পার হওয়ার সংকল্প নিয়ে এগিয়ে গেলেন।

আবার অপরদিকে সাঁতরাগাছির বাসিন্দা মন্টু সান্যাল কে রোজ দুবেলা এস. এস. কে. এম.-এ যেতে হচ্ছে ইদানিং। তার মা সংকটজনক অবস্থায় ভর্তি আজ প্রায় ১৫ দিন ধরে। দ্বিতীয় ব্রিজ অব্দি এসেও বুঝতে পারছিলেন না যে বাকিটা পথ কী ভাবে এগোবেন। যে রাস্তায় অন্য দিন পৌঁছতে তার ২০ মিনিটও লাগতো না, আজ সেই রাস্তার ভয়াবহতা দেখে আঁতকে উঠলেন সে। আজ খুব জরুরি অপারেশন আছে তার মায়ের। প্রয়োজনীয় ইনজেকশন টা গতকাল রাতেই কিনে এনে রেখেছিলেন পাড়ার দোকান থেকে। যে ভাবেই হোক বেলা ১০ টার মধ্যে তার হাসপাতালে পৌঁছানোর কথা, নাহলে অপারেশন আটকে যাবে। বারবার ঘড়ির দিকে তার নজর আর কপালে জমে থাকা দুশ্চিন্তার ঘাম স্পষ্ট বুঝিয়ে দিচ্ছিল তার অবস্থার কথা। সকাল ৮ টায় রামরাজতলার বাসিন্দা আই. টির কর্মী সমীক দাসগুপ্ত বাড়ি থেকে বেড়িয়েছেন। ১০টায় তার ডিউটি শুরু। হাওড়া ময়দান অব্দি পৌঁছতে তার হয়েছে বিশাল হয়রানি। একটা শার্টেল ট্যাক্সি পেয়েছিলেন কিন্তু সেও হাওড়া ব্রিজের আগে প্রায় ৪০ মিনিট ধরে দাঁড়িয়ে। কিভাবে সময়ে পৌঁছবেন বুঝতে পারছেন না।


শুধু এরাই নয়, মঙ্গলবার মাঝেরহাট ব্রিজ ভেঙে পড়ার পরে আজ বহু মানুষকে সমক্ষিন হতে হচ্ছে দুর্ভগের। হাওড়া বেতর রোডে থেকে দ্বিতীয় হাওড়া ব্রিজ কার্যত লক হয়ে গেছে সকাল থেকে ট্রাফিকের কারনে। কোন গাড়ি এগোচ্ছে না। কনা এক্সপ্রেসওয়ের থেকে হাওড়া, ট্রাফিক কোন গাড়ি কে সাঁতরাগাছি পেরোতে দিচ্ছে না। কোনা এক্সপ্রেসওয়েতে ট্রাফিক গার্ডের এক অফিসারের সাথে রিতি মতো বিতর্কে জড়িয়ে পড়লেন রাণীহাটির বাসিন্দা সফিকুল শাহজাদা। তিনি সাঁত্রাগাছির জগাছা অঞ্চলে যাবেন। ট্রাফিক গার্ড থেকে তাকে সলপের দিকে এগিয়ে যেতে বলেন। অনেক্ষন বিতর্ক হওয়ার পরেও যখন কাজ হলো না, তখন আমাদের কাছে এসে তার দুর্ভগের কথা জানান। আজ সকাল অব্দি কেউ জানতেন না রাস্তা পরিবর্তনের কথা। সফিকুল বাবুর বক্তব্য, “আগে জানলে অন্য রাস্তা দিয়ে চলে জেতাম গন্তব্যে”। সাঁত্রাগাছির মোড়েও সেই চেনা চিত্র দেখা যাচ্ছে। মানুষের ভিড় আর ওই মোড়ের বাস স্ট্যান্ডে লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা বাস। কন্ডাক্টরদের যাত্রী বোঝাই করার ডাক আজকে নেই। তারাও জানেন না কখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে আবার। আজ কার্যত তাদের ছুটির দিন, তারা আজ আড্ডাতে ব্যাস্ত। ট্রেন চলাচল আপাতত স্বাভাবিক, তাই প্লাটফর্মে অসংখ্য মানুষেরর ভিড় চোখে পড়ার মতো।

হাওড়া ট্রাফিক কন্ট্রোলের অফিসার ইনচার্জের সাথে কথা বলে জানা গিয়েছে, আপাতত কলকাতাগামী সব বাস কে তারা সলপের অভিমুখে পাঠাচ্ছেন। কিছু গাড়ি ক্যারি রোড হয়ে চ্যাটার্জী হাট থেকে নতুন রাস্তা ধরছে। কিছু বাস বেলেপোল থেকে নতুন রাস্তা ধরে বাইপাস হয়ে সালকিয়া বাঁধাঘাটের পাশ দিয়ে হাওড়া অভিমুখে যাচ্ছে। তবে ট্রাফিক খুব শ্লথ গতিতে এগোচ্ছে। দ্বিতীয় সেতুতে কর্তব্যরত ট্রাফিক গার্ডের এক সার্জেন্টের বক্তব্য, “দাদা বহু বছর বাদে এমন অবস্থা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে বিকেল হয়ে যাবে”।

সম্পর্কিত সংবাদ