বাংলাদেশে এবারও বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ থাকবে : এনবিআর

বাংলাদেশে এবারও বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ থাকবে : এনবিআর

বেঙ্গলটুডে প্রতিনিধি, ঢাকা:

এবারের বাজেটেও কালো টাকা সাদা করার সুযোগ থাকবে। এই সুযোগ না দিলে বিদেশে অর্থ পাচার ও দেশে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হবে। এজন্য জরিমানার বিধান রেখে বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া।

১৭ই এপ্রিল রাজধানীর সেগুনবাগিচায় এনবিআরের সম্মেলন কক্ষে আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিহ্যাব-এর সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি একথা বলেন। সভায় এনবিআরের সদস্যবৃন্দ, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ ও রিহ্যাব-এর নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভায় রিহ্যাব নেতৃবন্দ এনবিআর চেয়ারম্যানের কাছে এবারের বাজেটেও আবাসন খাতে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ চান। এই দাবির প্রেক্ষিতে এনবিআর চেয়ারম্যান কালো টাকা সাদা করতে জরিমানার বিধান রেখে এ সুযোগ দেওয়া হবে বলে জানান। বাজেট এলেই সাধারণত আলোচনায় আসে কালো টাকা বা অপ্রদর্শিত আয় বৈধ করার বিষয়টি। অর্থনীতিবিদ ও গবেষকরা প্রতিবছর বিষয়টি নিয়ে আপত্তিও তোলেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া হয়। এর মানে হলো অপ্রদর্শিত অর্থ মূল অর্থনীতিতে নিয়ে আসা।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, কালো টাকা সাদা করার ক্ষেত্রে কর ও জরিমানা আদায় করা হয়ে থাকে। প্রতিবছর এটা হয়ে আসছে। যদি আমরা কালো টাকা সাদা করার সুযোগ বন্ধ করে দেই, তাহলে টাকাগুলো বাইরে চলে যাবে। এতে বিনিয়োগও বাধাগ্রস্ত হবে। বিনিয়োগ বাড়াতে আমরা কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দিচ্ছি। আপনারা এটাকে কেউ ভুলভাবে ব্যাখ্যা করবেন না। আমরা ট্যাক্স ও জরিমানা সহ এ সুযোগ দিচ্ছি। সভায় অপ্রদর্শিত অর্থ (কালো টাকা) আবাসন খাতে বিনিয়োগের জন্য পাঁচ বছর সময় চেয়েছে রিহ্যাব। একই সঙ্গে ফ্ল্যাট ও প্লাট নিবন্ধন করতে সংশ্লিষ্ট কর ও ফি ৭ শতাংশ করা সহ মোট ১২টি প্রস্তাব দেয় আবাসন খাতের এ সংগঠন।

লিখিতভাবে প্রস্তাবগুলি তুলে ধরেন রিহ্যাবের প্রথম সহ-সভাপতি লিয়াকত আলী ভুঁইয়া। লিখিত প্রস্তাবে তিনি বলেন, অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুবিধার পাশাপাশি রেজিস্ট্রেশন ব্যয় নির্ধারণ করে আবাসন খাতে সেকেন্ডারি বাজার ব্যবস্থার প্রচলন করতে হবে। অর্থাৎ রেজিস্ট্রেশন ফি, স্ট্যাম্প ডিউটি, গেইন ট্যাক্স কমিয়ে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ করা, সাপ্লায়ার ভ্যাট ও উৎস কর সংগ্রহের দায়িত্ব থেকে ৫ বছরের ডেভেলপারদেরকে অব্যাহতি এবং আবাসন খাতে বাংলাদেশ ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ সিঙ্গেল ডিজিট সুদে দীর্ঘমেয়াদী রিফাইন্যান্সিং চালু এবং ২০ হাজার কোটি টাকার ফান্ড গঠনের প্রস্তাব করছি। নিবন্ধন ফি কমানো প্রসঙ্গে এনবি আর চেয়ারম্যান বলেন, রিহ্যাবের বিষয়গুলো আমাদের দেখতে হবে। নিবন্ধন ফি কমানোর বিষয়ে চিন্তা করা হবে।

You May Share This
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.