পদ্মশ্রী স্বাধীনতা সংগ্রামী সুধাংশু বিশ্বাসের জীবনা বসানে শোকের ছায়া ঠাকুর পুকুরে

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

 

অমিয় দে,বারুইপুরঃ সেবা কর্মই যার ধর্ম ছিল, ভারতের স্বাধীনতার যুদ্ধে তাঁর অবদান ছিল অবিসংবাদিত। সেই স্বাধীনতা সংগ্রামী পদ্মশ্রী সন্মানে ভূষিত সুধাংশু বিশ্বাসের জীবনা বসানে শোকের ছায়া

গোটা ঠাকুর পুকুরে। মৃত্যু কালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৮ বছর। বেশ কিছুদিন ধরে হৃদ রোগে অসুস্থ ছিলেন তিনি। হঠাৎ তাঁর সেরিব্রাল এটাক হয়ে যাওয়ায় ৫ই ডিসেম্বর দুপুরে ঠাকুর পুকুর কস্তূরী মেডিক্যাল সেন্টারে তাঁকে ভর্তি করানো হয়। এরপর এদিন দুপুর ১২:৫৫ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

এই প্রবীণ পদ্মশ্রী স্বাধীনতা সংগ্রামী সুধাংশু বিশ্বাসের মৃতদেহ নিয়ে যাওয়া হয় তার গ্রাম বিষ্ণুপুরের রাম কৃষ্ণপুর গ্রামে। সেখানে ১৯৭৩ সালে ৪০ বিঘা জমির উপর তাঁরই নির্মিত শ্রী রাম কৃষ্ণ সেবা শ্রমে মরদেহ শায়িত করে রাখা হয়, সেখানেই তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান তাঁর অগনিত অনুরাগি, সন্তান, পরিবার আত্মীয় পরিজন দূর দুরান্ত থেকে আসা গুনীজনরা। গুরুদেবের প্রয়াণে শোকাহত তাঁর রামকৃষ্ণ সেবা শ্রমের অনাথ শিশু সন্তানরা, সেবা শ্রমের সম্পাদক সহ তার অসংখ্য গুনীজন থেকে শুরু করে তাঁর বৃদ্ধা শ্রমের বৃদ্ধ –বৃদ্ধারা।

বারুইপুর পুরসভার চেয়ারম্যান শক্তি রায় চৌধুরী, বিভাস সর্দার সহ অন্যান্যরা তাঁর কর্ম জায়গায় গিয়ে শুক্রবার সকালে শেষ শ্রদ্ধা জানান। এই শ্রদ্ধা নিবেদনের পর জাতীয় পতাকায় মুড়ে দিয়ে রাম কৃষ্ণ পুর থেকে শুক্রবার দুপুরে তাঁর মরদেহ আনা হয় বারুইপুরের কীর্তন খোলা মহা শ্মশানে। মহা শ্মশানে তাঁকে শেষবারের জন্য শ্রদ্ধা জানান বিভিন্ন সংঘ, সমিতি সহ গুনিজন, বারুইপুর থানা থেকেও তাঁকে শেষ সন্মান জানানো হয়। বিকালে তাঁর শেষ কৃত্য সম্পন্ন হয়।

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ২৬শে জানুয়ারি কেন্দ্রীয় সরকার স্বাধীনতা সংগ্রামী সুধাংশু বিশ্বাসকে পদ্মশ্রী পুরষ্কারের কথা ঘোষণা করে, ২রা এপ্রিল রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ দিল্লিতে স্বাধীনতা সংগ্রামী সুধাংশু বিশ্বাসের হাতে পদ্মশ্রীর পদক তুলে দেয়। বাবা মন মোহন বিশ্বাস মা মুক্তাবালা বিশ্বাসের কৃতি সন্তান সুধাংশু বিশ্বাস, সুধাংশু বিশ্বাস স্বাধীনতা সংগ্রামী বেণী মাধব দাসের শিষ্য ছিলেন। স্বাধীনতার যুদ্ধে বেনি মাধব দাসের হাত ধরেই বারিন ঘোষ, বীণা দাস, শিশির বসু , সুধাংশু বিশ্বাসরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন। একদিকে যেমন স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছিলেন সুধাংশু বিশ্বাস তেমন বিষ্ণুপুরের রামকৃষ্ণপুরে ১৯৭৩ সালে ৪০ বিঘা জমিতে অনাথ শিশুদের জন্য রামকৃষ্ণ সেবাশ্রম একই সাথে বৃদ্ধা শ্রম গড়ে তুলেছিলেন।

উল্লেখ্য ১৯৮২ সালে দুটি হোম নির্মাণ হয়, সেখানে ভকেশানাল ট্রেনিং, কম্পিউটার শিক্ষা হয়। রামকৃষ্ণ সেবাশ্রমের সম্পাদক বিশ্ব নাথ পুরকাইত জানান, সমাজ সেবায় ব্রতি ছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামী, তাঁর মৃত্যুতে বড় ক্ষতি হয়ে গেল। হারালাম আমাদের পিতা তথা অভিভাভাবককে।

সম্পর্কিত সংবাদ

Leave a Comment