বাংলাদেশে এলপি গ্যাসের গ্রাহক বাড়ছে

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

 

মিজান রহমান, ঢাকাঃ বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান গ্যাস সংকটের কারনে এলপি গ্যাসের দিকে ঝুকছে মানুষ। বর্তমানে দেশে এলপি গ্যাসের গ্রাহক সংখ্যা ৫০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। আর এই সুযোগে ছোটবড় দুই শতাধিক কোম্পানি এলপি গ্যাস বিক্রি করছে। তাদের প্রায় দেড় কোটি সিলিন্ডার রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, কোন নীতিমালা না থাকায় এসব কোম্পানি দেদারছে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এদিকে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণজনিত দুর্ঘটনার পরিমানও বেড়ে গেছে। গত এক সপ্তাহে শুধু রাজধানীতেই চারটি ঘটেছে। এসব ঘটনায় নারী, শিশু ও পুরুষ সহ মারা গেছেন পাঁচজন। দিন দিন এলপি গ্যাসের ব্যবহার জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। তবে এলপি গ্যাসের ক্রয়, বিক্রয়, মজুত ও ব্যবহারের কোনও নীতিমালা নেই। এসব সিলিন্ডার মানসম্মত কিনা তাও পরীক্ষা হয় না। কোম্পানিগুলো নিজেরাই গ্যাস সিলিন্ডারের মান নির্ণয় করে বিস্ফোরক অধিদফতরে জমা দেয়। সেগুলো যাচাই বাছাই করে অধিদফতর। এ নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন।

সূত্রমতে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২৬শে নভেম্বর পর্যন্ত ঢাকা বিভাগে গ্যাস দুর্ঘটনায় ১০৬টি অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে গ্যাসলাইন লিকেজে ৫৫টি এবং এলপি গ্যাসের সিলিন্ডার থেকে ৫৩টি। এসব ঘটনায় ১১ জনের নিহত হয়েছেন। অর্ধশত মানুষ আহত হয়েছেন। পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন অন্তত ১২ জন। ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের তথ্যানুযায়ী, গ্যাস বিস্ফোরণে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে ২৬শে নভেম্বর পর্যন্ত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এলপি গ্যাসের সিলিন্ডারের মান সম্পর্কে জনগণকে সচেতন হতে হবে। তাদের নিজেদের স্বার্থেই সিলিন্ডার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা উচিত। কিন্তু তা কেউ করে না। এই বিষয়টি দেখার সংশ্লিষ্ট বিভাগও ঠিকমত কাজ করছে না।

সূত্র জানায়, বিস্ফোরক অধিদফতর এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের মান নির্ণয় করে। তবে এই অধিদফতরে লোকবল সংকট রয়েছে। সরাসরি তারা কোনও কোম্পানির সিলিন্ডারের মান নির্ণয় করে না। কোম্পানিগুলো নিজেরাই সিলিন্ডারের মান নির্ণয় করে সেই প্রতিবেদন বিস্ফোরক অধিদফতরে দেয়। আর বিস্ফোরক অধিদফতর সেগুলো তদারকি করে মাত্র।

বিস্ফোরক অধিদফতরের প্রধান পরিদর্শক শামসুল আলম বলেন, এলপি গ্যাস ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরও সচেতন হতে হবে। এজন্য সচেতনতা কার্যক্রম চালানো উচিত। কোম্পানিগুলো এই সচেতনতায় কাজ করতে পারে, তাহলে দেশের নাগরিকরা উপকৃত হবে। তিনি বলেন, এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের উদাহরণ আমরা পাচ্ছি না। আমরা একাধিক ঘটনার তদন্ত করেছি কিন্তু সেসব ঘটনা লিকেজ থেকে ঘটেছে। এ বিষয়ে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, গ্যাস সিলিন্ডার সংক্রান্ত একটি খসড়া নীতিমালা তৈরি হয়েছে। সেটি এখন মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আর তা অনুমোদন হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

সম্পর্কিত সংবাদ

Leave a Comment