অসাধ্য সাধন ডাঃ বি এন বসু হাসপাতালের ডাক্তারদের

অসাধ্য সাধন ডাঃ বি এন বসু হাসপাতালের ডাক্তারদের

 

অরিন্দম রায় চৌধুরী, ব্যারাকপুরঃ একটা সময় সবাই মনে করতো মহকুমার এই হাসপাতালটি হলো শুধুই রেফার হাসপাতাল। মানুষ এখানে কোন সমস্যা নিয়ে ভর্তি হলেই কলকাতার হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হতো। সত্যই তো এ কোন শহুরে সুপার স্পেস্যালিটি হাসপাতাল নয়! জেলার একটি ছাপোষা মহাকুমা হাসপাতাল। পরিসেবার কাঠামো এখানে কোথায়? কিন্তু বর্তমানে তা আর বলা যায় না, অন্তত বর্তমানে হাসপাতালের সুপার ডাঃ সুদীপ্ত ভট্টাচার্য দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে একের পর এক উন্নতি হয়ে চলেছে এই ব্যারাকপুরের ডাঃ বি এন বসু মহকুমা হাসপাতালে। আর আজ সেখানেই হল অসাধ্য সাধন!

হ্যা ঠিক তাই। স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত রুগিকে জটিল অস্ত্রপ্রচার করে প্রানে বাঁচিয়ে অসাধ্য সাধন করল ব্যারাকপুর মহকুমা হাসপাতালের চিকিৎসকেরা। আর মহকুমা স্তরের হাসপাতালে এমন জটিল অস্ত্রপ্রচার চালিয়ে রাজ্যে নজির সৃস্টি করল বলেই দাবি হাসপাতাল সুপারের। হাসপাতাল সুত্রে জানা গেছে ,ব্যারাকপুরের দেবপুকুরের বাসিন্দা  বছর ৫০এর গৌরী বিশ্বাস বেশ কিছুদিন ধরেই বুকে ব্যথায় ভুগছিলেন। গত দশ দিন আগে বিএন বোস হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে নিয়ে আসেন তার পরিবার। চিকিৎসকদের সন্দেহ হয় গৌরী বিশ্বাসের ব্রেস্ট টিউমার হয়েছে। এরপরে পরীক্ষা নিরিক্ষা করে চিকিৎসকরা নিশ্চিত হন গৌরীদেবীর ব্রেস্ট ক্যান্সার হয়েছে। এদিকে গৌরী বিশ্বাসের অবস্থারও সংকট জনক হয়ে পরে। চিকিৎসকরা আর দেরি না করে তাকে বাঁচাতে অস্ত্রপ্রচারের সিদ্ধান্ত নেন। যাকে ডাক্তারি ভাষায় বলা হয় মডিফায়েড র‍্যাডিকেল মেস্টেকটমি। হাসপাতাল সুত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার প্রায় আড়াই ঘন্টা ধরে অস্ত্রপ্রচার হয়ে। অস্ত্রপ্রচার করে গৌরী দেবীর ডান দিকের স্তন বাদ দেন চিকিৎসকরা। এর ফলে প্রানে বাঁচলেন গৌরী।

সব ভাল যার শেষ ভাল কথাটা এই ক্ষেত্রেও যে প্রযোজ্য তা দেখা গেল যখন গৌরীদেবী এবং তার পরিবারের মুখে আনন্দের ছায়া দেখে। গৌরী বিশ্বাস এদিন হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে জানালেন, “আমার ক্ষমতা ছিল না বেসরকারি হাসপাতালে গিয়ে এই ধরনের চিকিৎসা করানো। বি এন বোস হাসপাতালের চিকিৎসকেরা আমার এই অপারেশন করে বাঁচিয়ে দিল আমাকে। গৌরীর মেয়ে পম্পা এবং শম্পা জানান, বিএন বোস হাসপাতাল তাদের মাকে ফিরিয়ে দিয়েছে। আমাদের আর্থিক অনটন এতটাই ছিল যে, মাকে অন্যত্র চিকিৎসা বা অপারেশন করানোর সাধ্য ছিল না। বি এন বোস হাসপাতালের চিকিৎসকদের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ।

এই বিষয় ব্যারাকপুর বি এন বোস হাসপাতালের সুপার ডাঃ সুদীপ্ত  ভট্টাচার্য জানান,”সাধারণত মহকুমা স্তরের কোন স্টেট জেনারেল হাসপাতালে এত বড় অস্ত্রপ্রচার হয় না। এটা মেডিকেল কলেজ ছড়া সম্ভব নয়। এই অসম্ভবকে সম্ভব করল হাসপাতালের চিকিৎসকদের এই টীম। মোট তিন জনের চিকিৎসকের দল, সার্জেন ডাঃ অমিতাভ ভট্টাচার্য, ডাঃ অতনু পাল ও আনেস্থেটিক ডাঃ সুপ্রিয় ভট্টাচার্য মিলে গৌরী বিশ্বাসের জটিল এই স্তন ক্যান্সারের অস্ত্রপ্রচার করেন। আমরা যে গরীব রুগীর পাশে দাঁড়াতে পারলাম তাই আমাদের কাছে অনেক। আমাদের ডাক্তার থেকে শুরু করে হাসপাতালের সকল কর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রমে আজ এই হাসপাতাল যে রকম ভাবে উন্নতি করছে তার জন্য আমি গর্বিত। রোগী সুস্থ আছে আমরা চাই রুগী দীর্ঘায়ু লাভ করুন ও সুস্থ থাকুন।” এই ঘটনায় অবশই খুশি রোগীর পরিবারসহ হাসপাতালের চিকিৎসকরাও।

You May Share This
  • 408
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    408
    Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.