বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থায় দুর্নীতি বেশিঃ টিআইবি

বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থায় দুর্নীতি বেশিঃ টিআইবি

মিজান রহমান, ঢাকাঃ দেশে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা গুলোতে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল, বাংলাদেশের (টিআইবি) এক জরিপে এ তথ্য তুলে ধরেছে। ৩০শে আগস্ট, বৃহস্পতিবার জরিপটি প্রকাশ করে টিআইবি। জরিপে দুর্নীতিগ্রস্ত অপর শীর্ষ খাত হিসেবে পাসপোর্ট ও বিআরটিএ (বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ) কে চিহ্নিত করা হয়। রাজধানীর ধানমন্ডিতে মাইডাস ভবনে টিআইবির কার্যালয়ে এ জরিপ তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে টিআইবির চেয়ারপারসন সুলতানা কামাল ও নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন। টিআইবি জানায়, দুই বছর আগের জরিপের তুলনায় দুর্নীতির শিকার মানুষের সংখ্যা কিছুটা কমলেও ঘুষের পরিমাণ বেড়েছে। তাই পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগ জনক। সেবা সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি ১৫টি খাতে দুর্নীতির চিত্র উঠে এসেছে টিআইবির ২০১৭ সালের সেবা খাতে দুর্নীতির জরিপে। জরিপে বলা হয়েছে, সার্বিক ভাবে ৬৬ দশমিক পাঁচ শতাংশ দুর্নীতির শিকার হয়েছে, যা আগের জরিপের তুলনায় এক শতাংশ কম। আর ঘুষ দিতে হয়েছে ৪৯ দশমিক আট শতাংশ। ঘুষ নেওয়ায় ক্ষেত্রে বিআরটিএর পরে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ও পাসপোর্ট খাত। আগের জরিপে যেখানে গড় ঘুষের পরিমাণ ছিল চার হাজার ৫৩৮ টাকা, নতুন জরিপে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচ হাজার ৯৩০ টাকা। আগের চেয়ে দুর্নীতি বেড়েছে গ্যাস, কৃষি, বিচারিক সেবা ও বিদ্যুতে, আর কমেছে শিক্ষা, পাসপোর্ট, স্থানীয় সরকার ও ভূমিতে। অন্যদিকে কৃষি, বিআরটিএ, বিচারিক সেবা ও বিমা খাতে ঘুষের পরিমাণ উল্লেখ যোগ্য হারে বেড়েছে। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সবচেয়ে উদ্বেগের জায়গাটি হচ্ছে যাদের দুর্নীতির মতো আইনের অপব্যবহার বা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করার কথা, আইনের অপব্যবহার প্রতিরোধ করা, তাদের সেই খাতগুলোতে কিন্তু দুর্নীতির ব্যাপকতা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং শীর্ষস্থানে, মানে প্রথম সারিতে তাদের অবস্থান। তিনি আরও বলেন, আমাদের জন্য আরও উৎকণ্ঠার বিষয় হচ্ছে যে, ৮৯ শতাংশ মানুষ বলেছে যে তারা ঘুষ দিতে বাধ্য। কারণ ঘুষ না দিলে তারা সেবা পাবে না। অর্থাৎ যারা অনিয়ম করে, যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে এটাকে এক ধরনের সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে, এটা প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, এর ফলে যারা ঘুষ দিতে বাধ্য হয় তারা এটাকে জীবনযাত্রার অংশ হিসেবে মেনে নেওয়ার মতো অবস্থায় চলে যেতে বাধ্য হচ্ছে।

You May Share This
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *