ব্যারাকপুর সদরবাজার নয়াবস্তিতে খুশির ঈদে সবার জন্য নতুন জামাকাপড়

ব্যারাকপুর সদরবাজার নয়াবস্তিতে খুশির ঈদে সবার জন্য নতুন জামাকাপড়

 

শর্বাণী দে, বেঙ্গল টুডেঃ

যাত্রা শুরু সেই স্বাধীনতার সাল থেকে অর্থাৎ ১৯৪৭ সাল। যে অঙ্কুর সেই বছরে ব্যারাকপুর সদরবাজারের নয়াবস্তি এলাকায় ফুটেছিল আজ সে বিকশিত। মূলত এই নয়াবস্তি এলাকায় প্রায় ২৫০০ জন মানুষ ইসলাম ধর্মালম্বি। বাকি হিন্দু ও অন্য ধর্মের মানুষের বসবাস। কিন্তু এই স্থানে আসলে দেখা যাবে এই মানুষগুলোর মধ্যে এক অতন্ত মানবিক মিল। একে অন্যের দুঃখে সামিল হওয়াটা যেন এখানকার রীতি। কি দুর্গা কিংবা কালী পূজা বা ঈদ বা মহরম, এখানে সবাই এক সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যে কোন আয়োজনে সামিল। আর এবার বাদ গেল না খুশির ঈদও।

১০ই জুন ব্যারাকপুর সদর বাজার নয়া বস্তি এলাকায় খুশির ঈদ উপলক্ষে স্থানীয় এলাকার সকল ইসলাম ধর্মী মানুষদের হাতে নতুন জামাকাপড় তুলে দেয় নয়াবস্তি এলাকারই ‘মহাবীর সমিতি’ ক্লাবের সদস্যরা। মূলত এই অঞ্চলে বছরের বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রকম অনুষ্ঠানের এবং সামাজিক কাজকর্মে উদ্যোগ গ্রহন করে এই ‘মহাবীর সমিতি’ -র সদস্যরা। মহাবীর সমিতির ক্লাব ফহরে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন এলাকার কিছু মসজিদের ইমাম থেকে শুরু করে বিভিন্ন মাজারের সেবায়েত। যাদের মধ্যে ব্যারাকপুর জলকল রোডের দাদাজি মসজিদের ইমাম ‘আয়ত্তে সামুল হক’ ওরফে ‘ছোটাবাবু’, ব্যারাকপুর ও. পি. রোড মাজারের পীর শিস্য ‘শেখ আমীর আসরাফি’ ওরফে ‘আমীর বাবা’, এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ব্যারাকপুর কাজিপাড়া মাজারের পীরজাদা ‘ইমামুল হুসেন সাহা চিস্তি আলকাদরি’ এবং ব্যারাকপুর ক্যান্টরমেন্ট হাসপাতালের পার্শ্ববর্তি সৈয়দ বাবা মাজারের সেবায়িত ‘মহঃ সনু’।

[espro-slider id=8786]

এনাদের মধ্যে স্থানীয় আউট পোষ্ট রোডে অবস্থিত আমির বাবার মাজারের পীর শিষ্য শেখ আমির আস্রাফি বলেন, “এলাকার মানুষের সব সময় পাশে থাকেন এই ক্লাবের সদস্যরা। তিনি আরও বলেন, “এই খুশির ঈদে মহাবীর সমতির উদ্যোগে এলাকার মানুষের হাতে নতুন জামাকাপড় তুলে দেওয়ার জন্য আমি আল্লাহর কাছে দুয়া করি যাতে এই ক্লাবের সদস্যদের আল্লাহ আরও দিক এবং এরা যেন আগামী দিনে একই রকম ভাবে গরীব মানুষের পাশে থেকে তাদের সেবা করতে পারে।”

এরই পাশাপাশি হিন্দু -মুসলিম নিয়ে তিনি বলেন, “এই এলাকায় আমরা সবাই মিলেমিশে থাকি, আমরা ভাই ভাই, আমাদের দেহের ভিতর একই রক্ত বইছে, আর এই রক্তের রঙ লাল।” তিনি বেশ আবেগপ্রবণ গলায় বলেন, “এই এলাকায় কোন গরীব মারা গেলে সেক্ষেত্রে সে হিন্দু না মুসলিম তা ভেদাভেদ করে না মহাবীর সমিতির সদস্যরা। যখন একজন মুসলিম ব্যাক্তি মারা যান, আর তার যদি কবরে মাটি দেওয়ার টাকা না থাকে সেক্ষেত্রে একজন হিন্দু ব্যক্তিই পাশে এসে দাঁড়ায়। আর ঠিক এই কারনেই এই এলাকায় হিন্দু মুসলিম সকলেই এক।”

এ বিষয়ে স্থানীয় ও পি রোডের বাসিন্দা শিখা দাস বলেন, “মহাবীর সমিতির সারা বছরে নানারকম সমাজ সেবা মুলক কর্মকাণ্ডের জন্য তারা এলাকাবাসিদের কাছ থেকে কোন প্রকার সাহায্য গ্রহন করে না বরং তারা তাদের নিজস্ব ফান্ড থেকে নানারকম কাজ করে থাকেন। আর তাদের এই বিভিন্ন কর্মের মুল উদ্যোগতা এই ক্লাবেরই সদস্য শিবু যাদব।”

শিখা দেবী আরও বলেন, “স্বামী বিবেকানন্দ বলেছিলেন, ‘ জীবে প্রেম করে যেই জন সেই জন সেবিছে ঈশ্বর ‘ অর্থাৎ জীব সেবা করার মাধ্যেমে ঈশ্বরকে সেবা করা। আর তার এই ব্রতেই ব্রতি হয়েছেন মহাবীর সমিতির সদস্যরা। তারা সব সময় মানুষের সাহায্যে এবং মানুষের পাশে থাকার জন্য ঝাপিয়ে পরেন।”

এক্ষেত্রে অপর এক বাসিন্দা সঞ্জিব সিং বলেন, ” মহাবীর সমিতি বছরের বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সমাজ সেবামুলক কাজের পাশাপাশি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট, ফুটবল টুর্নামেন্ট সহ নানা রকম প্রতিযোগিতার মাধ্যমে এলাকার মানুষকে উৎসাহিত করেন।”

এলাকাবাসি শিখা দেবীর কথা থেকে যে নামটি উঠে এলো তা হলো “শিবু যাদব”।

এলাকায় ঘটে যাওয়া নানা সময় নানান ব্যাপারে এই মানুষটির নাম প্রায় সময়ই উঠে এসেছে সংবাদ শিরনামে। আমরা চেষ্টা করি তাকে ফোনে ধরার। শিবু যাদব ফোনে অবশ্য প্রথমে কিছুতেই কোন কথা না বলতে চাইলেও আমাদের শুধু ক্ষোভের স্বরেই বলেন, “দাদা আপনারা চিরকালই তো আমাকে ভিলেন বানিয়ে গেলেন নিজেদের বাজার ঠিক রাখার জন্য। কে আমাকে ভাল বলছে তাতে কি যায় আসে কিন্তু জানবেন আমি কোন দিনই কোন কাজ আপনাদের ডেকে নাম ছড়াবার জন্য করিনি, আগামি দিনেও করবো না।”

তিনি আরও বলেন, “এই যে অনুষ্ঠান নিয়ে আপনি কথা বলছেন, বলুন তো আমি কি আপনাকে বা আপনাদের একবারও বলেছি বা আপনারা কি আমাকে একবারও দেখেছেন মঞ্চে? দেখেন নি তো? আমি তাই। এবার আমি ভাল না মন্দ এটা আপনাদের বিচার করার বিষয়।”

শিবু যাদবের কথায় একটা সত্য ধরা পরে, সত্যি তো কোন সংবাদ মাধ্যম তো আজ অবধি শিবুর ভাল কাজ গুলো সকলের সামনে কোনদিনও তুলে ধরেনি। একটি মানুষ কি শুধুই খারাপ কাজই করে? তার মধ্যে কি কোন ভাল গুণ থাকে না? নাকি এই সবই রাজনৈতিক পরিহাস? তাই এবার শুধু একটু নিরপেক্ষতার সাথে সাধারন মানুষের সামনে সংবাদ তুলে ধরার চেষ্টা মাত্র আর কিছুই নয়। যাতে শিবুর মত কেউ সংবাদ মাধ্যমকে আর একপেশে না বলতে পারে।

You May Share This
  • 6
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    6
    Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *