৩ কোটি কৃষককে ডিজিটাল ডাটাবেজের আওতায় আনা হবে : বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বেঙ্গলটুডে প্রতিনিধি, ঢাকা:

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সারাদেশের কৃষকের ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে ৩ কোটি কৃষককে এই ডাটাবেজের আওতায় আনা হবে। বাংলাদেশ কৃষক লীগের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ১৮ই এপ্রিল এক বাণীতে তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক কৃষকের দোরগোড়ায় কৃষিসেবা সহজে পৌঁছে দিতে কৃষি বাতায়ন তৈরি করা হচ্ছে। এতে সারাদেশের কৃষকের ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ৬৫ লাখ কৃষকের ডাটা এখানে সন্নিবেশিত হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশের কৃষির উন্নয়ন এবং কৃষকের স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যে ১৯৭২ সালের ১৯শে এপ্রিল বাংলাদেশ কৃষক লীগ প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ সংগঠন কৃষকদের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। কৃষকদের সংগঠিত করে তাদের দাবি আদায় সহ সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে কৃষক লীগ গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা পালন করে আসছে।’

এমনকি কৃষক লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সংগঠনটির নেতাকর্মী ও কৃষক সমাজ সহ সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতির পিতা স্বাধীনতার পর পরই কৃষি খাতের উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর সরকার কৃষকদের কল্যাণে পঁচিশ বিঘা পর্যন্ত জমির মালিকদের খাজনা মওকুফ করে দিয়েছিলেন। তিনি উন্নত পদ্ধতিতে চাষাবাদ, উন্নত বীজ, সেচ ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ সরবরাহ করে কৃষি ক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা ও উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে খাদ্যে স্বয়ম্ভরতা অর্জনের পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।’ ‘বঙ্গবন্ধু ১৯৭৩ সালে কৃষিক্ষেত্রে অবদানের জন্য ‘বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার’ প্রবর্তন করেন।’

আজকের এই দিনে তিনি ১৯৯৫ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকারের সারসহ কৃষি উপকরণ বিতরণে অব্যবস্থাপনা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে নিহত ১৮ জন কৃষক ও কৃষক পরিবারের সদস্যদের স্মরণ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার কৃষি ও কৃষিবান্ধব সরকার। আমরা ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছিলাম। পরবর্তীকালে বিএনপি-জামাত জোট সরকার বাংলাদেশকে আবারও খাদ্য ঘাটতির দেশে পরিণত করে।’

এছাড়া তিনি আরও বলেন,’আমরা ২০০৯ সাল থেকে কৃষির সার্বিক উন্নয়নে কৃষিবান্ধব নীতি ও সময়োপযোগী বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। সার, বীজ সহ সকল কৃষি উপকরণের মূল্যহ্রাস, কৃষকদের সহজশর্তে ও স্বল্পসুদে ঋণ সুবিধা প্রদান, ১০ টাকায় ব্যাংক একাউন্ট খোলার সুযোগ সহ তাদের নগদ সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। আমরা কৃষকদের মধ্যে কৃষি উপকরণ কার্ড বিতরণ করেছি। কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি বন্যা, খরা ও লবণাক্ততা সহিষ্ণু ফসলের জাত উদ্ভাবন সহ জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ভাসমান চাষ, বৈচিত্রময় ফসল উৎপাদন, ট্রান্সজেনিক জাত উদ্ভাবন, পাটের জেনোম সিকুয়েন্স উন্মোচন ও মেধাসত্ব অর্জন করা হয়েছে। আমরা কৃষির যান্ত্রিকীকরণ ও বহুমুখীকরণ, বাজার ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করেছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সরকারের এসব কার্যক্রমের ফলে দেশের কৃষিখাতের ব্যাপক অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। বছরে খাদ্যশস্য উৎপাদন প্রায় ৪ কোটি মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে। দেশের কৃষিখাতে সফলতা অর্জনের ক্ষেত্রে কৃষক লীগের তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রয়েছে।’ কৃষক লীগের নেতা-কর্মীরা কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে আরো বেশি আত্মনিয়োগ করে বাংলাদেশকে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখবেন বলে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন।

সম্পর্কিত সংবাদ