সোভিয়েত অনুকরণে ছক কষছে চিন, লাদাখ রক্ষার্থে পাল্টা মাস্টারপ্ল্যান তৈরি ভারতেরও

সোভিয়েত অনুকরণে ছক কষছে চিন, লাদাখ রক্ষার্থে পাল্টা মাস্টারপ্ল্যান তৈরি ভারতেরও

 

চিনের সোভিয়েত নীতি

চিনের সোভিয়েত নীতি

তবে চিনের এই ‘রাশিয়ান নীতি’-র বিরুদ্ধে কী করে রুখে দাঁড়াবে ভারত? জবাব লুকিয়ে দেশের বিমান বাহিনীর আস্তিনে। ভারতের অনুমাণ, যদি একান্তই চিন যুদ্ধের পথে হাঁটে, সেই ক্ষেত্রে তারা আকসাই চিন থেকে তাদের সেনা সীমান্তে পাঠাবে আর্টিলারি এবং মিসাইল আক্রমণের ছায়ায়। কপি-বুক স্টাইলের এই আক্রমণকে প্রতিহত করতে অবশ্য ভারতের সেরা বাজি হতে চলেছে বায়ুসেনা।

চিনের পরিকল্পনা কী?

চিনের পরিকল্পনা কী?

সংঘাতের সময়ে যুদ্ধের ফ্রন্ট থেকে কাছে অথচ নিজেদের সীমানার বেশ গভীরে সেনা তৈরি রাখার এই ফন্দি রাশিয়া বহুকাল ধরে যুদ্ধের ক্ষেত্রে ব্যবহার করে এসেছে। এবং চিনও এখন সেই পরিকল্পনাকে অনুকরণ করে ভারতের উপর চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে। কারণ, খাতায় কলমে সীমান্তে তাদের সেনা নেই, তবে যুদ্ধের ক্ষেত্রে সীমান্তে পৌঁছাতে তাদের খুব একটা সময়ও লাগবে না।

ভারতীয় বায়ুসেনা প্রস্তুত

ভারতীয় বায়ুসেনা প্রস্তুত

তবে চিনের এই সম্ভাব্য হামলাকে প্রতিহত করতে ভারতীয় বায়ুসেনা প্রস্তুত। ২০১৮ সালে ‘গগন শক্তি’ অনুশীলনের সময়ই ভারতীয় বায়ুসেনা এরকম হামলা প্রতিহত করার যুদ্ধ কৌশল রপ্ত করেছিল। বর্তমান নিরিখে, চিন যদি আকসাই চিন থেকে তাদের সেনা যুদ্ধের জন্য ফরোয়ার্ড বেসে পাঠাতে চায়, তখন ভারতীয় বায়ুসেনা নিজেদের আকাশসীমায় থেকেই তাদের আটকে দিতে সক্ষম হবে।

অ্যাডভান্টেজে ভারত

অ্যাডভান্টেজে ভারত

লাদাখ সীমান্তের খুব কাছে যেই চিনা বায়ুসেনা ঘাঁটিগুলো রয়েছে, সেগুলি হল কাশগড়, লাসা এবং হোতান। ভারতীয় বায়ুসেনাকে হারাতে যদি চিন সেখান থেকে তাদের অপারেশন পরিচালনা করে তবে তাদের জন্য তা হবে সময় সাপেক্ষ। কারণ এধরণের হামলা বা যুদ্ধের ক্ষেত্রে এক এক মিনিটের মূল্য অনেক। এবং ভারতের বায়ুসেনার ফরোয়ার্ড বেস চিনের থেকে কৌশলগত ভাবে অ্যাডভান্টেজে থাকবে।

চিনা সেনার লুকোনোর জায়গা নেই

চিনা সেনার লুকোনোর জায়গা নেই

এদিকে পিএলএ-র গ্রাউন্ড টু এয়ার মিসাইলকে ভোঁতা করতে ভারতীয় বায়ুসেনার এয়ার টু গ্রাউন্ড মিসাইল বেশি কার্যকর হবে বলে বিশেষজ্ঞদের মত। সেক্ষেত্রে চিনের আর্টিলারির অলিন্দে ফরোয়ার্ড বেসে সেনা পাঠানোর পরিকল্পনাও ভেস্তে যাবে। এবং তিব্বতের মরুভূমি এলাকায় চিনা সেনার লুকোনোর বা ভারতের চোখের আড়ালে কোনও গতিবিধি বজায় রাখা সম্ভব নয়।

ভারতের কার্গিল প্ল্যান

ভারতের কার্গিল প্ল্যান

১৯৯৯ সালে কার্গিল যুদ্ধের সময় পাকিস্তানের ক্ষেত্রেও এই সমস্যা হয়েছিল। যার ফলে ভারতীয় বায়ুসেনা সেই যুদ্ধে দেশের জয় সুনিশ্চিত করতে একটি বড় ভূমিকা পালন করেছিল। এবং পরবর্তীতে শীত এলেও চিনের পক্ষে প্যাংগংয়ে ভারতীয় সেনার উপর হামলা চালানো বেশ কঠিন হয়ে উঠবে।

প্যাংগং এলাকায় চিন বিকল্পহীন

প্যাংগং এলাকায় চিন বিকল্পহীন

প্যাংগং এলাকার ফিঙ্গার ২ এবং ৩-এ ভারত যেই সকল গুরুত্বপূর্ণ চূড়ার দখল নিয়েছে সেখানে চিনের কাছে লুকিয়ে হামলা চালানোর কোনও বিকল্প নেই। উরি সার্জিকাল স্ট্রাইক এবং বালাকোট স্ট্রাইকের পর ভারত অত্যাধুনিক সব অ্যামিউনিশনও কিনেছে, যার ফলে লাদাখের মতো এলাকাতে অ্যাডভান্টেজে থাকবে তারা।

চিনের বিরুদ্ধে অনেক বেশি কার্যকর হবে রাফাল

চিনের বিরুদ্ধে অনেক বেশি কার্যকর হবে রাফাল

এবং যুদ্ধ যদি একান্ত হয়, সেই ক্ষেত্রে ১০ দিনের বেশি তা চলবে না। আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ তাতে আসবেই। এবং ততদিনে ভারত নিজেদের ভূখণ্ড রক্ষা করতে সক্ষম বলে মত বিশেষজ্ঞদের। ভারতের কাছে ৪০ দিনের যুদ্ধের জন্য অ্যামিউনিশন রয়েছে। তাছাড়া ৬০ দিল লম্বা যুদ্ধের জন্য বোমাও মজুত রয়েছে। এবং বর্তমান নিরিখে ৫টি রাফালই চিনের বিরুদ্ধে অনেক বেশি কার্যকর হয়ে উঠবে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

চিনা অনুপ্রবেশের চেষ্টা বিফল হবে

চিনা অনুপ্রবেশের চেষ্টা বিফল হবে

মে মাস থেকে শুরু হওয়া ভারত-চিন সংঘাতে ভারতীয় সেনার টহলদারি আটকাতে সক্ষম হয়েছে চিনের পিএলএ। তবে এরই মধ্যে ভারতীয় সেনা কাউন্টারের ফলে গুরুত্বপূর্ণ চূড়া এবং রিজলাইন এসেছে দেশের অধীনে। এর ফলে চিনের পক্ষে ভারতীয় ভূখণ্ডে হামলা চালানো বা অনুপ্রবেশের চেষ্টা বিফল হবে। সেপ্টেম্বরের শুরুতে চিনের সেই চেষ্টা ভারতীয় সেনা বিফল করে তা প্রমাণও করে দিয়েছে। রেজাং লা এবং রেকিন লা-তে ভারতীয় সেনা ভালো জায়গায় অবস্থান করছে।

You May Share This
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *