আমার জীবনকথা ভাগ-১১

আমার জীবনকথা ভাগ-১১

হাওড়াবাসীর নানা রঙের দিনগুলি ভাগ-৬

রোটারিয়ান স্বপন কুমার মুখোপাধ্যায়

 

পিতৃদেবের অকাল প্রয়াণে আমাকে সংসার পালনের দায়িত্ব নিতে হয়। পিতার পরলৌকিক কাজ শেষ হবার পর আমার রাঙাদাদু অর্থাৎ আমার মাতৃদেবীর ছোট মামা শ্রী কে. ডি. গাগুলি, আইএএস তৎকালীন বিধান রায়ের মন্ত্রীসভার Land and Revenue Department-এর Secretary আমাদের হাওড়ার বাড়িতে এসে আমাকে সঙ্গে নিয়ে হাওড়া জেলার Land & Settlement Officer কে. সি. বর্মণের কাছে নিয়ে যান এবং ওখানে আমার চাকরির ব্যবস্থা করে দেন। ওখানে আমি এক মাস চাকরি করি। ইতিমধ্যে কলকাতার মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের অধীন নিউ মার্কেটে সার্জেন্ট পদে আমি চাকরিতে যোগদান করার পূর্বে তৎকালীন লালবাজার পুলিশ হেড কয়াটারসের ডি.সি.-টু রঞ্জিত গুপ্তর সামনে শপথ নিয়ে কাজে যোগ দিই। ওই পদে আমরা চারজন মার্কেট সার্জেন্ট ছিলাম। আমি ছাড়া বাকি তিনজন ছিলেন আমার পিতৃতুল্য। ওদের নাম ছিল শেক সাহেব, এল মোমেন্ট, গিরিজা মুখারজি ও আমি। ওঁরা তিনজনই ছিলেন বিবাহিত একাধিক সন্তানের বাবা। আমাদের ডিউটি ছিল সকাল ৬টা থেকে বেলা ২টো, ২টো থেকে রাত ১০টা। রাত ১০ টা থেকে সকাল ৬টা আর অফিস টাইম বেলা ১০টা থেকে বিকেল ৫টা। সেইসময় বিশ্বের সর্ববৃহৎ মার্কেট ছিল অস্ট্রেলিয়ার সিডনি মার্কেট আর দ্বিতীয় স্থানে ছিল কলকাতার নিউ মার্কেট (অপর নাম এস এস হগ মার্কেট)। ১৯৫৭ সালের এপ্রিল মাস থেকে ১৯৫৯ সালের ডিসেম্বর অর্থাৎ মোট দু’বছর নয় মাস চাকরি করি। চাকুরীর প্রথম দিকে মেয়র ছিলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার সতীশ চন্দ্র ঘোষ ও পরবর্তীকালে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য ডা. ত্রিগুনা সেন। এঁদের দুজনেরই আমি খুব স্নেহের পাত্র ছিলাম। আমার মার্কেটের বস ছিলেন ব্যারিস্টার কাশেম সাহেব আর কলকাতা কর্পোরেশনের অধীনস্থ সমস্ত মার্কেটের চার্জে ছিলেন চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠনের অন্যতম বীর লোকনাথ বল। কাশেম সাহেব ছিলেন দুর্নীতিগ্রস্ত মার্কেট অধিকর্তা আর লোকনাথ বল ছিলেন অত্যন্ত সৎ ও আদর্শবান পুরুষ। মার্কেটের সার্জেন্টরা, রেভিনিউ ইন্সপেক্টররা ও কিছু স্টাফেরা ছিল অসৎ ও ঘুষখোর। মার্কেটের মধ্যে নানা বে-আইনি ও অসামাজিক কাজ হত। পরিবারের আর্থিক প্রয়োজন যথাসম্ভব মাটানোর তাগিদে আমি দুটো চাকরি করতাম।

ক্রমশ…..

You May Share This

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.