Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!
ওয়েব ডেস্ক, বেঙ্গল টুডেঃ হোয়াটসঅ্য়াপ ভারতে তাদের প্রধান হিসাবে বেছে নিল এক বাঙালিকে। অভিজিৎ বসু নামে এই বাঙালি তথ্য-প্রযুক্তিবিদ তথা আঁন্তেপ্রঁনে-কে তাঁরা যে প্রধান হিসাবে নিয়োগ করেছে সে কথা জানিয়েও দিয়েছে ফেসবুকের অধীনে থাকা এই সংস্থা।
অভিজিৎ বোস-ই প্রথম যাকে হোয়াটসঅ্য়াপ কান্ট্রি হেড হিসাবে নিয়োগ করল। এখনও পর্যন্ত কোনও দেশেই হোয়াটসঅ্য়াপ-এর কোনও কান্ট্রি হেড নেই। কর্মক্ষেত্রে ববি নামেই পরিচিত অভিজিৎ। তাঁর এই ডাক-নামটাই বেশি পছন্দ করেন তাঁর সহকর্মীরা।
ইজিট্যাপ-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও অভিজিৎ ২০১১ সালে ইজিট্যাপ-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা তথা সিইও ছিলেন অভিজিৎ। ইজিট্যাপ অনলাইন পেমেন্ট গেট। যার ক্লায়েন্টের তালিকায় রয়েছে তাবড়-তাবড় সংস্থা। ২০১২ সালে ইজিট্য়াপ ৩.৫ মিলিয়ন ডলারের ব্যবসা করে। ২০১৩ সালে এই ব্যবসার পরিমাণও আরও বাড়ে। এই মুহূর্তে ইজিট্যাপ-এর বৃদ্ধির গ্রাফ যা তাতে ২০২৩ সালের মধ্যে এটি ১ট্রিলিয়ন ডলারের সংস্থায় পরিণত হবে।
মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার অভিজিৎ কর্ণেল বিশ্ববিদ্য়ালয় থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ ১৯৯৪ সালে স্নাতক হন অভিজিৎ। রয়েছে হার্ভাড-এর ডিগ্রি হার্ভার্ড বিজনেস স্কুল থেকেও ২০০০ সালে এমবিএ-এর ডিগ্রি লাভ করেন অভিজিৎ।
ইজিট্যাপ-এর আগে কর্মজীবন ১৯৯৪ সালে সুইৎজারল্যান্ডের কনডোর এসএ সংস্থায় চাকরি জীবন শুরু করেছিলেন অভিজিৎ। ১৯৯৫ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত কাজ করেন এলমা ইলেক্ট্রনিক ইনকর্পোরেশন নামে একটি সংস্থায়। ১৯৯৯ সালে বেইন অ্যান্ড কোম্পানি-তে এক বছরের জন্য কাজ করেন তিনি। ২০০৫ সাল থেকে ২০০৬ পর্যন্ত কাজ করেন ওরাকল কর্পোরেশনের ব্যাঙ্গালোর অফিসে। ২০০৭ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত জয়গ্রাহক মোবিলিটি সলিউশনস প্রাইভেট লিমিটেড তথা এনজিপে-তেও কাজ করেছেন অভিজিৎ। ২০০৯ সাল থেকে ২০১১ পর্যন্ত ইনট্রুইট-প্রোডাক্ট হিসাবে যোগ দেন। ২০১১ সালে এই সংস্থা ছেড়ে অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হিসাবে গড়ে তোলেন ইজিট্য়াপ।
ফেক নিউজ-এ মুখ পুড়েই কি নিয়োগ সম্প্রতি ফেক নিউজ নিয়ে প্রবল বিতর্কে জড়ায় হোয়াটসঅ্যাপ। ভারতবর্ষে একাধিক স্থানে হোয়াটসঅ্যাপ-এ প্রচারিত ফেক নিউজ-কে ভিত্তি করে গণপিটুনির ঘটনা ঘটে। এতে বেসরকারি মতে ৫২ জনের মৃত্যু হয়। গুরুতর জখম হয়েছেন অন্তত ৭৫ জন। হোয়াটসঅ্য়াপ-এ প্রচারিত ছেলেধরা নিয়ে গুজব-কে ঘিরেই এই সব ঘটনা যে ঘটে তা তদন্তেও উঠে আসে। ফেক নিউজ নিয়ে যে হোয়াটসঅ্যাপ-এর কোনও পরিকাঠামো নেই। তখনই তা সামনে আসে। সেইসঙ্গে সামনে আসে যে ভারতে হোয়াটসঅ্য়াপ সবচেয়ে জনপ্রিয় মেসেজিং সোশ্যাল মিডিয়া সেখানে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করার জন্য কোনও মাথা নেই। এরপরই সরকার হোয়াটসঅ্য়াপ-কে ভারতে ব্যবসা পরিচালনার জন্য একজন প্রধান রাখার জন্য চাপ দিচ্ছিল।
অভিজিৎ-এর নিয়োগে খুশি হোয়াটসঅ্যাপ এক বিবৃতিতে হোয়াটসঅ্যাপ-এর সিইও ম্য়াট ইডেমা জানিয়েছেন, ‘অভিজিৎ একজন সফল আঁন্তপ্রঁণে। অভিজিৎ জানে কীভাবে একটা তাৎপর্যপূর্ণ পার্টনারশিপ গড়ে তুলতে হয়। আশা করা যায় এর ফলে ভারতে সংস্থা আরও ভালো ব্যবসা করবে।’
২০১৯-এ যোগ দেবেন ২০১৯-এ হোয়াটসঅ্যাপ-এ যোগ দেবেন অভিজিৎ। তিনি ইডেমা-কে রিপোর্ট করবেন। ২ মাস আগেই ফেসবুক তাদের স্টিমিং সার্ভিসের প্রধান হিসাবে অজিত মোহনের নাম ঘোষণা করেছিল। অজিত এর আগে হটস্টার-এ প্রধান হিসাবে কাজ করছিলেন। সেই নিয়োগের পর ফেসবুকে অধীনস্থ হোয়াটসঅ্যাপ- ও অভিজিৎ-কে তাদের কান্ট্রি হেড পদে নিয়োগ করল।
লোকসভা নির্বাচনের কথা মাথায় রেখেই নিয়োগ সামনেই লোকসভা নির্বাচন। এই মুহূর্তে দেশে পাঁচ রাজ্যে নির্বাচন চলছে। সুতরাং, সোশ্যাল মিডিয়ার ভূমিকা বিশালভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই কারণেই ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্য়াপ তাঁদের দুটো গুরুত্বপূর্ণ পদে দুই প্রধানকে নিয়োগ করল।