বাঙালির ইচ্ছা শক্তি ও স্বপ্ন পূরণের যাত্রা

Spread the love
  • 3
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    3
    Shares

রাজীব মুখার্জী, পলতা, উত্তর ২৪ পরগনাঃ ইংরেজি তে একটি প্রবাদ বাক্য আছে “If there is a will, there is a way”। প্রবল ইচ্ছা শক্তি আর মনের জোর থাকলে কী না সম্ভব। ইচ্ছাশক্তিতে ভর করেই তো ১০২ বছর বয়সে বিশ্বমঞ্চে সোনা জিতে ইতিহাস গড়তে পেরেছেন মন কউর। বয়স তো একটা সংখ্যা মাত্র, যে সংখ্যা আমাদের বাইরের বয়স কে মাপে কিন্তু আমাদের ভেতরে জেগে ওঠে যৌবনের আগুন। যে আগুন সবকিছুকে সম্ভব করে তোলে। তাই বোধয় লোকে বলে “IMPOSSIBLE means I AM POSSIBLE”।

ইতিহাসে খুঁজলে এরম অনেক উদাহরণ পাওয়া যাবে, কিন্তু আমাদের চোখের সামনে যে ইচ্ছা শক্তির কাহিনী পেলাম সেটা কে কুর্নিশ না করে থাকা যায় না। শরীরের বয়স যে শুধুই সংখ্যা তা আবার প্রমাণ করলেন এক বাঙালি প্রৌঢ়া। ৫০ বছর বয়সে সাইকেলে গোটা ইউরোপ ঘুরে নজির গড়লেন পলতার বাসিন্দা লিপিকা বিশ্বাস। অবিশ্বাস্য লাগছে শুনতে! তাইনা? কিন্তু এটাই সত্যি। আজকে এই বাঙালি প্রৌঢ়ার ইচ্ছা শক্তির প্রতিবেদন পরবো আমরা। ২ চাকায় দুনিয়াটা কে চষে ফেলার স্বপ্ন যারা দেখেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম কলকাতার লিপিকা বিশ্বাস। সাইলেকে বিশ্ব ভ্রমণের ঘটনা নতুন নয়। কিন্তু তাই বলে ৫০ বছর বয়সে!?! সত্যিই অবিশ্বাস্য। কিন্তু এমন অসম্ভবকেই বাস্তবে পরিণত করেছেন লিপিকা বিশ্বাস।

বুঝিয়ে দিয়েছেন, ইচ্ছাশক্তিই জীবনের সাফল্যের আসল চাবিকাঠি. ৫০ দিনে ২৫২৫ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে শনিবারই বাড়ি ফিরেছেন তিনি। শরীর সম্পূর্ণ সুস্থ। এ তৃপ্তি তো বিশ্বজয়ের আনন্দ থেকে কম কিছু নয়। ইউরোপের ৬ খানা দেশ চষে বেড়ালেন গত ২ মাস ধরে। সাইকেলে জার্মানি, নেদারল্যান্ড, আইস্ল্যান্ড, নরওয়ে, সুইডেন এবং ডেনমার্ক ভ্রমণ সেরে শনিবার বিকেলে ফিরলেন শহরে।অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় লিপিকা বিশ্বাস কলকাতা থেকে গত ২২শে জুলাই রওনা দিয়েছিলেন। প্রথম গন্তব্য ছিল জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট। ৪ টে স্ক্যান্ডেনেভিয় দেশ, সঙ্গে জার্মানি আর নেদারল্যান্ড, অ্যাডভেঞ্চারের জন্য বেছে নিয়েছিলেন ইয়োরোপের ৬টি দেশ। দীর্ঘ ২.৫ হাজার কিলোমিটার পথ জুড়ে কিছু স্বপন দেখেছেন বুক ভরে, কিছু থেকেছে অধরা। আইস্ল্যান্ডে মাত্র ৯ দিন সময় পাওয়ায় বাকি থেকে গেছে অনেকটাই। ১২ই সেপ্টেম্বর আইসল্যান্ডের রেকজাভিকে তাঁর যাত্রা শেষ হয়।

প্রচারবিমুখ লিপিকার এত বড় অভিযান এতদিন আড়ালেই ছিল সবার। অভিযান চলাকালীন নেদারল্যান্ডের ভারতীয় দূতাবাস থেকে টুইট করে জানানো হয় বছর পঞ্চাশের লিপিকাই প্রথম সোলো সাইক্লিস্ট হিসেবে ইউরোপ ভ্রমণ করেছেন।পূর্ব রেলে ক্তমরত লিপিকার এটিই কিন্তু প্রথম অভিযান নয়। ২০১১ সালে কলকাতা থেকে কন্যাকুমারী পর্যন্ত ৩০০০ কিলোমিটার পথ পেরিয়েছিলেন। সেবারেও সফর সঙ্গী ছিল সাইকেল। সে বছর ইয়থ হোস্টেল আয়োজিত মহিলাদের খারদুংলা অভিযানে ১৮ হাজার ৩৮০ ফুট ওঠেন তিনি। আর হ্যাঁ, ২০১৪, ২০১৫ পর পর ২ বছর বাংলার এভারেস্ট অভিযানের অংশ নিয়েছিলেন তিনি। প্রথম বার অ্যাভালেঞ্চ, পরের বার নেপালের ভুমিকম্পের কারণে দু বারই অভিযান মাঝপথে বাতিল হয়ে যায়। অভিযান চলাকালীনই নেদারল্যান্ডসের ভারতীয় দূতাবাসের তরফ থেকে জানানো হয়, প্রথম ভারতীয় মহিলা হিসেবে একা সাইক্লিং করে ইউরোপ ঘুরে ১২ই সেপ্টেম্বর আইসল্যান্ডের রেকজাভিকে শেষ হয় স্বপ্নের সফর।

লিপিকা দেবী বলেছেন, তাঁর মনে হয়েছিল সাইকেলে গোটা আইসল্যান্ড ঘুরতে অন্তত এক মাস লাগবে। কিন্তু আইসল্যান্ডে পৌঁছনোর পর তাঁর হাতে ছিল মাত্র ৯ দিন। তাতেই যেটুকু সম্ভব ঘোরেন তিনি। সেখান থেকে বিমানে চেপে পৌঁছে যান ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে। অবশেষে দীর্ঘ সফর শেষ করে গত শনিবার বিমানে কলকাতায় পা রাখেন। কটা দিন নিশ্চয়ই থাকবেন নিজের শহরে। চাকাদেরও খানিক জিরিয়ে নেওয়া দরকার। তারপর না হয় আবার ২ চাকায় ছুটবে জীবন। অনেকেই যা করার কথা ভাবেনই না, তা তিনি করে দেখিয়েছেন এই বয়সে। আর তাই তো চোখে-মুখে ক্লান্তির কোনও ছাপ নেই তাঁর। রয়েছে শুধু সাফল্যের সন্তুষ্টি। তবে এই প্রথমবার নয়, ঘুরতে যাওয়ার শখ তাঁর বরাবরের। আর সেই শখকে প্রতিবারই আরও রোমাঞ্চকর করে তুলেছেন তিনি সাইক্লিং করে।

সম্পর্কিত সংবাদ

Leave a Comment