পেশির ডিস্ট্রিফামির রোগে আক্রান্ত সঙ্গম বর্তামানে স্বাভাবিক ভাবে হাটতে সক্ষম

Share Bengal Today's News
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

 

অরিন্দম রায় চৌধুরী, ব্যারাকপুরঃ সাধারণত পেশির যথোপযুক্ত পুষ্টির অভাবে যে সকল রোগের উৎপত্তি হয়ে থাকে সেই ব্যাপারে খুব কমই ধারনা বা সচেতনতা থাকে মানুষের। আমাদের দেশের ছোট্ট ছোট্ট শহর বা গ্রামীণ অঞ্চলে এই ব্যাপারে তো আরও ধারনা কম। অনেকাংশেই দেখা যায় রুগীর পরিবার রোগটি সম্পর্কে থাকেন সম্পূর্ণ অজ্ঞ, তারা ভাবেন হয়তো শিশুটির পোলিও হয়েছে। এমনকি অনেক সময় টোটকা কোন ঔষধের সরনাপন্য হন এবং ভাবেন শিশুটি শুস্থ্য হয়ে যাবে। কিন্তু এ যে আর পোলিও নয়, শুধুমাত্র পেশির যথোপযুক্ত পুষ্টির অভাবে এই রোগ হয়েছে তা বুঝতেই পারে না।

এই ক্ষেত্রে নবি মুম্বাইয়ের নিঊরোজেন ব্রেন এবং স্পাইন ইনস্টিটিউট পেশির ডিস্ট্রিফামির রোগে আক্রান্ত মানুষকে এক নতুন দিশা দেখাল যা ভারত বর্ষে প্রথম শ্রেণীর স্টেম সেল চিকিৎসা দ্বারা। এই সংস্থা মূলত অনারোগ্য স্পায়বিক ব্যাধির উপর স্টেম সেল থেরাপি এবং হোলিস্টিক পুনর্বাসন ও স্নায়বিক ব্যাধির মতো অসুখের চিকিৎসা প্রদান করে থাকেন।

৬ই জুলাই ব্যারাকপুরে অবস্থিত ফিয়েস্তা বাঙ্কুয়েট হলে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে উদোগতা এই সংস্থা দাবী করেন, ছয় বছরের ছোট্ট সঙ্গম কর্মকার যে ছেলেটি পেশির ডিস্ট্রফি বিষয়ক রোগে আক্রান্ত তার চিকিৎসা করার পর বর্তমানে সে এখন নিজের পায়ে উঠে দাড়াতে সক্ষম। দাবী মত তারা সাংবাদিকদের সামনে হাজির করেন খোদ ছোট্ট সেই শিশুটিকে।


এই সাংবাদিক সম্মেলনে হাজির ছোট্ট সঙ্গম কর্মকারের মা আমাদের বলেন, “ছোট্ট ৬য় বছরের সঙ্গম যখন এই রোগে আক্রান্ত হয়ে আমরা প্রথমে কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলাম না। কোথায় যাব এবং কার সাথে যোগাযোগ করবো তাই নিয়ে যখন চিন্তা ভাবনা করছি তখনই সংবাদ মাধ্যম দ্বারা জানতে পারি পুরুলিয়ার আকাশ মাহাতো নামে একটি বাচ্চার ঠিক এই ধরনের রোগ হয়েছিল এবং তার চিকিৎসা করানোর পর সে আবার সুস্থ হয়ে ওঠে। সেখান থেকেই জানতে পারি এই সংস্থার কথা ও এনাদের সাথে যোগাযোগ করি ছেলের চিকিৎসার জন্য।”

চিকিৎসা করানোর পর কেমন সারা পেলেন জানতে চাওয়া হলে রুমা দেবী বলেন, “আগে যেমন সঙ্গম সব সময়ই সুয়ে থাকতো, কিন্তু বর্তমানে চিকিৎসা করানোর পোড় এখন ও নিজে থেকেই উঠে দাড়াতে চায়। বলে আমাকে জুতো পরিয়ে দাও, আমি হাঁটবো। বলা যেতেই পারে সঙ্গমের এখন মনের থেকে সাহস যথেষ্টই বেড়ে গিয়েছে। আমি আশা করছি ওর হাতের জোরটাও এবার ফিরে আসবে”

এই চিকিৎসা তো বেশ ব্যয় সাপেক্ষ্য ও তা প্রায় ২ থেকে ২.৫ লাখ টাকার মত খরচা হয়, তা কিভাবে যোগার করলেন জানতে চাওয়া হলে রুমা দেবীর বক্তব্য, “সঙ্গমের প্রথম যে অপারেশনটি হয়েছে তার টাকা অবশ্য আমার পরিবার থেকেই যোগাড় করতে হয়েছে তবে আরও একটি অপারেশন হবে আগামী দিনে যার খরচা ডাঃ নন্দিনী গকুলচন্দ্রন তাদের সংস্থা থেকে করবেন বলে বলেছেন।”

ডাঃ নন্দিনী গকুলচন্দ্রন যিনি এই নিউরোজেন সংস্থার উপ পরিচালক এবং প্রধান চিকিৎসক এই বিষয় বলেন, “পেশির যথোপযুক্ত পুষ্টির অভাবই হলো এই রোগের মূল কারণ আর এই রোগটিকে বলা হয় ‘মাস্কুলার ডিস্ট্রফি’। এই রোগটি ৩৫০০ জন বাচ্চার মধ্যে ১ জনের হয়ে থাকে। যদি আমরা পুরো ভারতবর্ষে দেখি তো এই মুহূর্তে প্রায় ৪লাখের মত বাচ্চা এই রোগে আক্রান্ত এবং বিশ্বে যা ২০ লাখের কাছাকাছি। এই সব রোগীদের জন্য আমরা মুম্বাইয়ে একটি চিকিৎসার আয়োজন করেছি যাকে বলা হয়ে স্টেম সেল থেরাপি। এই চিকিৎসায় আমরা রোগীদের কোমরের হাড়ের থেকে মজ্জা বের করে রোগীদের পেশির মধ্যে ও শিরদাঁড়ায় ইঞ্জেক্ট করে থাকি। এরপর ব্যায়ামের মাধ্যমে ধীরে ধীরে পেশিতে জোর ফিরে পায় রোগী। দেখুন এই বাচ্চাটির চলা ফেরা করা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল কিন্তু এই মুহূর্তে বাচ্চাটি আমাদের সহযোগিতায় আবার অল্প অল্প চলতে পারছে। তাই বলা যেতেই পারে যে এই বাচ্চাটির যে সমস্যা শুরু হয়েছিল তা আপাতত চেক করা গিয়েছে। আমরা আশা করছি আগামী দিনে বাচ্চাটির হাঁটাচলা, ওঠা বসা সব আবার আগের মত না হলেও অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে আসবে।”

ডাঃ নন্দিনী গকুলচন্দ্র অবশ্য এই চিকিৎসার খরচ কি ভাবে সাধারণ গরীব মানুষের পক্ষে সম্ভব হবে তারও উপায় বলে দেন। তিনি বলেন। “এই চিকিৎসা করাতে প্রায় ২ লাখের কাছাকাছি পড়ে যা যে কোন গরীব মানুষ কোন সামাজিক সংস্থা থেকে বা কোন NGO দ্বারা আসলে আমরাও তাদের কিছু সাহায্য করে থাকি।

এই ক্ষেত্রে মুম্বাইয়ের মত শহরের কথা মাথায় রেখেই আগামী ১৪ই জুলাই পশ্চিমবঙ্গে আয়োজিত হতে চলেছে এই সংস্থার পরিচালিত এক বিনামূল্যে কর্মশালা ও পরামর্শ শিবির। এই শিবিরের জন্য অবশ্য ২টি হেল্পলাইন নম্বরও চালু করেছেন এই সংস্থা আর যা হল +৯১ ৯৯২০২ ০০৪০০ ও অপরটি হল +৯১ ৯৮২১৫ ২৯৬৫৩।

সম্পর্কিত সংবাদ