আমার জীবনকথা ভাগ-৯

হাওড়াবাসীর নানা রঙের দিনগুলি ভাগ-৪ রোটারিয়ান স্বপন কুমার মুখোপাধ্যায় ১৯৫১ থেকে ১৯৫৩ সালের মধ্যে আমাদের বালির বাড়ির মাঠে পরপর ৪টি অনুষ্ঠান হয়। (১) ‘মিশর কুমারী’ নাটকে আমার পিতৃদেব ও ন’ কাকু যথাক্রমে সম্রাটের ও সায়ার চরিত্রে অভিনয় করেন। (২) ‘চন্দ্রগুপ্ত’ নাটকে ছবি বিশ্বাস, জহর গাঙ্গুলি, সরযুবালা, রানীবালা, পূর্ণিমা, মিহির ভট্টাচার্য, রণজিৎ রায়, কমল মিত্র, (৩) ‘দুই পুরুষ’ নাটকে আমার ছোটকাকু, (৪) আর সঙ্গীত আসরে তারাপদ চক্রবর্তী, আলী আমেদ খাঁ, অপরেশ চ্যাটার্জি, অপরেশ ও বাঁশরী লাহিড়ী। এসব অনুষ্ঠানে আমি ছিলাম দর্শক ও শ্রোতা। এইসব অনুষ্ঠানের সংগৃহীত অর্থ আজাদ হিন্দ ফৌজের অসুস্থ…

আমার জীবনকথা ভাগ-৮

হাওড়াবাসীর নানা রঙের দিনগুলি ভাগ-৩ রোটারিয়ান স্বপন কুমার মুখোপাধ্যায় ১৯৪৮ সালে আমার উপনয়নের পরে ন’ বোন ঝরনা মাত্র নয় বছর বয়সে বালির বাড়িতে নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে পরলোকে গমন করে । ১৯৪৮ সালে হাওড়া ময়দানে এক বিশাল জনসভায় প্রথম পণ্ডিত জহরলাল নেহেরু ও ডক্টর রামমনোহর লোহিয়াকে দেখি । যথাসম্ভব ওই বছরেই হাওড়া ময়দানে নেতাজির আজাদ হিন্দ বাহিনীর কর্নেল শাহনওয়াজ খানকে নাগরিক সম্বর্ধনা দেওয়া হয় । পরিবর্তীকালে সালটা ঠিক মনে নেই, স্বাধীন ভারতে পশ্চিম বাংলার প্রথম রাজ্যপাল ছিলেন মাননীয় রাজাগোপালাচারি । উনি একবার হাওড়া গার্লস স্কুলের পুরস্কার বিতরণী সভায় প্রধান অতিথি…

আমার জীবনকথা ভাগ-৭

হাওড়াবাসীর নানা রঙের দিনগুলি ভাগ-২ রোটারিয়ান স্বপন কুমার মুখোপাধ্যায় ১৯৪৭ সালের ১৫ই আগস্ট ভারত স্বাধীনতালাভ করে। সেই দিনটির কথা আজও মনে পড়ে ১৪ই আগস্টেও হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গা হয়েছিল। কিন্তু পরের দিনই পরিবেশটা যেন আশ্চর্যভাবে পাল্টে গেল। ভোরবেলায় বন্দেমাতরম সঙ্গীতের সঙ্গে প্রতি পরিবারের বাড়িতে জাতীয় পতাকা উড্ডীন হল। সেদিন পাবলিক বাসে কোনো টিকিট লাগেনি-যথা ইচ্ছা বিনা পয়সায় ঘুরে বেড়ানো হল। কোনো সিনেমা হলে টিকিট লাগেনি-বিনা পয়সায় যে কোনো সিনেমা হলে ইচ্ছামতো ছায়াছবি দেখা গেল। অনেক বাড়ির গৃহবধূরা সকালে ও সন্ধ্যাবেলায় শাঁক বাজায়। আরও মজার ব্যাপার হল যখন আমি শ্যামবাজার থেকে ৩এ বাসে…

আমার জীবনকথা ভাগ-৬

হাওড়াবাসীর নানা রঙের দিনগুলি ভাগ-১ রোটারিয়ান স্বপন কুমার মুখোপাধ্যায় আমাদের হাওড়ার পঞ্চাননতলার বাড়ি থেকে পঞ্চাননতলা রোডের উপর হাওড়া টাউন স্কুল খুবই কাছে ছিল। ওই স্কুলে ১৯৪৪ সালের জুলাই মাসে চতুর্থ শ্রেনিতে আমাকে আমার পিতৃদেব ভর্তি করে দেন। আমার বড় বোন মিনতি বড়িশায় দাদামশাই-এর কাছে থাকত বলে “বড়িশা গার্লস হাইস্কুলে” পড়ত। স্কুলটি সাবর্ণপাড়ায় দ্বাদশ শিব মন্দিরের কাছে আজও আছে। আমার মেজদিদি প্রনতি হাওড়া ময়দানের কাছে হাওড়া গার্লস স্কুলে পঞ্চম শ্রেনিতে ভর্তি হয়। আমার সেজো বোন কল্পনা তৃতীয় শ্রেনিতে ও ন’বোন ঝরনা দ্বিতীয় শ্রেনিতে ওই স্কুলেই ভর্তি হয়। আর ছোট বোন বন্দনার…

আমার জীবনকথা ভাগ-৫

বালির বাড়ির ইতিকথা রোটারিয়ান স্বপন কুমার মুখোপাধ্যায় বালির উত্তর দিকে বিবেকানন্দ সেতুর আদিনাম ছিল “ওয়েলিংটন ব্রিজ” এবং এই সেতুর অপর প্রান্ত হল দক্ষিণেশ্বর। এই সেতুই আর বালিখাল হল বালির উত্তর সীমানা। তারপর হুগলি জেলা শুরু হয়েছে উত্তরপাড়া থেকে আর দক্ষিণদিকের সীমানা হল পূর্বে গঙ্গানদী আর পশ্চিমে গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড থেকে বেলুড় স্টেশন রোড শুরু হয়েছে। তারপর থেকে বেলুড়। অর্থাৎ বালির দক্ষিনে বেলুড় লিলুয়া আর উত্তরে উত্তরপাড়া। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কয়েক বছর আগে পর্যন্ত বালির লোকসংখ্যা ছিল পঁয়তাল্লিশ হাজার হিন্দু-ব্রাহ্মন পরিবার এবং এঁরা এতটাই গোঁড়া ব্রাহ্মন ছিলেন যে বেলুড় ও উত্তরপাড়ায় লোকেরা…

আমার জীবনকথা- ভাগ- ৪

চুঁচুড়া-আমার জন্মস্থানের মাহাত্ম্য রোটারিয়ান স্বপনকুমার মুখোপাধ্যায়   ১৯৩৪ সালে ১ লা আগস্ট হুগলি জেলার প্রানকেন্দ্র চুঁচুড়া বড়বাজারের ঘড়ির মোড় থেকে বর্তমান লঞ্চঘাটে যাবার পথে রাস্তার মাঝখানে যে মায়ের মন্দির আছে ঠিক তাঁর পেছনে লাগোয়া ত্রিতল বাড়িতে আমার জন্ম হয়।মায়ের মন্দিরের দু’পাশ দিয়ে দুটি রাস্তা বেরিয়ে ওই বাড়ির পূর্বদিকের লাগোয়া রাস্তায় মিশেছে। অর্থাৎ আমার জন্মবাড়ির তিনদিকে রাস্তা ও পশ্চিমদিকে মায়ের মন্দির। ওই বাড়ির চারিদিকে বাড়ি ও মাঝখানে উঠোন। হুগলি জেলায় আমার জন্মের জন্য আমি নিজেকে গৌরবাহ্নিত মনে করি তার প্রথম কারন, আমার দীক্ষাগুরু শ্রীশ্রীঠাকুর সীতারামদাস ওঙ্কারনাথ জন্মগ্রহন করেন হুগলি জেলার কেওটা…

আমার জীবনকথা- ভাগ-৩

পিতৃ-মাতৃকুলের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি রোটারিয়ান স্বপন কুমার মুখোপাধ্যায় আমার পিতৃদেব স্বর্গীয় অক্ষয় কুমার মুখোপাধ্যায় হলেন আমার পিতামহ ডাক্তার নরেন্দ্র কুমার মুখোপাধ্যায়ের ও পিতামহী নিভাননী দেবীর মেজ ছেলে। আমার পিতার জন্ম হয় ১৯০০ খ্রিস্টাব্দের মাঘী পূর্ণিমার দিন ঢাকা শহরে। আমার পিতা বহুবিধ গুনের অধিকারী ছিলেন। ঢাকার সরকারি পোগোস স্কুল থেকে ১৯১৭ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত ম্যাট্রিক পরীক্ষায় দশটা বিষয়েই প্রথম স্থান অর্জন করে দশটা সোনার মেডেল অর্জন করে সসম্মানে উত্তীর্ণ হন। তারপর হুগলী জেলার চুঁচুড়ার মহসীন কলেজের আই.এস.সি.-তে ভর্তি হয়ে দু’বছর পর অর্থাৎ ১৯১৯ সালে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আই.এস.সি. পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার…

আমার জীবনকথা- ভাগ-২

  পিতৃ-মাতৃকুলের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি রোটারিয়ান স্বপন কুমার মুখোপাধ্যায় আমার কথা পরে হবে। আমার পিতামহের সন্তান-সন্ততি মোট দশজন। পাঁচ পুত্র ও পাঁচ কন্যা। পাঁচ পুত্র যথাক্রমে- সতীশচন্দ্র, অক্ষয়কুমার, অমরেন্দ্রনাথ, রবীন্দ্রনাথ ও সৌরেন্দ্রনাথ। আমার পাঁচ পিসিদের নাম অমলা, শোভনা, কচি, হাবি ও নিরুপমা। সতীশচন্দ্র ছিলেন ডাক্তার এবং সিভিল সার্জেন, অমরেন্দ্রনাথ ছিলেন জেলার, রবীন্দ্রনাথ ডাক্তার ও সৌরেন্দ্রনাথ ছিলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুটবল, ক্রিকেট ও হকির ক্যাপ্টেন ও ব্লু। পরবর্তীকালে মোহনবাগান ক্লাবে খেলতেন ও নিজস্ব ব্যবসা শুরু করেন। আমি নরেন্দ্রনাথের দ্বিতীয় পুত্র অক্ষয়কুমারের একমাত্র পুত্রসন্তান। আমার পাঁচ বোন। আমার ওপরে দুই দিদি মিনতি ও প্রনতি।…

আমার জীবনকথা- ভাগ-১

  পিতৃ-মাতৃকুলের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি রোটারিয়ান স্বপন কুমার মুখোপাধ্যায় আমাদের মুখোপাধ্যায় পরিবারের আদি পুরুষ বলতে আমরা বুঝি আদ্যনাথ মুখোপাধ্যায়। ইনি বসবাস করতেন সূতানটীর বাগবাজার অঞ্চলে। ইনি ছিলেন একজন বাকসিদ্ধ পুরুষ। বাগবাজার সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা। ওনার পুত্র হরনাথ মুখোপাধ্যায় ছিলেন একজন ভজন সিদ্ধ পুরুষ। উনি বাস করতেন হুগলি জেলার কোন্নগরে। উনি ছিলেন কালী সাধক। স্থানীয় আদিবাসিরা তাকে আদর করে বলতেন “হরপাগলা”। ওনার পুত্র গিরিশ চন্দ্র মুখোপাধ্যায় সম্বন্ধে আমার কোনো জ্ঞান নেই। কিন্তু ওনার পুত্র পন্ডিত হরিনাথ মুখোপাধ্যায় আমার প্রপিতামহ। উনি বাস করতেন উত্তর কলকাতার দর্জিপাড়ায় অর্থাৎ হরি ঘোষ ষ্ট্রিটে। ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগর…

“আমার জীবনকথা” – একটি আত্মজীবনী

  অরিন্দম রায় চৌধুরী, ব্যারাকপুরঃ জীবনের অনেক উত্থান-পতনের মাঝ দিয়ে জীবনের ৮৪টা বছর পার করেছেন রোটারিয়ান স্বপন কুমার মুখোপাধ্যায়। নিজের চোখে দেখেছেন ইংরেজ শাসন থেকে শুরু করে তদানীন্তন কলকাতার অনেক অজানা তথ্য। এসেছেন অনেক খ্যাতনামা মানুষের সান্নিধ্যে। সাবেকী কলকাতার সেই সব স্মৃতিই প্রকাশিত হয়েছে তারই নিজের আত্মজীবনী “আমার জীবনকথা”-র মাধ্যমে। বর্তমানে ব্যারাকপুরের মণিরামপুরের বাসিন্দা, একবার বাইপাস অপারেশন হওয়ার পর আজও তিনি কিন্তু সচ্চল-সবল ও নিষ্ঠার সাথে করে চলেছেন তার নিত্য দিনের কর্ম ও মানব সেবার কাজের পাশাপাশি নানা লেখার কাজ। ৮৪ বছর বয়েসি এই প্রাঞ্চছল লেখকের লেখনীর প্রতি পরতে রয়েছে এক…