৩৫-তম বর্ষে বসিরহাটের ভ্রাতৃ সংঘের জগদ্ধাত্রী পুজো

  অর্ণব মৈত্র, বসিরহাটঃ ক্রীড়া জগতের সঙ্গে যুক্ত বসিরহাটের ‘ভ্রাতৃ সংঘ’। জাতীয় ফুটবলার মিহির ঘোষ এর পৃষ্ঠপোষকতায় ক্রীড়া জগতের পাশাপাশি প্রতিবছরই জগদ্ধাত্রী পুজোর আয়োজন করা হয় ভ্রাতৃ সংঘের পক্ষ থেকে। এবছর ৩৫ তম বছরে পা দিয়েছে ভ্রাতৃ সংঘের জগদ্ধাত্রী পুজো। এবছর কুমরটুলির পশুপতি রুদ্র পাল এর প্রতিমা ও সাবেকি মন্ডপ যথেষ্ঠ নজর কেড়েছে বসিরহাটের দর্শনার্থীদের। সময়ের সঙ্গে সামাঞ্জস্য রেখে আয়োজন করা হয়েছে আলোকসজ্জাও। এবছর প্রায় সাড়ে ৩ লক্ষ টাকা ব্যয়ে পুজো হচ্ছে বলে জানান পুজো উদ্যোক্তারা। খেলাধুলাকে বাঁচিয়ে রাখার পাশাপাশি জগদ্ধাত্রী পুজোর মধ্যে দিয়ে বাংলার লোকসংস্কৃতিকেও বাঁচিয়ে রাখার প্রয়াস চালিয়ে…

নন্দীগ্রামে রায় পরিবারের ৫১ তম জগদ্ধাত্রী পূজো

  রাহুল রায়, পূর্ব বর্ধমানঃ পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়া ২নং ব্লকের শ্রীবাটী গ্ৰাম পঞ্চায়েত অন্তর্গত নন্দীগ্রামে। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে শোনা যায় নন্দীগ্রামে আগে রায় পরিবারের জমিদারি ছিল। তখন বর্ধমান জেলার ধেয়া পরগনার বেশ কিছুটা লাভ করেছিল নন্দীগ্রামে রায় পরিবার। নন্দীগ্রামের জমিদার রেনুপদ রায়ের স্ত্রী দিনতারিণী রায় স্বপ্নাদেশ পেয়ে জগদ্ধাত্রী পূজো শুরু করেছিলেন। নন্দীগ্রামে রায়বাড়ির জগদ্ধাত্রী পূজো এবছর ৫১ তম বর্ষের পদার্পন করল। পরিবারের বর্তমান প্রজন্মই চালাচ্ছেন এই পূজো। রেণুপদবাবু নাতী গৌতম রায়, বাপি রায়, খোকন রায় জানিয়েছেন, অতীত আমলে পদ্ধতি মেনেই জগদ্ধাত্রী পূজো করা হয়। একইদিনেই সপ্তমী, অষ্টমী, নবমীর পূজো…

জগতের ধাত্রী শক্তিই পরিচিত জগদ্ধাত্রী রূপে

  রাজীব মুখার্জী, হাওড়াঃ জগদ্ধাত্রী দুর্গা হিন্দু মতে শক্তির দেবী। ইনি দেবী দুর্গারই অপর রূপ। ভারতীয় উপনিষদে এর নাম উমা হৈমবতী। বিভিন্ন তন্ত্র ও পুরাণ গ্রন্থেও এর উল্লেখ রয়েছে। যদিও জগদ্ধাত্রী আরাধনা বিশেষত বঙ্গদেশেই প্রচলিত প্রায় ছয়শো বছর ধরে। এই পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার চন্দননগর ও নদিয়া জেলার কৃষ্ণনগরের জগদ্ধাত্রী উৎসব বিশ্ববন্দিত। প্রতি বছরের কার্তিক মাসের শুক্লা নবমী তিথিতে দেবী জগদ্ধাত্রীর বাৎসরিক পূজা অনুষ্ঠিত হয় এই বঙ্গে। হিন্দু বাঙালির ধর্মীয় মানসে রাজসিক দেবী দুর্গা ও তামসিক কালীর পরেই স্থান সত্ত্বগুণের দেবী জগদ্ধাত্রীর আরাধনা চলে। হাওড়া জেলার গ্রাম আন্দুলের চৌধুরী পাড়ার সর্বজনীনের জগদ্ধাত্রী পূজো হাওড়া জেলার মাসিলা গ্রামের জগদ্ধাত্রী পুজো। জগদ্ধাত্রী দেবী মূলত ত্রিনয়না, চতুর্ভূজা ও সিংহবাহিনী। তাঁর হাতে শঙ্খ, চক্র, ধনুক ও বাণ।…

শারদ উৎসবের বিশেষ প্রতিবেদনঃ আলোক সজ্জা আর কল্পনার ছোঁয়াতে জমজমাট বনগাঁর শারদ উৎসব

  জয় চক্রবর্তী, বনগাঁঃ কোথাও মণ্ডপ তৈরি হয়েছে থাইল্যান্ডের বৌদ্ধ মন্দিরের আদলে, আবার কোথাও মণ্ডপ মাথা তুলেছে “বাহুবলী-২” সিনেমাতে দেখানো মহিষমতির প্রসাদের আদলে। কোথাও জীবন্ত গ্রাম, মায়াজাল, মহিষমতির সাম্রাজ্য আর ভাসমান দূর্গায় এবারের বনগাঁর সারদ উৎসব জমজমাট হয়ে উঠেছে। প্রতি বছর বনগাঁয় থিম পুজোর আকর্ষনে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ছুটে যায়। এমন কি পুজোর দিনগুলিতে ওপার বাংলা থেকেও মানুষের ঢল নামে সীমান্ত শহর বনগাঁয় ৷ ওপার বাংলার বহু মানুষ বলে, দূর্গাপুজো মানে বনগাঁ শহরের দূর্গাপুজোই। থিম, আধুনিকতা ও আলোক সজ্জায় এই শহরের দূর্গাপুজো রাজ্যের বহু মানুষের মন কেড়ে নিয়েছে৷…

পঞ্চ ভূতের মহামায়া

  রাজীব মুখার্জী, হাওড়া মন্দির তলা, শিবপুরঃ সকলে চাই আমরা নিজেদের রূপ কে ফুটিয়ে তুলতে। আরো মেলে ধরতে বাইরের জগতের কাছে। কেউ বলেন পরিবর্তনের নাম জীবন। কেউ বা পরিবর্তনকে খুব ভালো চোখে দেখেন না। পুরাতন সাবেকিয়ানাতেই তাদের সুখ। রূপ কি শুধুই বাহ্যিক? বাইরের রূপটাই কি খাঁটি? অন্তরের রূপটা কি শুধুই সাহিত্যের অলংকারের জন্য? শুধুই কি সাহিত্যিক ও কবির কল্পনার বিষয়? শুধুই কি কলমের কালির আঁকি বুকি? এই রকম হাজার দ্বন্দ্ব দ্বিধার মাঝে আমরা বেঁচে আছি। জীবন এগিয়ে চলে, এগিয়ে চলে সভ্যতা। চলার পথে রেখে যায় বহু শিক্ষা বহু উপলব্ধি। বর্তমান…

“বাংলার হৃদয়ে দার্জিলিং” – মধ্য নোনা চন্দনপুকুর অধিবাসীবৃন্দ দুর্গোৎসব

বেঙ্গল টুডের পূজা পেডিয়া – ২০১৮ মধ্য নোনা চন্দনপুকুর অধিবাসীবৃন্দ দুর্গোৎসব শুরুটা সেই ১৯৭৫ সালে। প্রথম বছর মাত্র ৫৭১ টাকার বাজেট নিয়ে দুর্গাপূজা আয়োজিত হয়ে। তারপর দেখতে দেখতে বছর ঘুরে আবার পূজার আয়োজন ও তার সাথে সাথে আরও এলাকার মানুষকে এই কর্মযজ্ঞের সাথে শামিল করে আজ মহীরুহে পরিণত হয়েছে এই মধ্য নোনা চন্দনপুকুর অধিবাসীবৃন্দের দুর্গাপূজা। বর্তমানে প্রতি বছর নানা নতুন নতুন চিন্তাভাবনা নিয়ে নতুন রূপে হাজির হচ্ছে এই সংস্থার পূজা। আর এর জন্যই গত ২০১৫ এবং ২০১৬ সালে বিস্ববাংলা জেলার পূজায় প্রথম স্থান অধিকার করতে সক্ষম হয়ে এই সংস্থা। এমনকি…

“যুব শক্তির মানস” – ব্যারাকপুরের প্রাচীন সার্বজনীন দুর্গাপূজার মধ্যে একটি

  ১৯৭৭ সাল, আজ থেকে দীর্ঘ ৪০ বছর আগের কথা। ব্যারাকপুর চিড়িয়ামোড়ে তখন আজকের মতন এত জন বসতি চোখে পরতো না। ব্যারাকপুরের প্রাণকেন্দ্র চিড়িয়ামোড়ের উপর ওয়েলেসলি হিন্দি হাই স্কুল ও তার সামনে ফাকা মাঠ। এই সম্পূর্ণ জায়েগাটাই শোনা যায় স্থানীয় চার্চের। এলাকার মানুষরা ১৯৭৭ সালে ঠিক করে এলাকায় একটা সার্বজনীন দুর্গোৎসব আয়োজিত করবে। যেমন কথা তেমনই কাজ। চার্চের থেকে একটি অনুমতি নিয়ে স্কুলের সামনে ফাকা জমির উপর আয়োজিত হল দুর্গা পূজা, নাম “যুব শক্তির মানস”। সেই থেকে আজ অবধি প্রতি বছর ঐ একই স্থানে ঘটা করে আয়োজিত হয়ে চলেছে “যুব…