চুরি যাওয়া প্রণামীর টাকা সমেত অভিযুক্ত হাতেনাতে পাকড়াও চব্বিশ ঘণ্টায়

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
অরিন্দম রায় চৌধুরী, কলকাতাঃ

গত ২রা জুন, শনিবার, গভীর রাতের ঘটনা। মন্দিরের গেট তালাবন্ধ। তবুও বাক্স ভেঙে উধাও হয়ে গেল প্রণামীর টাকা। রিজেন্ট পার্ক থানা এলাকার শান্তিনগরে। রাত পোহালেই লোকনাথ বাবার জন্মোৎসব। মন্দির প্রাঙ্গণ জমজমাট। হঠাৎ আবিষ্কৃত হল, প্রণামীর বাক্স ভাঙা। এবং সব টাকা উধাও। প্রায় তিরিশ হাজার। অথচ, মন্দিরের কোলাপ্সিবল গেট বন্ধ ছিল। তাহলে কীভাবে চুরি? মন্দিরের সঙ্গে জড়িত কি কেউ যুক্ত?

তদন্তে নেমেই রিজেন্ট পার্ক থানার অফিসারেরা প্রথমে মন্দির এলাকার সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেন। সেই ফুটেজ বারবার খুঁটিয়ে দেখার পর চিহ্নিত করা গেল এক ইলেক্ট্রিশিয়ানকে। মাথায় স্পোর্টস ক্যাপ। ফলে মুখ অস্পষ্ট। এক হাতে তার ইত্যাদি, অন্য হাতে একটা ব্যাগ।

বহিরাগতদের মধ্যে ইলেক্ট্রিশিয়ানের পক্ষেই উৎসবের আগের রাতে কাজের অজুহাতে মন্দিরের ভিতরে অবাধ যাতায়াতের সুযোগ সবচেয়ে বেশি। বাক্স ভেঙে টাকা হাতানোর জন্য প্রয়োজনীয় সময়ও বেশি, কাজের ছলেই।

সাব-ইন্সপেক্টর সনৎ চট্টোপাধ্যায় এবং সুমন বিশ্বাস

পুলিশের সামনে এবার এল আরও বড় সমস্যা কারণ মন্দিরে ও স্থানীয় অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরেই ইলেক্ট্রিকের কাজ করেন বেশ কয়েকজন স্থানীয় মানুষ। এই এত গুলো মানুষের মধ্যে মূল লোকটিকে খুঁজে বের করাই এখন পুলিশের কাছে প্রধান চ্যালেঞ্জ তবে ওই যে পুলিশ আর সাধারণ মানুষের মধ্যে হয়তো এটাই ফারাক। তাই পুলিশ যা পারে তা সাধারণ মানুষ পারে না। পুলিশ লক্ষ স্থির করতে পারে আর এই ঘটনায় তাদের সামনে মূল লক্ষ ছিল ছবির ঐ লোকটির মাথার টুপি আর তাই সামান্য খোঁজখবরেই জানা গেল, এদের মধ্যে একজন সর্বক্ষণ টুপি পরে থাকে। বহুদিনের অভ্যেস।

ওই টুপিই কাল হল চোরের। চিহ্নিত করার কাজটা ততটা কষ্টসাধ্য থাকল না আর। সন্দেহভাজন ইলেক্ট্রিশিয়ানের নাম নজরুল মিস্ত্রি। সাব-ইন্সপেক্টর সনৎ চট্টোপাধ্যায় এবং সুমন বিশ্বাসের নেতৃত্বে মিস্ত্রিপাড়ার বন্দিপুর রোডে নজরুলের বাড়িতে হানা দেয় রিজেন্ট পার্ক থানার পুলিশ।

এর পর গ্রেফতার, জেরায় অপরাধ কবুল এবং উদ্ধার চুরি যাওয়া প্রণামীর টাকার পুরোটাই তাও চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যেই।

সম্পর্কিত সংবাদ