Sunday, September 25, 2022
spot_img

বাংলাদেশের আসিফের রিমান্ড ও জামিন নামঞ্জুর, কারাগারে প্রেরণ

মিজান রহমান, ঢাকা:

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনে দায়ের করা মামলায় সঙ্গীতশিল্পী আসিফ আকবরের রিমান্ড ও জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। ৬ জুন বুধবার ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম কেশব রায় চৌধুরীর আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এর আগে এদিন বাংলাদেশ সাইবার পুলিশ ব্যুরোর উপ-পুলিশ পরিদর্শক প্রলয় রায় আসিফের পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে। মামলার ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটন এবং মূল হোতা সহ আসামিদের পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা সংগ্রহের জন্য আসিফকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। ঘটনার সাথে জড়িত অপর আসামিদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ পূর্বক তাদের গ্রেপ্তার, ব্যবহৃত ইলেক্ট্রনিকস ডিভাইসের পরিচিতি এবং আসিফের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানার জন্য তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসা করা প্রয়োজন। আসামি জামিন পেলে পলাতক হওয়ার সম্ভাবনা আছে উল্লেখ করে তার জামিনের বিরোধিতা করেন তদন্ত কর্মকর্তা। আসিফের পক্ষে তার আইনজীবী আসাদুজ্জামান আসাদ, ফারুক মিয়া, মেহেদী হাসান আপেল প্রমুখ আইনজীবী রিমান্ড বাতিল করে জামিন চেয়ে শুনানি করেন।

শুনানিতে তারা বলেন, মামলায় আসামির বিরুদ্ধে তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই। আসামি একজন জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী। তাকে সারা দেশের মানুষ চেনেন। মিথ্যা মামলায় তাকে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্যই এই মামলাটি সৃজন করা হয়েছে। পরে বিচারক আসামির কাছে অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে, আসিফ বলেন, এই চুক্তিটি হয়েছিল ২০০৮ সালে। ওই চুক্তির পরে ২০১৪ সালে সরকার এ বিষয়ে নতুন আইন করায় পূর্বের চুক্তি মোতাবেক কেউই লাভবান হয়নি।

আসিফ আরো বলেন, এজাহারকারীই প্রথম ফেসবুকে এ বিষয়ে পোস্ট দিয়েছেন এবং বিভিন্ন মিডিয়ায় তাকে নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছে। তিন বছর ধরে তারা বাড়াবাড়ি করছে। তারাই আমার সম্মানহানি করেছে। এজন্য আমারই মামলা করা উচিত ছিল। আসিফের আইনজীবী বলেন, আসিফ একজন সঙ্গীতশিল্পী। তিনি অসুস্থ। জামিন দিলে তিনি পলাতক হবেন না। প্রতি ধার্য তারিখে হাজিরা দেবেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন আদালতে তেজগাঁও থানা পুলিশের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা এসআই তাহেরা বেগম। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত রিমান্ড ও জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে আসিফকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এদিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আসিফ আকবরকে আদালতে আনা হয়। দুপুর ২টার দিকে আসিফকে আদালতে তোলা হয়। আদালতে অবস্থানকালে আসিফকে বেশ হাস্যোজ্জ্বল দেখাচ্ছিল। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে গীতিকার, সুরকার ও গায়ক শফিক তুহিনের করা মামলায় গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) একটি দল আসিফ আকবরকে তার মগবাজারের অফিস থেকে গ্রেপ্তার করে। সোমবার সন্ধ্যায় শফিক তুহিন মামলাটি করেন। মামলায় আসিফ ছাড়া আরো চার-পাঁচজন অজ্ঞাতনামা আসামি রয়েছেন।

শফিক তুহিন মামলায় অভিযোগ করেন, গত ১ জুন রাত ৯টার দিকে একটি চ্যানেলের ‘সার্চ লাইট’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, আসিফ অনুমতি ছাড়াই তার সঙ্গীতকর্মসহ অন্য গীতিকার, সুরকার ও শিল্পীদের ৬১৭টি গান সবার অজান্তে বিক্রি করেছেন। পরে তিনি বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করে জানতে পারেন, আসিফ তার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান আর্ব এন্টারটেইনমেন্টের চেয়ারম্যান হিসেবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গানগুলোর ডিজিটাল রূপান্তর করে প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল অর্থ উপার্জন করেছেন।

শফিক তুহিন অভিযোগে উল্লেখ করেন, ঘটনা জানার পর তিনি ২ জুন রাতে অনুমোদন ছাড়া গান বিক্রির বিষয়টি উল্লেখ করে তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে একটি পোস্ট দেন। তার সেই পোস্টের নিচে আসিফ অশালীন মন্তব্য করেন ও হুমকি দেন। পরের দিন রাত ১০টার দিকে আসিফ তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লাইভে আসেন। লাইভে শফিক তুহিনের বিরুদ্ধে অবমাননাকর, অশালীন ও মিথ্যা বক্তব্য দেন। আসিফ লাইভে শফিক তুহিনকে শায়েস্তা করবেন বলেও হুমকি দেন।

পাশাপাশি ভক্তদের উদ্দেশে বলেন, শফিক তুহিনকে যেখানেই পাবেন, সেখানেই প্রতিহত করবেন। আসিফের এই বক্তব্যের পর তার ভক্তরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শফিক তুহিনকে হত্যার হুমকি দেন। আসিফের লাইভ লাখ লাখ মানুষ দেখেছে। তিনি উসকানি দিয়েছেন। এতে শফিক তুহিনের মানহানি হয়েছে।

Related Articles

Stay Connected

0FansLike
3,499FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles