বাম জামনা থেকে বঞ্চিত জাম্বনী ব্লকের শাল মহুলের জঙ্গল ঘেরা বেশ কয়েকটি গ্রাম

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সন্দীপ ঘোষ, ঝাড়গ্রাম :

বাম জামনা থেকে বঞ্চিত হয়ে গিয়েছে জাম্বনী ব্লকের শাল মহুলের জঙ্গল ঘেরা বেশ কয়েকটি গ্রাম। ওই এলাকার কয়েক হাজার মানুষজনের যাতায়াত করার জন্য নেই কোনও রাস্তা। এমনকি এলাকায় নেই কোনও উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র। আর তাই বাসিন্দাদের ভরসা বলতে ১০ কিমি দূরে প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র অথবা ঝাড়গ্রাম জেলা সদরের ঝাড়গ্রাম জেলা হাসপাতাল যার দুরত্ব প্রায় ১০ থেকে ১২ কিমি রাস্তা। এলাকার প্রায় ৭ কিমি রাস্তা এখনো পর্যন্ত পিচ বা কংক্রিট না হওয়ায় প্রত্যেক বছর বর্ষার সময় চরম সমস্যায় পড়েন এলাকার বাসিন্দারা। এই রাস্তা দিয়ে জঙ্গল লাগোয়া খানা খন্দে ভরা মাটির রাস্তাটি ধরে এলাকার ১০ থেকে ১৫ টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের এক মাত্র ভরসা। রাতে কোনও ব্যক্তি অসুস্থ হলে বা প্রসুতি মহিলাদের স্বাস্থ্য কেন্দ্র নিয়ে যেতে এক তীব্র সমস্যায় পড়তে হয়।

এছাড়াও বিভিন্ন পেশার কাছে যুক্ত মানুষ জন বা স্কুল,কলেজ পড়ুয়ারা নিত্য দিন অত্যন্ত কষ্ট করে চলাফেরা করে। বর্ষায় খানাখন্দে ভরা রাস্তাটির অবস্থা অত্যন্ত খারাপ হয়ে যায়। জঙ্গল ঘেরা রাস্তাটির উপর দিয়ে হাতির দল পারাপার করে। সব মিলিয়ে এলাকায় ৬-৭ হাজার মানুষ নিত্যদিন ব্যবহার করেন এই রাস্তাটি। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ বাম জমানা থেকে উপেক্ষিপ্ত তারা। প্রধানন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনায় যখন তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ন গ্রামীন রাস্তা পিচ হচ্ছে তখন গুরুত্বপূর্ন এই মাটির খানা খন্দে ভরা রাস্তাটির কাজ আজও হল না এমন অভিযোগ করছেন গ্রামবাসীরা। ঝাড়গ্রাম জেলার জামবনি ব্লকের জামবনি অঞ্চলের বেনাগেড়িয়া থেকে রামচন্দ্রপুর এই প্রায় ৭ কিমি দীর্ঘ রাস্তাটি বাম আমল থেকেই অবহেলিত।

এমনকি ওই এলাকার সুশনি, কুমড়ি, কাকশোল, চালতা, রাঙামেটিয়া, রামচন্দ্রপুর, কানিমউলি, সিজুয়া সহ আরো অন্যান্য গ্রামের কয়েক হাজার মানুষজন এই রাস্তা ব্যবহার করে আসছেন। গুরুত্বপূর্ন এই রাস্তাটি গ্রামীন এলাকা হলেও রাত ১০টা পর্যন্ত স্থানীয় মানুষ জন যারা মিস্ত্রী সহ বাইরে বিভিন্ন কাজে যান তারা ব্যবহার করেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, এলাকায় আশেপাশে কোন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র নেই। তাই রাত বিরেতে শারীরিক অসুস্থতা হলে খানাখন্দে ভরা এই দীর্ঘ ৭ কিমি রাস্তা পেরিয়ে প্রায় ১০ কিমি দূরে চিল্কিগড় প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যাতে হয়। স্থানীয়দের আবেদন অবিলম্বে রাস্তাটি পিচ করে দেওয়া হোক। জঙ্গল ঘেরা গ্রামের মানুষ গুলি জঙ্গল লাগোয় এই রাস্তায় অত্যন্ত ভয়ে চলাফেরা করেন। এমনকি অনেক সময় হাতির সামনে পড়লে বেহাল এই রাস্তা ধরে পালাতে গিয়েও পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এমনই অভিযোগ স্থানীয়দের। সুশনি গ্রামের বাসিন্দা শ্যামল মাহাতো বলেন, “জঙ্গলমহল তথা ঝাড়গ্রাম জেলায় উন্নয়নের যথেষ্ট কাজ হয়েছে। সেবিষয়ে কোন প্রশ্ন নেই। আমাদের আশা গ্রামের এই গুরুত্বপূর্ন এতে উপকৃত হবে। ” অপরদিকে এই বিষয়ে জামবনি ব্লকের বিডিওকে ফোন করা হলে তিনি ফোন ধরেন নি।

সম্পর্কিত সংবাদ