Saturday, September 24, 2022
spot_img

বাপেরবাড়ী থেকে জামাইষষ্ঠীর নিমন্ত্রণ পাওয়ার ১ঘন্টার মধ্যেই মেয়ের অস্বাভাবিক মৃত্যু!!

অরিন্দম রায় চৌধুরী, কলকাতাঃ

শ্যামনগর ঘোষ পাড়া রোডের ধারে “অর্পণ” কমপ্লেক্সের ৪ তলার ফ্ল্যাটে বসবাস করেন রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে অবসর প্রাপ্ত অসুস্থ স্বপন চক্রবর্তী। তার তিন মেয়ে এবং স্ত্রী বলাকা চক্রবর্তীকে নিয়ে তার পরিবার। বড় মেয়ে ও ছোট মেয়েকে আগে বিয়ে দিয়ে দিলেও মেজ মেয়ে অর্থাৎ পায়েলকে বিয়ে দেন গত বছর ২০১৭ সালের ১৬ই জানুয়ারি। কিন্তু প্রশ্ন কি ভাবে হলো পায়েলের এই বিয়ে?

প্রসঙ্গত ম্যাট্রিমনি সাইটে শ্যামনগরের মেয়ে পায়েলের সাথে আলাপ হয় দক্ষিণ কলকাতার বাঁশদ্রোণীর ছেলে মৃগাঙ্ক রায়ের। কর্মসূত্রে মৃগাঙ্ক নিউটাউনের একটি বেসরকারি ইংরাজি মাধ্যম স্কুলে শিক্ষকতা করেন। তাদের আলাপ পরিচয়তেই থেমে না থেকে এরপর মাঝে মধ্যে মোবাইলে পায়েল-মৃগাঙ্কর কথা হতে থাকে। আর সেখান থেকেই ভালোবাসা, তারপর আর কি? চার হাত এক করে বিয়ে।

দেখতে দেখতে কেটে গেল ১ বছর ৪ মাস আর এই বছরই মেয়ে পায়েল ও জামাই মৃগাঙ্ক দ্বিতীয় বারের জন্য জামাই ষষ্ঠীতে বাপের বাড়ি আসার কথা, তাই গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টা থেকে পৌনে ৯টা নাগাদ মেয়ে পায়েলের সঙ্গে মোবাইলে কথা বলেছিলেন পায়েলের মা বলাকা চক্রবর্তী এমনটাই জানান বলাকা দেবী। তিনি আরও বলেন, আর কদিন পরেই তো জামাই ষষ্ঠী তাই জামাইয়ের জন্য পাঞ্জাবি কিনে রেখেছেন, সেকথা জানিয়ে মেয়েকে জামাইষষ্ঠীর নিমন্ত্রণও সেরেছিলেন ফোনেই।

কিন্তু এক দের ঘণ্টা পরই হটাৎ জামাইয়ের নম্বর থেকে ফোন আসে। আর সেই এক ফোনেই যেন গোটা পৃথিবী অন্ধকারে ছেয়ে গেল “অর্পণ” কপ্লেক্সের বসবাসকারী পায়েলের মা বলাকা চক্রবর্তীর। জামাই ফোন করে তাকে এ কোন কথা বললো! কিছুটা ধাতস্ত হয়ে ওঠার পর বলাকা বুঝতে পারলেন জামাই মৃগাঙ্ক তাকে মেয়ে পায়েলে মৃত্যু সংবাদ দিয়েছে। কিন্তু তিনি কিছুতেই বুঝতে পারলেন না যে মেয়ের সঙ্গে মাত্র ২ ঘণ্টা আগেই কথা বলেছিলেন, এরই মধ্যে কী এমন ঘটল?

এদিকে পায়েলের পরিবারের পক্ষে মা বলাকা দেবী অভিযোগ করেন, বৃহস্পতিবার রাতে মেয়ের সঙ্গে কথা হয় তাঁদের। কিন্তু রাত পৌনে ১০টা নাগাদ মৃগাঙ্ক ফোন করে জানান, তাঁদের মেয়ে মৃত। কিন্তু কীভাবে মৃত্যু হল, তা স্পষ্ট করে জানানো হয়নি। যে মেয়ের সঙ্গে মাত্র দেড়-দু ঘণ্টা আগেই কথা বলেছেন, তাঁর মৃত্যু হটাৎ কীভাবে হতে পারে, তা বুঝতে পারছেন না পায়েলের পরিবার। স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা।

অপরদিকে পায়েলের বাবা স্বপন বাবু খুবই অসুস্থ বেশি কথা বলতে পারলেন না। শুধু বললেন, “আমার মাঝেমধ্যেই শরীরে রক্ত দিতে হয়, এই পর্যন্ত প্রায় ৪৭থেকে ৪৮ টা বোতল রক্ত নিয়ে নিয়েছি। এত চাপ আর কি ভাবে নেব বুঝতে পারছি না।

পায়েলের বাবা-মায়ের আরও অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই মৃগাঙ্ক, তাঁর দাদা ও মা পায়েলের ওপর নানারকম মানসিক অত্যাচার করত। বিয়ের এই এক বছরের মধ্যেই সেকথা একাধিকবার ফোন করে মাকে জানিয়েছিলেন পায়েল। এরপর দুই পরিবারের সমঝোতায় সেই সমস্যা কিছুটা মিটেছিল, কিন্তু তা যে আদৌ পুরোপুরি মেটেনি, তার প্রমাণ মিলল বৃহস্পতিবার রাতেই।

ঘটনাটি দক্ষিণ কলকাতার বাঁশদ্রোনী এলাকার। মৃত গৃহবধূর নাম পায়েল চক্রবর্তী (৩২)। গৃহবধূর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় অভিযোগের আঙ্গুল স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির দিকে, ফলে স্বামী, শাশুড়ি ও ভাশুরের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে নেতাজী নগর থানায়। আর পায়েলের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পায়েলের স্বামী মৃগাঙ্ক রায়কে আটক করেছে নেতাজী নগর থানার পুলিস। ঘটনার পর থেকেই পলাতক ভাসুর মৃদুল রায় ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা, যদিও বা তাঁদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। অপরদিকে খুনের কথা অস্বীকার করেছে শ্বশুর বাড়ির পরিবার।

Related Articles

Stay Connected

0FansLike
3,495FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles