Thursday, October 20, 2022
spot_img

মধুচক্রের অভিযোগ ব্যারাকপুর পুলিশ আবাসনে!!

অরিন্দম রায় চৌধুরী, ব্যারাকপুরঃ

বছরের শুরুতেই বর্ষবরণ উৎসবের আড়ালে গুরুগ্রামের এক গেস্ট হাউসে রমরমিয়ে চলছিল দেহব্যবসা। গোপন সূত্রে এই খবর পেয়ে মধুচক্রের আসর থেকে বেশ কয়েকজন মহিলা সহ খদ্দের ও নাটের গুরুকে গ্রেপ্তার করে গুরুগ্রাম থানার পুলিস। এত তো গেল গুরুগ্রামের কথা যা কলকাতা থেকে অনেক দূরে অবস্থিত। এবার কি তারই ছোঁয়া লাগলো কল্লোলিনী কলকাতায় কারণ এই কয়েকদিন আগেই, অর্থাৎ ২৭শে মে, কলকাতার বিভিন্ন্য স্থানে কলকাতা পুলিশের ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্টের অ্যান্টি হিউম্যান ট্র্যাফিকিং ইউনিট আর স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের হাতে ধরা পড়ে ৫৪ জন বিউটি পার্লারের আড়ালে দেহ ব্যাবসা করার অভিযোগে।

আর এবার ২৯শে মে, ২০১৮ মঙ্গলবার অভিযোগ উঠলো খোদ ব্যারাকপুরের লাট বাগানে পুলিশ আবাসনে। ২৩/১ নম্বর ফ্লাটের মধ্যে থেকে আবাসিক পুলিশ কর্মীদের হাতে ধরা পড়ে এক তরুণ ও তরুণী, অবশ্য আবাসিকদের অভিযোগ আরও দুইজন ছিল এই জুটির সাথে যারা পুলিশ দেখে পালিয়ে যায়। এই ঘটনায় আবাসিকদের অভিযোগ ২৩/১ নম্বর ফ্ল্যাটে বছর খানেক ধরেই চলছে এই অসাধু চক্র। আবাসিকদের অভিযোগ আবাসনের এই ২৩/১ ঘরটি ক্লাব ঘরে পরিণত করেছে এই ফ্ল্যাটের আবশ্যিক সুমিত সাহা (২৬) নামে এক যুবক। এই সুমিত হলো ২৩/১ নম্বর ফ্ল্যাটটি যে পুলিশ কর্মীর নামে পঞ্জীকৃত হয়ে রয়েছে তার পালিত পুত্র। অবশ্য ঐ পুলিশ কর্মী বর্তমানে আসানসোল-দুর্গাপুর কমিশনারেটে কর্মরত। আবাসিকদের আরও অভিযোগ সুমিত রাতের দিকে প্রায়ই বিভিন্ন বয়সী মহিলা, পুরুষকে জড়ো করে রাতভোর জুয়া ও মদের আসর বসায়। আবাসনের নিরাপত্তার কোন সুব্যাবস্থা নেই বলেই এই কারবার চলেছে দীর্ঘ দিন ধরে বলে তাদের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ঐ আবাসনের আবাসিক পুলিশ কর্মীরা। এমনকি ইতিমধ্যেই ওই আবাসনের আবাসিক পুলিশ কর্মীরা যৌথভাবে লিখিত অভিযোগও জানিয়েছে ডি.আই.জি ও বিগেড অ্যাকোমোডেশন অফিসার এবং ব্রিগেড সিকিরিউটি অফিসারের কাছে। এই মর্মে একটি অভিযোগ তারা জমা দেন ব্যারাকপুর থানাতেও।

প্রসঙ্গত মঙ্গলবার অর্থাৎ ২৯শে মে – র রাতেও ২৩/১ নম্বর ঘরে একই ভাবে তিন জন ছেলে মেয়ে জড়ো হয়েছিল বলে অভিযোগ তবে পুলিশ দেখেই দুজন পালিয়ে যায়। এই দিনও নাকি সুমিত নিজে হাজির ছিলেন ঘটনাস্থলে। এদের মধ্যে একটি ছেলে ও একটি মেয়ে অবশ্য ধরা পড়ে যায় আবাসিকদের হাতে। ঘটনাস্থলে খবর পেয়ে হাজির হয়ে ব্যারাকপুর থানার পুলিশ ও এই দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদের ফলে জানা যায় মেয়েটি আদতে পলতার বাসিন্দা ও নবম শ্রেণীর ছাত্রী কিন্তু ছেলেটি স্থানীয় এলাকারই বলে জানা যায়। কিন্তু কোন অজানা জিনের দাক্ষিণ্যে ব্যারাকপুর থানার পুলিশ এই যুবক ও যুবতীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পড়েই তাদের ছেড়ে দেয় বলে অভিযোগ।

Related Articles

Stay Connected

0FansLike
3,533FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles