৩১ মে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস

Spread the love
  • 125
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    125
    Shares

অরিন্দম রায় চৌধুরী, ব্যারাকপুরঃ

আজ ৩১ মে বৃহস্পতিবার, বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস। ১৯৮৮ সাল থেকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বিশ্বজুড়ে তামাকের ব্যবহার কমানোকে উৎসাহিত করার জন্য তামাকমুক্ত দিবস পালন করে আসছে।

প্রতি বছরের ন্যায় ২০১৮ -র এই দিনটিতে বিশ্ব জুড়ে বিভিন্ন স্থানে পালন করা হয় বিশ্ব তামাক মুক্ত দিবস। বিশ্বজুড়ে ২৪ ঘন্টা সময়সীমা ধরে তামাক সেবনের সমস্ত প্রক্রিয়া থেকে বিরত থাকাতে উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে দিবসটি প্রচলিত হয়েছে। এছাড়াও দিবসটির উদ্দেশ্যে তামাক ব্যবহারের ব্যাপক প্রাদুর্ভাব এবং স্বাস্থ্যের নেতিবাচক প্রভাবের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ যা বর্তমানে প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী প্রায় ৬০ লক্ষ মানুষের মৃত্যুর কারণ হিসেবে বিবেচিত এবং যার মধ্যে ধুমপানের পরোক্ষ ধোঁয়ার প্রভাবের কারণে প্রায় ৬০০,০০০ অ-ধুমপায়ী ক্ষতিগ্রস্থ হবার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশ্বের নানা দেশে ও ভারত বর্ষের নানা রাজ্যের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গেও এই দিনটিকে নানা স্থানে পালন করা হলো যার থেকে বাদ গেল না ব্যারাকপুর মহকুমাও। ব্যারাকপুরের প্রাণকেন্দ্র চিড়িয়ামোড়ে এই দিনটিকে পালন হলো মন্ত্রা লাইফস্টাইল হেলথ ক্লাব ও ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের যৌথ প্রয়াসে। এইদিন ব্যারাকপুর চিড়িয়ামোরের ট্র্যাফিক গার্ডের পাশেই সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে একটি অনুষ্ঠান যেখানে মন্ত্রা লাইফস্টাইল হেলথ ক্লাবের পক্ষ থেকে সংস্থা নির্দশক শুভব্রত ভট্টাচার্য  প্রথমেই বরণ করে নেয় মঞ্চে উপস্থিত ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের তরফ থেকে আগত টিটাগড় থানার অধিকর্তা শঙ্কর চৌধুরী, ব্যারাকপুর থানার অধিকর্তা দেবনাথ সাধুখান, ব্যারাকপুর ট্র্যাফিক গার্ডের কেন্দ্রীয় অধিকর্তা রাজেশ মন্ডল, স্থানীয় ব্যারাকপুর ট্র্যাফিক গার্ডের অধিকর্তা বিজয় ঘোষ ও ব্যারাকপুর চিড়িয়ামোড় ট্র্যাফিকের অফিসার কাঞ্চন বিশ্বাস।


এই দিন উদ্যোগতাদের এই দ্বিতীয় বর্ষের অনুষ্ঠানে মন্ত্রা লাইফস্টাইল হেলথ ক্লাবের রিজিওনাল ম্যানেজার প্রসেঞ্জিৎ সেন পথ চলতি মানুষদের তামাকের সেবনের খারাপ দিক বুঝিয়ে শপথ করান তামাকহীন বিশ্ব গড়ে তোলার জন্য। এই একই মঞ্চে হাজির ছিলেন মন্ত্রা লাইফস্টাইল হেলথ ক্লাবের ব্যরাকপুর শাখার প্রবন্ধক চৈতি মণ্ডলও। এই দিন সকালের অনুষ্ঠানে মন্ত্রা লাইফস্টাইল হেলথ ক্লাবের সকল সদস্যের উদ্বিপনা ছিল চোখে পড়ার মত। তাদের বার বার পথ চলতি মানুষদের বোঝাতে দেখা গেল, “তামাক সেবন ও ধূমপান স্বাস্থ্যের পক্ষে কতটা ক্ষতিকর, তারই একটা চিত্র উঠে এসেছে ভারতের সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায়।”

এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ফিজিওথেরাপিস্ট ডাঃ প্রদীপ চক্রবর্তী বলেন, “বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুসারে বিশ্বে, যার মধ্যে প্রায় ছয় লাখ মারা যায় পরোক্ষ ধূমপানের কারণে। তামাক ব্যবহারকারী ও ধূমপায়ীদের মধ্যে ৮০ শতাংশ বাস করেন নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলোতে। এর পরও বিশ্বজুড়ে ধূমপান ও তামাক ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে।” তিনি বেশ আক্ষেপের সুরে বলেন, “আমাদের দেশে তরুণদের মধ্যে শুধুমাত্র স্টাইলের জন্যেই তারা ধূমপানের সাথে জড়িয়ে পড়ছে যা কাম্য নয়।” ডাঃ চক্রবর্তী অবশ্য এই তরুণদের উদ্যেশে বলেন, “যদি স্টাইলই করতে হয়ে অন্য কোন ভাবে নিজেকে স্মার্ট করে তুলুক কিন্তু ধূমপান কখনই নয়।” তিনি সকলের উদ্যেশে সাবধান বানী শোনান, “এখনই এই বিষয় জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ২০৩০ সাল নাগাদ বিশ্বে তামাকজনিত কারণে প্রতিবছর মারা যাবে প্রায় ৮০ লাখ মানুষ। এতো কিছুর পরও কেন মেয়েরা ধুমপানে আগ্রহী হচ্ছে! অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বন্ধুদের পীড়াপীড়ি আবার অনেক সময় পারিবারিক সমস্যা থেকেও, কিশোর কিশোরীরা ধূমপানে আগ্রহী হয়।”


উল্ল্যেখ, তামাক সেবন প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যুর এক বৃহত্তম কারণ৷ বর্তমানে বিশ্বে ১০ জনের মধ্যে একজন মারা যায় এই কারণে৷ তামাক সেবন বা চিবানো, ধূমপানের চেয়েও বেশি বিপজ্জনক। বিশ্ব তামাক মুক্ত দিবস বা ‘ওয়ার্ল্ড নো-টোবাকো ডে’-র ঠিক আগে ভারতের এক সমীক্ষায় যেসব তথ্য পাওয়া গেছে, তাতে দেখা গেছে যে, কলকাতা শহরের অর্ধেকেরও বেশি ক্যানসার রোগী ধূমপায়ীদের তুলনায় গুটখা, খৈনি, পান মসলা সেবনকারী। শহরের ৭০ শতাংশ তামাকসেবীদের বয়স ৩৫-এর নীচে৷ সবথেকে উদ্বেগের কথা, নিয়মিত তামাক বা তামাকজাত দ্রব্য সেবনজনিত কারণে মাথা ও ঘাড়ের ক্যানসারে আক্রান্তদের গড় বয়স কমে গিয়ে দাঁড়িয়েছে ২৫ বছর।

এই ক্ষেত্রে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ধূমপানের চেয়ে তামাক সেবনের প্রবণতা বাড়ার কারণ কী? সমাজসেবীদের মতে, তামাক সস্তায় ও সর্বত্র পাওয়া যায়৷ আর এটা খাওয়াতে এমনিতে কোনো বিধিনিষেধ নেই, যে কোনো জায়গায় খাওয়া যায়। যেমন সিনেমা হলে, অডিটোরিয়ামে, সফরকালে, কর্মস্থলে, বাসে-ট্রেনে যত্রতত্র।

তাই তামাক সেবন যদি বন্ধ করা যায়, তাহলে মাথা ও ঘাড়ের ক্যানসারের হার বর্তমানের ৪৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ করা যায়৷ গুটখা, খৈনি ও পান মসলা বিক্রির ওপর বিধিনিষেধ থাকা সত্ত্বেও এর বিক্রি বন্ধ হয়নি মোটেও৷ সমীক্ষার পরিসংখ্যান বলছে ধূমপায়ীদের তুলনায় তামাকজাত দ্রব্য সেবনের হার ক্রমশই বাড়ছে। পশ্চিমবঙ্গে দু’জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে একজন তামাকসেবী৷ পাঁচজন মহিলার মধ্যে একজন তামাক খান। এক দশক আগে মাথায়, গলায় ও ঘাড়ে ক্যানসারের জন্য দায়ী করা হতো ধূমপানকে। গত সাত বছর থেকে নেশার এই প্রবণতায় পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে।

তামাকজাত দ্রব্যের নেশা শুরু হয় ১৮ থেকে ১৯ বছরে। এদের মধ্যে অর্ধেক ঘুম থেকে ওঠার আধ ঘণ্টার মধ্যে নেশার টান অনুভব করে। যদিও এদের ৮৫ শতাংশ জানেন যে তামাক বা ধূমপানে ক্যানসার হয়। তবু তাঁরা নেশা ছাড়তে পারেন না যতদিন তা সহজলভ্য থাকবে।

প্রসঙ্গত এই ক্ষেত্রে তামাক বা ধূমপানের নিষেধাজ্ঞা বলবৎ করা হচ্ছে কিনা – সেদিকে কড়া নজরদারি৷ এর সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে তামাক উৎপাদনও। এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত করার কাজ হাতে নিয়েছে ভারতের স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় কয়েকটি এনজিও। উল্লেখ্য ভারতে তামাক ও সিগারেট কোম্পানিগুলি বিজ্ঞাপনের খরচ করে থাকে কোটি কোটি টাকা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০০৮ সালে প্রকাশিত তথ্য মতে, ভারতের প্রতি দশজন মহিলার একজন ধূমপান বা তামাক গ্রহণ করে থাকেন। যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের পর ভারতের অবস্থান তামাক গ্রহণের দিক দিয়ে বিশ্বে তিন নম্বর। বিশাল সংখ্যার এই নারী ধূমপায়ীর মধ্যে ২০ শতাংশ আবার তাদের জীবনে প্রথম তামাকের স্বাদ নেন, ১০ থেকে ১২ বছর বয়সে। উল্লেখ্য ভারতের বড় শহরগুলোতে নারী ধূমপায়ীর হার সবচেয়ে বেশি।

সম্পর্কিত সংবাদ