ফুল চুরির অপবাদে বৃদ্ধা শাশুড়িকে মারধর, গ্রেফতার বৌমা

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ওয়েবডেস্ক, বেঙ্গল টুডেঃ

দক্ষিণ কলকাতার বোড়াল এলাকার যশোদা পালের বয়স হয়েছে। কোমর বেঁকে গিয়েছে। কিন্তু ফুল তোলার নেশা যায়নি বয়স্ক মানুষটার। ভোর হলেই ঘুম ভেঙে যায়। ঘুম ভাঙলে কেবল মনে হতে থাকে ফুলগুলো গাছে ফুটে রয়েছে। সেগুলো তুলে আনতে হবে। ঈশ্বরের চরণে অর্পণ করতে হবে। চিরকালের অভ্যাস। বুড়ো বয়সেও তা ছাড়তে পারেননি বোড়ালের যশোদা পাল। আর এই অপরাধেই তাঁকে বউমার হাতে বেধড়ক মার খেতে হল। পাশাপাশি পেতে হল ফুলচোরের অপবাদ। আর এই ঘটনাই দেখতে পেয়ে এক প্রতিবেশীর ক্যামেরায় উঠে আসে দৃশ্যটি। তিনিই সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলে ধরেন এই মর্মান্তিক দৃশ্যটি। বিষয়টি ভাইরাল হতে সময় লাগেনি। সাথে সাথে প্রায় ২৫ হাজার শেয়ার হয়। বৃদ্ধাকে উদ্ধার করার জন্য একের পর এক আরজি সোশ্যাল মিডিয়া মারফত যেতে থাকে কলকাতা পুলিশের কাছে।

অপরদিকে বাঁশদ্রোণী থানার সার্জেন্ট শুভ্র চক্রবর্তীর নজরে আসে ভিডিওটি। তিনি জানান ওসিকে। সোশ্যাল মিডিয়ার মারফত পেলেও এ ঘটনার তদন্ত শুরু করে পুলিশ। খোঁজ শুরু হয়। জানা যায়, বাঁশদ্রোণী থানা এলাকাতেই বাড়ি মহিলার। নাম যশোদা পাল। আর তাঁর বউমার নাম স্বপ্না পাল। অ্যামনেশিয়া রোগে আক্রান্ত বৃদ্ধা। স্বামীর মৃত্যু হয়েছে কয়েক বছর আগে। তার পর থেকেই এভাবে শারীরিক ও মানসিক নিগ্রহ রোজনামচা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়া মারফত খবর পেয়েই ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ। ৩০ শে মে বিকেল ৫ টা নাগাদ স্বপ্না পালকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

প্রসঙ্গত, বয়সের জোরে বাড়ির বয়স্কদের উপর অত্যাচারের ঘটনা নতুন নয়। এমন ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়াতেও উঠে আসে। কখনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়, কখনও নেওয়া হয় না। যশোদা দেবী মুক্তির রাস্তা দেখতে পেয়েছেন কলকাতা পুলিশের সৌজন্যে। তবে এর জন্য সোশ্যাল মিডিয়ারও সাধুবাদ প্রাপ্য বলে মনে করেন অনেকে। কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকেও নেটিজেনদের প্রশংসা করা হয়েছে।

সম্পর্কিত সংবাদ

Leave a Comment