ঝাড়গ্রাম শহর এলাকায় মিললো ট্যারেনটুলা

Share Bengal Today's News
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সন্দীপ ঘোষ, ঝাড়গ্রাম:

শহরতলি থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম কোন মতেই পিছু ছাড়ছে না ট্যারেনটুলা আতঙ্ক। বরং ক্রমশ জোরালো হচ্ছে এই আতঙ্ক। গ্রামের পর এবারে খোদ ঝাড়গ্রাম শহরে পাওয়া গেলো সেই বিষাক্ত মাকড়সা ট্যারেনটুলা। যার ফলে আতঙ্ক আরও বেশি করে গ্রাস করছে সাধারন মানুষজনকে। ঝাড়গ্রাম জেলার বিভিন্ন ব্লকে একের পর ট্যাররেনটুলা উদ্ধার হওয়ায় গোটা জেলা জুড়ে শুরু হয়েছে ট্যারেন্টুলা আতঙ্ক। প্রায় রোজ দিনেই জেলার কোনও না কোনও অংশে পাওয়া যাচ্ছে এই বিষাক্ত মাকড়সা। এতদিন ধরে নয়াগ্রাম, গোপীবল্লভপুর, জাম্বনী, চন্দ্রীর জঙ্গল এলাকায় ও সুবর্ণরেখা নদী তীরবর্তী সংলগ্ন গ্রাম গুলিতে পাওয়া গেলেও এবারে জেলা শহরে বিষাক্ত মাকড়সার আতঙ্ক। ২৮শে মে সন্ধ্যায় শহরের পুরাতন ঝাড়গ্রামের এক গৃহস্থের বাড়ীতে দেখতে পাওয়া যায় বিষাক্ত মাকড়সা।

এদিন সন্ধ্যায় পুরাতন ঝাড়গ্রামের বাসিন্দা ঊষা সিংহের বাড়ীর সবাই যখন গৃহস্থের কাজে ব্যাস্ত ওই সময় বাড়ীর ছেলে মেয়েরা পড়াশুনা করছিল। হঠাৎ করে তারা বাড়ীর মধ্যে বিষাক্ত মাকড়সাটিকে দেখতে পায়। বাচ্চাদের চিৎকার চেঁচামেচিতে বাড়ীর অন্যান্য সদস্যরা ছুটে এসে দেখতে বাড়ীর মধ্যে ঘুরাঘুরি করছে বিষাক্ত মাকড়সাটি। এরপরে সাথে সাথে বাড়ীতে থাকা কীটনাশক দিয়ে বিষাক্ত মাকড়সাটিকে মেরে ফেলেন বাড়ীর লোকজনেরা। তারপর থেকে ব্যাপক আতঙ্কের মধ্যে নিশিযাপন করেন পরিবারের লোকজনেরা। ইতিমধ্যে পাশ্ববর্তী পূর্ব মেদিনীপুর জেলার এগরার বাসিন্দা এক যুবক বিষাক্ত মাকড়সার কামড় খেয়ে মৃত্য হয়েছে।

অন্যদিকে ঝাড়গ্রাম জেলার নয়াগ্রামের রাজপাহাড়ী গ্রামের বাসিন্দা যশোদ জানা ট্যারানটুলা নামক বিষাক্ত মাকড়সার কামড় খেয়ে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা চলছে হাসপাতালে। উল্লেখ্য সাম্প্রতি গত দু মাসে আগে সাঁকরাইল ব্লকের বিভিন্ন জায়গায় এই অদ্ভুত ধরনের মাকড়া পাওয়া যাচ্ছিল। অনেক জায়গায় গ্রামবাসীরা মাকড়সা গুলিকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে। আবার কোথাও বা বনদফতরের হাতে তুলে দিয়েছে। এছাড়াও পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরা, খড়্গপুর, এমনকি মেদিনীপুর শহরের মধ্যেও পাওয়া যাচ্ছে এই বিষাক্ত মাকড়সা। আর যার জেরেই চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হচ্ছে মানুষের মনে।

এবিষয়ে ঝাড়গ্রামের এডিএফও সমীর মজুমদার বলেন, ট্যারানটুলা কোনও বন্যপ্রাণীর মধ্যে পড়ে না। তাই সেভাবে কোনও স্পেশাল অভিযানের ব্যাবস্থা আমরা করতে পারবো না। অনেক সময় মানবিক দিক থেকে কিছু কাজ করে থাকি। কেউ যদি মাকড়সাটিকে ধরে নিয়ে আসে সেক্ষেত্রে আমরা পরীক্ষা করতে পাঠাই এবং দেখেছি তার মধ্যে বেশির ভাগেই ট্যারানটুলা ছিল। তবে যাই হোক সে ভাবে ভয় এর কোনও কারণ নেই। এই গ্রীষ্মের সময় বিষাক্ত মাকড়সা গুলির দেখা পাওয়া যায়। একটু সচেতনার সঙ্গে সাবধানে থাকলে ভয়ের কিছু। আর আতঙ্ক পাওয়ার কিছু নেই। এই সব মাকড়সা গুলি পাশাপাশি অর্বজনা থেকে বেশি আসে। তাই বাড়ীর চারপাশের অর্বজনা রাখা চলবে না। পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

সম্পর্কিত সংবাদ