ঝাড়গ্রামে আদিবাসী অধ্যুশিত এলাকায় মানুষজনের হাতের কাছে চিকিৎসা পরিষেবা পৌছে দিতে পাশে দাঁড়াল স্থানীয় ক্লাব

ঝাড়গ্রামে আদিবাসী অধ্যুশিত এলাকায় মানুষজনের হাতের কাছে চিকিৎসা পরিষেবা পৌছে দিতে পাশে দাঁড়াল স্থানীয় ক্লাব

সন্দীপ ঘোষ, ঝাড়গ্রাম:

ঝাড়গ্রামের শবর আদিবাসী এলাকার মানুষজনেরা শারীরিক কোন সমস্যা হলেও প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে যান না হাসপাতালে। দারিদ্র এই মানুষ গুলি ডাক্তার খানায় যেতেও অসচ্ছন্দ বোধ করেন। তাদের এই অসুবিধা দূর করতে শবর পাড়া এলাকায় দাতব্য ডাক্তারখানা খোলার উদ্যোগ নিল স্থানীয় যুবকেরা। আর হাতের কাছে চিকিৎসক পেয়ে রীতিমত খুশির ছোঁয়া শবর পাড়ায়।

২৮ শে মে এলাকার মানুষদের পাশে দাঁড়াতে ঝাড়গ্রাম শহরের ১ নম্বর ওয়ার্ডের শিরিস চক এলাকায় আদিবাসী, শবর পরিবার গুলির জন্য একটি দাতব্য চিকিৎসক বসানোর উদ্যোগ নেয় স্থানীয় কদমকানন ইউনাইটেড ক্লাবের তরুন সদস্যরা। এরপর থেকে সপ্তাহে প্রতি শনিবার বিকেলে ২ ঘন্টার জন্য চিকিৎসক বসবেন এবং বিনা মূল্যে চিকিৎসা করবেন। এদিন শিরিস চক প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন একটি ঘরে ফিতা কেটে চিকিৎসা পরিষেবা কেন্দ্রটির উদ্বোধন হয়। হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক ভোলানাথ চক্রবর্ত্তীর ছাত্র এবং রাজস্থানের ক্ষেত্রি রামকৃষ্ণ মিশনের প্রাক্তন চিকিৎসক আশিস কুমার কুন্ডু এদিন দাতব্য কেন্দ্র প্রথম চিকিৎসা শুরু করেন। এদিন এলাকার অনেক মহিলা, শিশু, পুরুষ সকলে বিভিন্ন শারীরিক অসুবিধা নিয়ে চিকিৎসকের কাছে দেখান। বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা দিতে পেরে খুশি বলে জানিয়েছেন ওই চিকিৎসক।

চিকিৎসক আশিস কুমার কুন্ডু বলেন, “আমার মায়ের অনুপ্রেরনা আমাকে এই বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা দিতে অনুপ্রানিত করেছে। আমার ভালো লাগছে দরিদ্র মানুষ গুলিকে পরিষেবা দিতে পেরে।” প্রথম দিনই চিকিৎসা পরিষেবা নিতে এলাকার বহু মানুষ হাজির হয়েছিলেন। ঝার্না নায়েক বলেন,” আমরা এবার হাতের কাছে চিকিৎসক পেলাম। আগে এখেনে তা ছিল না। কিছু অসুবিধা হলেও হাসপাতাল ছাড়া উপায় ছিল না। সব সময় হাসপাতাল যেতেও পারিনা। এখন দোর গোড়ায় চিকিৎসক পেলাম। আমার সবাই খুশি। পাড়ার এই সব ছেলে গুলোর জন্যই এটা সম্ভব হল।” খুশিতে ডক মগো সুকান্ত মল্লিক, মালতি নায়েক, বিনয় হেমরমরা। এদিন দাতব্য কেন্দ্রর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন উপলক্ষে উপস্থিত ছিলেন কবি শাশ্বতী হোসেন।

কদমকানন ইউনাইটেড ক্লাবের সম্পাদক প্রান্তীক মৈত্র বলেন, “এলাকার শবর, আদিবাসী দরিদ্র মানুষ গুলি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই চিকিৎসার প্রয়োজন হলেও চিকিৎসকের কাছে চান না। আমরা ক্লাবের পক্ষ থেকে একজন চিকিৎসক বাসানোর উদ্যোগ নিয়েছি। এদিন তার সুচনা হল। সপ্তাহে একদিন করে বিনা মূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা পাবেন দরিদ্র মানুষ গুলি। আমাদের লক্ষ যাতে এই সব মানুষ গুলি কম করে প্রাথমিক চিকিৎসাটুকু পায়। আগামীতে আমরা আরো কয়েক জন চিকিৎসককে আনার চেষ্টা চালাব”।

You May Share This
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *