বাংলাদেশে বাবা-মা হত্যা : ঐশীর রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল

Share Bengal Today's News
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মিজান রহমান, ঢাকা:

রাজধানীর শান্তিনগরের নিজ ফ্ল্যাটে স্ত্রী সহ পুলিশের পরিদর্শক মাহফুজুর রহমান হত্যা মামলায় তাঁদের মেয়ে ঐশী রহমানকে মৃত্যুদন্ড কমিয়ে হাইকোর্টের যাবজ্জীবন কারাদন্ডের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল দায়ের করেছে। আপিলের বিষয়টি ২৮ শে মে সোমবার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে এডভোকেট অন-রেকর্ড সুফিয়া খাতুন। আপিলে ঐশীর মৃত্যদন্ড চাওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। গত বছর ২২ অক্টোবর ৭৮ পৃষ্ঠায় দেওয়া পূর্ণাঙ্গ হাইকোর্ট রায় প্রকাশ করেন রায় প্রদানকারী বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ। ঐশী রহমানের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের রায়ে বিচারক আদালতের দেওয়া মৃত্যুদন্ড কমিয়ে গত ৫ ই জুন যাবজ্জীবন কারাদন্ডাদেশ দিয়ে সংক্ষিপ্ত রায় ঘোষণা করে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে বিচারক আদালতের দেওয়া জরিমানা ২০ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ৫ হাজার টাকা করা হয়। ঐশীর মানসিক অসুস্ততা, মাদকাসক্ত, পারিবারিক ইতিহাস, সর্বোপরি বয়স বিবেচনা করে এ রায় দেওয়া হয় বলে উল্লেখ করা হয়।

প্রসঙ্গগত পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (পলিটিক্যাল শাখা) পরিদর্শক মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী স্বপ্না রহমান হত্যা মামলায় ১২ ই নভেম্বর নিহতদের একমাত্র মেয়ে ঐশী রহমানকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ড দেয় ঢাকার ৩ নম্বর দ্রু বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক সাঈদ আহমেদের আদালত। রায়ে ঐশীকে মৃত্যুদন্ডের পাশাপাশি ২০ হাজার টাকা জরিমানা ও জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছর কারাদন্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়। মামলার অন্য আসামি ঐশীর বন্ধু মিজানুর রহমান রনিকে খুনের ঘটনার পর ঐশীদের আশ্রয় দেওয়ার অপরাধে ২ বছরের কারাদন্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাকেও আরও একমাস কারাদন্ড ভোগ করতে হবে। অপর আসামি ঐশীর বন্ধু আসাদুজ্জামান জনি খালাস পেয়েছেন। এমনকি ২ টি খুনের জন্য পৃথক ২ টি অভিযোগ গঠন করে ট্রাইব্যুনাল। ২ টি অপরাধের জন্য আলাদা আলাদা করে ঐশীকে ফাঁসি ও মোট ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ফৌজদারি আইন অনুযায়ী বিচারক আদালত ঘোষিত ফাঁসির রায় কার্যকর করতে হলে হাইকোর্ট বিভাগের অনুমতি নিতে হয়।

উল্লেখ্য ২০১৩ সালের ১৬ আগস্ট বাংলাদেশের রাজধানীর মালিবাগের চামেলীবাগে নিজেদের বাসা থেকে মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী স্বপ্না রহমানের ক্ষত-বিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এর পরদিন ঐশী গৃহকর্মী সুমীকে নিয়ে রমনা থানায় আত্মসমর্পণ করেন। গত বছরের ৯ মার্চ ডিবির ইন্সপেক্টর আবুয়াল খায়ের মাতুব্বর ঢাকার সিএমএম আদালতে ঐশী সহ ৪ জনকে অভিযুক্ত করে পৃথক চার্জশিট দাখিল করেন।

সম্পর্কিত সংবাদ