অতিরিক্ত পনের দাবীতে শ্বাস রোধ করে খুন নব গৃহবধুকে, গ্রেফতার স্বামী

Share Bengal Today's News
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শান্তনু বিশ্বাস, বসিরহাট:

১৭ ই ফেব্রুয়ারি বসিরহাটের মিনাখাঁ থানার অন্তর্গত জয়গ্রাম গ্রামে এক গৃহবধূকে অতিরিক্ত পনের দাবীতে শ্বাস রোধ করে খুন করার অভিযোগ ওঠে গৃহবধূর শ্বশুরবাড়ীর বিরুদ্ধে। গ্রেফতার করা হয় গৃহবধূর স্বামীকে। মূলত এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

সুত্রের খবর, বিগত ৩০ নভেম্বর দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার ছোট মোল্লা খালি থানার পুঁইজালী গ্রামের সুচিত্রা পাত্রের মেয়ে সুদেবী পাত্র(২২) এর বিয়ে হয় মিনাখাঁর জয়গ্রাম গ্রামের প্রভঞ্জন মণ্ডলের ছেলে সোমনাথ মণ্ডলের(৩২) সঙ্গে। বিয়ের সময় চাহিদা মতো সব পন দেওয়া হয়েছে বলে জানান মেয়ের বাড়ির পক্ষ থেকে। অভিযোগ, বিয়ের কয়েক দিন পর থেকে আরো কিছু জিনিস পত্র ও নগদ টাকা দাবী করে সোমনাথ মণ্ডল। এমনকি সুদেবী পাত্রের বাড়ি থেকে অতিরিক্ত পন না দিতে পারায় পেশায় স্থানীয় মালঞ্চের একটি প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক সোমনাথ মণ্ডল তাঁর উপর শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার করতে থাকেন।

এছাড়া তারা আরও বলেন, সুদেবী পাত্রেকে ফোন ব্যবহার করতে দিতো না শ্বশুর বাড়ীর লোকেরা। তাই সে প্রতিবেশীর বাড়তি গিয়ে লুকিয়ে ফোন করে শ্বশুর বাড়ীর লোকেদের অত্যাচার এর কথা তাঁর মাকে জানাতো। এর দরুন মেয়ের উপর অত্যাচারের কথা শোনার পর সুচিত্রা দেবী জামাই সোমনাথকে অনেক বার বোঝানোর চেষ্টা করেন কিন্তু তাতেও কোন লাভ হয়নি। অবশেষে ঘটনার দিন সকালে সোমনাথ ফোনে জানায় যে ‘আপানাদের মেয়ে অসুস্থ আপনারা আসুন’। কিন্তু তারা এসে মিনাখাঁ হাসপাতাল সুদেবীর নিথর দেহ দেখতে পান বলে জানান।

এক্ষেত্রে সুদেবীর মেসো বলেন, “আমার ভাগ্নীকে ওরা অতিরিক্ত পনের জন্য শ্বাসরোধ করে খুন করেছে, খুন করে বলছে যে আমার ভাগ্নী গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে, কিন্তু গলায় দড়ি দেওয়ার কোণো চিহ্ন দেখতে পায়নি আমারা।”

অপরদিকে সোমনাথ এর বাড়ীর লোকেদের পাল্টা দাবী, ওই মেয়ে খুব জেদী ছিলো, কারোর কথা শুনতো না,আমার ছেলে টিউশন পড়াচ্ছিলো সেই ফাঁকে গলায় ওড়না দিয়ে আত্মহত্যা করে। বর্তমানে এই গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছেন পুলিশ এবং অভিযুক্ত সুবেদীর স্বামীকে গ্রেফতার করেন পুলিশ।

সম্পর্কিত সংবাদ