মিলনবীথি ক্লাবের উদ্যোগে পর্বতারোহী গৌতম ঘোষের স্মৃতিতে রক্তদান শিবির ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবিরের আয়োজন

Spread the love
  • 90
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    90
    Shares

অরিন্দম রায় চৌধুরী, ব্যারাকপুরঃ

কিছুই নেয় না সমুদ্র। সবই ফিরিয়ে দেয়। পাহাড় কি দেয় না? পাহাড়ের রাজা হিমালয় কি অন্তত ফিরিয়ে দেবে না তার ছেলেকে? একসময় বৃষ্টি নামলেই চমকে চমকে উঠতেন বৃদ্ধা। বিড়বিড় করে বলতেন, ‘‘ছেলেটা একা বাইরে ভিজছে যে…!’’ পাহাড়ের উপরে পরম বিশ্বাস থেকে কখনও আবার বলে উঠতেন, ‘‘গত বার দুর্যোগে ফিরতে পারেনি ছেলে। এ বার একেবারে শৃঙ্গ ছুঁয়ে আসবে।’’ ৭৫ বছরের বৃদ্ধা মাকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা হারিয়েছিল পরিবার। কারণ তখন তারাও জানতেন না, ছেলে ফিরবেন কি না। তাদেরও জিজ্ঞাস্য ছিল, মৃতদেহটুকুও কি ফেরত দেবে না হিমালয়?

উল্লেখ্য গত ২১ মে ২০১৬ থেকে এভারেস্ট অভিযানে গিয়ে নিখোঁজ হয়ে যান কলকাতা পুলিশের কর্মী গৌতম ঘোষ। গত ২০১৭-এ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সহযোগিতায় গৌতমবাবুর দেহ উদ্ধার করা হয়। এক বছরের উৎকণ্ঠার পর অবশেষে ভারতীয় পর্বতারোহীর মরদেহ হিমালয়ের এভারেস্ট শৃঙ্গ থেকে উদ্ধার করা যায়। সেই সময় একটি ট্র্যাকিং কোম্পানির সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সময় বিকেল পাঁচটায় এভারেস্টের ২নং ক্যাম্প থেকে নিহত পর্বতারোহী গৌতম ঘোষের দেহ কাঠমুন্ডু নিয়ে আসা হয়েছিল। অন্য অভিযাত্রীদের কাছ থেকে জানা গিয়েছিল, শৃঙ্গের নীচে বরফ আচ্ছাদিত খাঁদের মধ্যে তার দেহ আটকে ছিল। আবহাওয়া অত্যন্ত খারাপ থাকায় এতোদিন দেহ খানি নামানো যায়নি।

আর এর পর থেকেই ব্যরাকপুরে গৌতম ঘোষের স্বরনে শুরু হয় রক্তদান শিবির। এই বছর অর্থাৎ ২০১৮ সালে রক্তদান শিবিরে রক্ত দেন দ্বিশতাধীক রক্তদাতা। এই রক্তদান শিবিরে রক্তদাতাদের উৎসাহ দিতে উপস্থিত হন পর্বতারোহী শ্যামল সরকার, সঞ্জয় দাস, সপ্না চৌধুরী, অনীক চট্টোপাধ্যায়, সুনীতা হাজরার মতন ব্যাক্তিত্বরা, হাজির ছিলেন প্রাক্তন ফুটবলার সুব্রত ভট্টাচার্য, চিন্ময় চট্টোপাধ্যায়, কবীর বসু,জগদীশ ঘোষ, প্রবীর দাস,সহ ব্যারাকপুর পৌরসভার পৌরপ্রধান উত্তম দাস,উপ পৌরপ্রধান দেবাশীষ ঘোষদস্তিদার, পৌরপারিষদ সুপ্রভাত ঘোষ, রাজা পাসোয়ান,স্হানীয় পৌরপিতা প্রনব ভট্টাচার্য ॥

ব্যারাকপুর যে কোনদিনই এই পর্বতারোহীকে ভুলতে পারবে না তা এই গ্রীষ্মকালীন রক্তসঙ্কটের সময় এহেন রক্তদান শিবিরই তার প্রমাণ।

সম্পর্কিত সংবাদ

Leave a Comment