Monday, August 8, 2022
spot_img

নিপা ভাইরাস : সতর্কতা জারি রাজ্যে

শর্বাণী দে, বেঙ্গল টুডেঃ

নিপা ভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে রাজ্যে জারি হল হাই অ্যালার্ট। সরকারি, বেসরকারি সব হাসপাতাল, নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত কোনও রোগী হাসপাতালে ভর্তি হলে বিষয়টিকে দ্রুততার সঙ্গে গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। চিকিৎসার পাশাপাশি রোগী যে এলাকা থেকে এসেছে সেখানে নজরদারি বাড়াতে হবে।

কেরলে নিপা ভাইরাসের প্রকোপে ইতিমধ্যে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরপরই নড়েচড়ে বসেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। উল্লেখ্য, ২০০১ সালে ভারতের মধ্যে প্রথম, শিলিগুড়িতে এই ভাইরাস ছড়ায়। আক্রান্ত হন ৬৬ জন। মৃত্যু হয় ৪৫ জনের। ২০০৭ সালে নদিয়ায় নিপার প্রকোপে মৃত্যু হয় পাঁচজনের। ২০১১ সালে বাংলাদেশে এই রোগে ৫৬ জন আক্রান্ত হন। মৃত্যু হয় ৫০ জনের। আর তাই স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে নজরদারি বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে ।

যদিও নিপার সংক্রমণ নিয়ে অহেতুক ভয় পাওয়ার কিছু নেই বলে জানিয়েছেন কলকাতা পৌরনিগমের মুখ্য স্বাস্থ্য উপদেষ্টা তপনকুমার মুখার্জি। তিনি বলেন, “কেরল ছাড়া ভারতের আর কোনও রাজ্যে আক্রান্তের খবর পাওয়া যায়নি।” তবে, তিনি এও বলেন, “নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর মৃত্যুর হার প্রায় ৭৫ শতাংশ। যা চিন্তার বিষয়। এই রোগ মূলত ভাইরাস ঘটিত। অনেকটা সোয়াইন ফ্লুর মতো। সাধারণত বাদুড়ের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে ছড়ায়। আক্রান্ত প্রাণীদের লালা ও দেহরসের মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়ায়। বাদুড়ে খাওয়া ফল মানুষ খেলেও ছড়াতে পারে ভাইরাস। মানুষ থেকে মানুষের মধ্যেও রোগ ছড়াতে পারে। রোগীর জ্বর, সর্দি, কাশির সঙ্গে সঙ্গে এনসেফ্যালাইটিসও হতে পারে। মস্তিস্কে সংক্রমণ হয়ে রোগী কোমায় চলে যান। মৃত্যুও হতে পারে।”

নিপা ভাইরাস থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য চিকিৎসক ও গবেষক জয়ন্ত ভট্টাচার্য জানান, এই ভাইরাসের প্রতিষেধক আবিষ্কার হয়নি বলেই কার্যত চিকিৎসা নেই। জ্বর, বমি, অচৈতন্য হয়ে পড়ার পর ব্রেন ফিভারে আক্রান্ত হন ব্যক্তি। এরপর কার্যত কোমায় চলে যান তিনি। মৃত্যু হয় তাঁর।

কিভাবে ছড়ায় সংক্রমণ?

চিকিৎসকরা জানান, বাদুর ও শুয়োরের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে ছড়ায় রোগটি। আক্রান্ত প্রাণীদের লালা ও দেহরসের মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়ায়।

কীভাবে বাঁচা যাবে নিপার প্রকোপ থেকে?

এক্ষেত্রে চিকিৎসকরা কাঁচা ফল ও সবজি না খেতে পরামর্শ দিচ্ছেন। চিকিৎসক জয়ন্ত ভট্টাচার্য বলেন, “যেসব ফল আমরা খাই তা গাছে থাকাকালীন অনেক সময়েই বাদুর বা অন্য প্রাণীরা খেয়ে থাকে। ফলে ভাইরাস ওই ফলে থাকতে পারে। তাই ফল ও কাঁচা শাকসবজি না খাওয়াই শ্রেয়। সম্ভব হলে গরম জলে ধুয়ে শাকসবজি রান্না করা উচিত। খেজুর বা গুড় দিয়ে তৈরি খাবার সাময়িক এড়িয়ে যাওয়াই শ্রেয়।”

নিপা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব প্রসঙ্গে বিশিষ্ট চিকিৎসক ও উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজের পরিচালন কমিটির সভাপতি রুদ্র ভট্টাচার্য বলেন, “ফের রোগের প্রাদুর্ভাব কেরালায় হয়েছে। শিলিগুড়িতে আগে বহু মানুষ মারা গিয়েছিলেন। আমরা সতর্ক আছি। শিলিগুড়িতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে একযোগে কী করণীয় তা ভাবা হচ্ছে।”

মেয়র অশোক ভট্টাচার্য বলেন, “মারণ জ্বরের সময় একজোট হয়েই পরিস্থিতির মোকাবিলা করেছিলাম আমরা। ডেঙ্গি নিয়ে বছরভর প্রচেষ্টা চালাচ্ছি। নিপা ভাইরাসের আক্রমণ রুখতে কী করণীয় তা নিয়ে স্বাস্থ্য দপ্তরের নির্দেশিকা এলে তা কার্যকর করব।”

জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক পি আচার্য বলেন, “আমরা সতর্ক রয়েছি। হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ সতর্ক রয়েছে। রোগী হঠাৎ করে জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ব্রেন ফিভারে মৃত্যু হলে জানাতে বলা হয়েছে। এখানকার কেউ আক্রান্ত এলাকায় কোনও কাজে গিয়ে জ্বর নিয়ে ফিরলে দ্রুত জানাতে বলা হয়েছে। সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা প্রস্তুত আছি। আতঙ্কের কিছু নেই।

উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রধান অরুণাভ সরকার বলেন, “২০০১ সালে আমরা এর মোকাবিলা করেছি। যেসব এলাকায় বাদুর ও শুয়োর রয়েছে সেখানে এর প্রাদুর্ভাব দেখা দিতেই পারে। আমরা সতর্ক আছি। কেউ আক্রান্ত হলে তাঁকে পরীক্ষার জন্য আইসোলেটেড ল্যাবরেটরি ও ল্যাব টেকনিশিয়ানদের জন্য বিশেষ পোশাক আমাদের কাছে রয়েছে।”

Related Articles

Stay Connected

0FansLike
3,429FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles