ভালো ফল করে নজির গড়লেন জেলা যুব সভাপতি দেবনাথ হাঁসদা

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সন্দীপ ঘোষ, ঝাড়গ্রাম:

জেলা পরিষদের প্রাক্তন সভাধিপতি ও সহ সভাধিপতি দের মতো হেভিওয়েটা নেতারা যখন পঞ্চায়েত নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে তৃণমূলের যুব সভাপতি দেবনাথ হাঁসদা এবারে সব চেয়ে ভালো ফল করে জেলায় নজির সৃষ্টি করেছেন। তিনি এই প্রথমবার ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আর এই প্রথমবারেই ব্যাপক ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। এই প্রথম জেলা পরিষদের আসনে দাঁড়িয়ে ঝাড়গ্রাম জেলার ১৬ টি জেলা পরিষদের আসনে ভোটে দাঁড়িয়ে ছিলেন বছর ৩৫-এর দেবনাথ হাঁসদা। জামবনি ব্লকের শাবলমারা গ্রামের বাসিন্দা দেবনাথ হাঁসদা এই প্রথমবার জামবনি ব্লকের জেলাপরিষদের ১৫ নম্বর আসন থেকে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাঁর জেলা পরিষদের অন্তর্গত ছিল ধরসা,পড়িহাটি,কাফগাড়ি.গিধনি,দুবড়া গ্রামপঞ্চায়েত গুলি। দেবনাথ বাবু সব গুলি পঞ্চায়েতে জয় লাভ করেছেন।

তিনি ঝাড়গ্রাম জেলার ১৬ টি জেলা পরিষদের আসনের মধ্যে সব থেকে বেশি ১১৫২৮ ভোটের ব্যাবধানে জয় লাভ করেছেন। জামবনি সহ জেলার বিভিন্ন ব্লকে তৃণমূলের যখন ভরাডুবি তখন দেবনাথ হাঁসদার রেকর্ড ব্যবধানে জয় লাভ অবশ্যই শাসক দলের কাছে বড় পাওনা। জামবনি ব্লকে তৃণমূলের টিকিটে দাঁড়িয়ে পরাস্থ হয়েছেন তৃণমূলের ব্লক সভাপতি জগদিশ মাহাতো, তৃণমূল জেলা সংখ্যালঘু সেলের সভাপতি শেক সুভান আলি,উপপ্রধান শেক সামসেদ এবং জামবনি পঞ্চায়েত সমিতির বিদায়ী সভাপতি সমীর ধলের স্ত্রী ডলি শিট পঞ্চায়েত সমিতির আসনে দাঁড়িয়ে পরাজিত হয়েছেন। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে দেবনাথ বাবুর এই বিপুল ভোটে জয় লাভ এলাকায় তার জনপ্রিয়তা এবং তৃণমূল স্তরে তার যে সংযোগ ছিল তা প্রমান করছে বলে রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা।

দেবনাথ হাঁসদার পরিবার বরাবরই বাম বিরোধী পরিবার বলে চিহ্নিত। তার বাবা শিক্ষক মঙ্গলময় হাঁসদা বাম জমানায় বরাবর ঝাড়খন্ডী আন্দলোন করে গিয়েছিলেন। তিনি অবিভক্ত পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলা নেতা ছিলেন। দেবনাথ হাঁসদা ২০০৮ সাল থেকে তৃণমূল কংগ্রেস করে আসছেন। তৎকালিন বাম আমলে জামবনি ব্লকে যখন সিপিএমই শেষ কথা ধরা হত সেই সময় থেকে তিনি তৃণমূল করে আসছেন এবং দলের হয়ে সংগঠন মজবুত করার কাজ আজও চালিয়ে আসছেন। সেই সময় অর্থাৎ ২০০৮ সালে তিনি জামবনি ব্লক যুব তৃণমূলের সভাপতির দায়িত্ব পান। অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের দেবনাথ বাবু এলাকায় অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং দক্ষ সংগঠক বলে পরিচিত। প্রথম বার দলের টিকট পেয়ে তিনি দলকে নিরাশ করেন। বরং যখন জেলা জুড়ে বিজেপির রমরমা তখন দেবনাথ হাঁসদার এই বিপুল ভোটে জয়কে ঘিরে যুবকরা আরো বেশি করে তৃণমূল করতে আগ্রহী হয়েছে। নিজের ব্লকে বিক্ষুব্ধ তৃণমূলের নির্দলরা যাতে দলে ফিরে আসে তার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছেন দেবনাথ বাবু। দেবনাথ হাঁসদা নিজের এই বিপুল ব্যবধানে জয় নিয়ে খুব একটি উচ্ছসিত নয়।

তিনি বলেন, “দলের টিকিটে যখন জিতেছি তখন দায়িত্ব আরো বেড়ে গেল। বরাবরই মুখ্যমন্ত্রীর কে আদর্শ হিসেবে সামনে রেখে সৎভাবে দল করছি। মানুষের পাশে থেকে তাদের জন্য কাজ করাই প্রধান লক্ষ।”

সম্পর্কিত সংবাদ

Leave a Comment