ভিনরাজ্যে খুন বাঙালি ইঞ্জিনিয়র

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শান্তনু বিশ্বাস, অশোকনগরঃ

১৯শে মে দুপুরে উত্তরপ্রদেশের মোঘলসরাইয়েরেল কলোনির ভিতরে এক নির্মাণ সংস্থার অফিসে এমন নাটকীয় ভাবেই খুন হলেন স্বপন দে (৪৪) নামে ওই বাঙালি। তাঁর বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরের বিবেকানন্দ পাড়ায়।

২১ শে মে মৃতদেহ এসে পৌঁছাল অশোকনগরের বাড়িতে। পরিবারের অভিযোগ, ঘুষ নিতে রাজি না হওয়ার কারণে এই খুন। ঘটনায় উত্তরপ্রদেশের মোঘলসরাইয়ের একটি থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। বর্তমানে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছেন উত্তরপ্রদেশের মোঘলসরাইয়ের একটি থানা। ইতিমধ্যে অফিসে থাকা বাকি কর্মী এবং সংস্থার উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। তবে আততায়ীদের পরিচয় এবং খুনের কারণ নিয়ে এখনও অন্ধকারে তদন্তকারীরা।

মোগলসরাই থানার তদন্তকারী পুলিশ অফিসার শিবানন্দ মিশ্র বলেন, “ওই অফিসের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে ফুটেজ খুবই অস্পষ্ট। খুনের কারণ কী, তা জানার চেষ্টা চলছে।” পুলিশ সূত্রের খবর, ঘটনার দিন দুপুর ২টো নাগাদ মোটরবাইকে করে চার জন যুবক স্বপনের খোঁজে ওই অফিসে যায়। ‘স্বপন দে কৌন হ্যায়’— অফিসের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা নিরাপত্তারক্ষীদের কাছে জানতে চেয়েছিল তারা। স্বপনকে চিনিয়ে দিতে ওই যুবকদের অফিসের ভিতরে নিয়ে যান ওই নিরাপত্তারক্ষী। সে সময় ২ জন যুবক মোটরবাইকে বাইরেই অপেক্ষা করতে থাকে এবং বাকি ২ জন ভিতরে যায়। 

ঘটনার এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, অফিসের ভিতরে ঢুকে স্বপনের টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে হাত জোড় করে নমস্কার করে আততায়ীরা। প্রত্যুত্তরে স্বপন কোনও কথা বলার আগেই পকেট থেকে রিভলভার বার করে গুলি চালায় তারা। পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে চালানো মোট চার রাউন্ড গুলির মধ্যে একটি তাঁর হাতের তালু ফুঁড়ে বেরিয়ে যায়। আর একটি গুলি লাগে তাঁর বুকের ঠিক মাঝখানে। বাকি ২ টি গুলিও লাগে স্বপনের বুক এবং হাতে। ঘটনাস্থলে গুলিবিদ্ধ হয়ে লুটিয়ে পড়েন তিনি। আততায়ী দুই যুবক আরও ২ রাউন্ড গুলি ছুড়তে ছুড়তে বেরিয়ে যায় বলে অভিযোগ। এর পরে রক্তাক্ত স্বপনকে নিয়ে এক কিলোমিটার দূরে মোগলসরাই রেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার আকস্মিকতায় স্তম্ভিত ওই অফিসের অন্য কর্মীরা।

অপরদিকে স্বপনের ফোন না পেয়ে বাড়ির লোকজন চিন্তায় পড়ে। বেশ কয়েকবার চেষ্টার পর ফোন ধরেন এক পুলিশকর্মী। গোটা ঘটনার কথা জানান। খবর পেয়ে মোগলসরাই যান মৃত স্বপনের ভাই তপন এবং স্ত্রী নন্দিতা। ২১ শে মে সকাল ১১টা নাগাদ বাড়িতে নিয়ে আসা হয় স্বপনের মৃতদেহ। অন্যদিকে, মৃতের পরিবার পরিজন কম্পানির (স্বপন যে সংস্থায় কাজ করত) উপর ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছে। স্বপনের দিদি সাধণা বণিক বলেন, “কম্পানির কয়েকজন অসাধু কাজকর্ম করছিল। মালপাচার করে দিয়েছিল। আমার ভাই এর প্রতিবাদ করে। ওকে ঘুষ নেওয়ার কথা বলে। কিন্তু, ভাই নেয়নি। তাই, হয়ত ওকে খুন করে দিল।”

পারিবারিক সুত্রে খবর, ১৪ বছর আগে বিয়ে হয় নন্দিতা দে-র সঙ্গে। তাদের ১০ বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। ২০০৩ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত দুবাইয়ে কর্মরত ছিলেন স্বপন। পরে সেখান থেকে ফিরে আসেন। যোগ দেন কলকাতার একটি সংস্থায়। সেখান থেকে একটি প্রোজেক্টের কাজে বছর তিনেক আগে উত্তরপ্রদেশের মোঘলসরাইয়ে পাঠানো হয় তাঁকে। মাসে একবার বাড়ি আসতেন। কিছুদিন পর মেয়ের স্কুলে গরমের ছুটি পড়বে। তখন, স্ত্রী-মেয়ের তাঁর কাছে আসার কথা। তা আর হল না। স্বপনই বাড়ি এলেন। তাও কফিনবন্দী হয়ে।

পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, তারা মৃত্যুরহস্য উদঘাটনের জন্য রাজ্য সরকারের সাহায্য চাইবে। অশোকনগর থানাতেও অভিযোগ দায়ের হবে বলে জানা গেছে।

 

সম্পর্কিত সংবাদ