Thursday, October 20, 2022
spot_img

মৃত্যু হল গাইঘাটার শেরগড় এলাকার অগ্নিদগ্ধ তরুণীর

শান্তনু বিশ্বাস, গাইঘাটা:

১৪ ই ফেব্রুয়ারি গাইঘাটা থানার অন্তর্গত শেরগড় এলাকার মাম্পি বিশ্বাস নামক এক গৃহবধূ অগ্নিদগ্ধ হন। মূলত এদিন মাম্পিকে বাঁচাতে গিয়ে তাঁর দুসম্পর্কের মামা দিবাকর বিশ্বাসও অগ্নিদগ্ধ হন। আর তারপরই মাম্পিকে কলকাতার আরজিকর হাসপাতালে এবং দিবাকর বিশ্বাসকে বারাসাতের হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হলে দুজনেই মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়তে থাকেন। মাম্পির শরীরের ৯০ শতাংশ পুড়ে যাওয়ার দরুন ফের তাকে কলকাতার আরজিকর হাসপাতাল থেকে এম আর গাঙ্গুলি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হলে ১৫ ই ফেব্রুয়ারি রাত ১০ টা নাগাদ সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মাম্পি বিশ্বাস।

সুত্রের খবর, গাইঘাটার অন্তর্গত চন্ডিগড়ের বাসিন্দা দিনমজুর ভাস্করের মজুমদারের সাথে বিয়ে হয় গাইঘাটার অন্তর্গত শেরগড় এলাকার বাসিন্দা মাম্পি বিশ্বাসের। কিন্তু তাঁরা আইনত বিবাহ করেনি কারন বর্তমানে মেয়েটির বয়স এখনও ১৬ হয়নি আর ছেলেটির বয়স বছর ২০। মাম্পি এবং ভাস্কর দুজনেই প্রেম তাঁর পর ভালোবাসা তাঁর পর দুইজন পালিয়ে বিয়ে করে। বিয়ের প্রায় মাস খানেক পরে মেয়ের বাড়ির লোকেরা খবর পায় হাওড়ায় সেলাই এর কারখানায় কাজ করার সূত্রে ওই এলাকায় একটি ভাড়া বাড়িতে রয়েছে মাম্পি বিশ্বাস ও তার স্বামী ভাস্কর মজুমদার। সেখানে গিয়ে মেয়েকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করলেও মেয়েটি ফিরতে চায়নি। অপরদিকে ছেলের বাড়ি থেকে দুজনের সম্পর্ক্য মেনে নিলেও বিয়ের তিনমাস পর শুরু হয় গণ্ডগোল কারন মেয়েটির কিছু রোগ ধরা পড়ার পর তাঁর শ্বশুড় বাড়ি থেকে মেনে নিতে চায়নি তাকে। পাশাপাশি ছেলের বাড়ি থেকে মেয়ের বাড়ির লোকেদের জানানো হয় বিয়েতে কিছু দেওয়া কথা অর্থাৎ যৌথক হিসাবে একটি সাইকেল ,সোনার আংটি ও চেন দিতে হবে। কিন্তু মেয়ের পরিবার দরিদ্র হওয়ায় তাঁরা সেই মুহূর্তে কিছু দিতে পারবে না বলে জানায় বরং তাঁরা কয়েক বছর বাদে দেবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেয়। এর দরুন ভাস্কর তার শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে যোগাযোগ রাখায় তাকেও বাড়িতে ঢুকতে দেবে না বলে জানায় ভাস্করের মা -বাবা। তাই বিগত সপ্তাহ থেকে ভাস্কর তার শ্বশুড় বাড়ি থাকতে শুরু করলেও সম্প্রতি দুদিন আগে সে নিজের বাড়ি যায়। কিন্তু ১২ ই ফেব্রুয়ারি ফের শ্বশুড়বাড়ি আসে ও রাতে মাম্পি ও ভাস্কর এক সঙ্গেই ছিল। তবে ১৪ ই ফেব্রুয়ারি সকাল ৯ টা নাগাদ হঠাৎ মাম্পি তার ঘরের ভিতরে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় চিৎকার করতে থাকে এরপর তার চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এসে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। স্থানীয়দের দাবী, ঘটনার সময় সেই মুহূর্তে মাম্পির স্বামী ভাস্কর ছাড়া আর কেউই ঘরে ছিল না কারন মাম্পির মা দুর্গা বিশ্বাস দরকারে একটু দূরে গিয়েছিলেন। অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় মাম্পি চিৎকার করতে থাকলে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে আসার আগেই নিজের সাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায় ভাস্কর।

এছাড়া আরও জানা যায়, মাম্পির চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হওয়ার পাশাপাশি মাম্পির দুসম্পর্কের মামা দিবাকর বিশ্বাস ও মাম্পির মা দুর্গা বিশ্বাসও ছুটে আসে ঘটনাস্থলে। এরপরই দিবাকর মাম্পিকে বাঁচাতে গেলে অগ্নিদগ্ধ মাম্পি তাকে জড়িয়ে ধরলে সেও মারাত্বক ভাবে পুরে গিয়ে জখম হয় পাশের ধানের জমিতে জমা জলে ছুটে গিয়ে অজ্ঞান হয়ে যায়। মূলত এরপরই স্থানীয়রা সাথে সাথে দুজনকে হাবড়া হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখান থেকে দিবাকরকে বারাসাত হাসপাতালে এবং মাম্পিকে কলকাতার আরজিকর হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। এরপর তারা দুজনেই মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়তে থাকেন।

পুলিশি সুত্রে খবর, এদিন ঘটনার পর স্থানীয়রাই পুলিশে খবর দেওয়ার সাথে সাথে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন গাইঘাটা থানার পুলিশ। তবে পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুসারে জানা যায়, ঘটনাস্থলেই মাম্পির বাপের বাড়িয়ে গিয়ে দেখা যায় মাম্পির জামাকাপড় পোরা অবস্থায় রয়েছে ,পাশেই পরে আছে কেরশিন তেলের ব্যারেল, নিচে পরে আছে দেশি মদের বোতল ও গ্লাস। তাই অনুমান মদ্যপ অবস্থায় ভাস্কর এধরেন ঘটনা করেছে। এদিন তদন্তে নেমে গাইঘাটা থানার পুলিশ ভাস্করের মা মনিকা মজুমদারকে আটক করলেও পরে তাকে গ্রেফতার করেন। এমনকি ঘটনার দিন রাতেই ভাস্কর মজুমদারকেও গ্রেফতার করে গাইঘাটা থানার পুলিশ। ফের ১৫ ই ফেব্রুয়ারি ধৃত দুজনকে পিসি চেয়ে বনগাঁ আদালতে তোলা হয়।

 

Related Articles

Stay Connected

0FansLike
3,533FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles