খড়দহ সূর্য সেন স্পোর্টিং ক্লাবের শৌর্যের প্রদর্শনী ম্যাচ

খড়দহ সূর্য সেন স্পোর্টিং ক্লাবের শৌর্যের প্রদর্শনী ম্যাচ

অরিন্দম রায় চৌধুরী, খড়দহঃ

শুরুটা সেই ২০১৪ সালে, দেখতে দেখতে ৫টি সুদীর্ঘ বছর পার করে আজ ২০১৮-র মে মাসে আবার আয়োজন এক প্রদর্শনী ফুটবল ম্যাচের। উদ্দেশ্যটা খুবই মানবিক। এক সময় যারা তাদের সাথে খেলতেন, এখন তাদের মধ্যে অনেকেই বয়স বা অন্য কোন আর্থিক সমস্যায় দিন কাটাচ্ছেন তাদের পাশে দাঁড়াবার। হ্যাঁ, ঠিক এই বিরল মিলন মেলার আয়োজক ব্যারাকপুর মহকুমার খড়দহের সূর্য সেন স্পোর্টিং ক্লাবের প্রাক্তন ফুটবল খেলোয়াড়দের সমিতি। এই সমিতির অনেকেই আজ নানা কর্মে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। কেউ সরকারি কাজ করেন কেউ আবার বেসরকারি ফার্মে কাজ করেন আবার কেউ নিজের ব্যাবসায় প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু এদের মধ্যেই আবার কেউ কেউ আর্থিক ভাবে পিছিয়ে পরেছেন কালের নিষ্ঠুর পরিহাসে। আর সেই সব এক সময়ের বন্ধু বা সতীর্থদের পাশে দাঁড়ানোটাই এই সমিতির প্রধান কাজ। তাই বছরে একবার এই ধরনের প্রদর্শনী ফুটবল খেলা আয়োজন।

[espro-slider id=7207]

এই প্রদর্শনী ফুটবল খেলায় অংশ নেন একদা যারা এই স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে জেলা স্তরে ফুটবল খেলেছেন, আবার কেউ কেউ কলকাতার নামী দামী ক্লাবের হয়ে দীর্ঘ দিন খেলে এসেছেন, এমনকি এনাদের মধ্যে আবার কেউ কেউ ভারতীয় দলেও খেলেছেন বেশ নামের সাথে যেমন কবির বসু। এনারা সকলেই যেন সকলের তরে নিজেকে উৎসর্গ করে দিয়েছেন। এই সব প্রাক্তন ফুটবল খেলোয়াড়দের এই সমতি এই নিয়ে অবশ্য ৫(পাচ) বার এই ধরনের প্রদর্শনী খেলার আয়োজন কেরে এসেছেন আর প্রত্যেক বারই কোন না কোন একদা সতীর্থের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে এসেছেন। এমনকি বাদ যায় নি এনাদের তদানীন্তন প্রশিক্ষক মহাশয়য়ও। অবশ্য গৌতম মুখার্জি, এক প্রাক্তন ফুটবল খেলোয়াড়ের কথায় “পিতা-মাতা ও গুরুর ঋণ কখনই শোদ করা যায় না, আমরা শুধু চেয়েছি সেই গুরুর প্রতি আমাদের সম্মান জানাতে। কারণ যার হাত ধরে আমরা যেটুকু ফুটবল খেলা শিখেছি এবং সেই খেলা বিভিন্ন ক্লাবে খেলে যে টুকু অর্থ উপার্জন করতে পেরেছি তারই সম্মান জানিয়েছি আমাদের গুরুর প্রতি।”

উল্ল্যেখ্য এরই মধ্যে এনারা তাদের এই কর্মযজ্ঞের জন্য একটি ফান্ডের রচনা করে ফেলেছেন এবং ব্যাঙ্কে রাখা সেই অর্থ থেকেই সততার সাথে এনারা সকলের প্রতি তাদের ভালোবাসা উৎসর্গ করে এসেছেন যেমন এই বারও করলেন ২০শে মে, ২০১৮ -র বিকেল ৪:৩০ মিনিটের প্রদর্শনী ফুটবল খেলার আয়োজন করে এবং সেই খেলার শেষে তাদের সতীর্থ লাল্টুর হাতে তুলে দিলেন ১৫,০০০/- টাকা। এই সমিতির এই কর্মযজ্ঞের কথা যেই শুনেছেন বা নিজেরা পরখ করতে সক্ষম হয়েছেন তারা সকলেই এক বাক্যে স্বীকার করে নিয়েছেন যে এই সমিতির প্রতিটি সদস্যের মানবিকতার কথা। তাই আগামী দিনে পথ চলার সময় এনারা যেন আরও এগিয়ে যেতে পারেন সেই কামনাই এখন সকলের মুখে মুখে। আজ এই সব ৪০-৫০ উর্ধ প্রাক্তন ফুটবল খেলোয়াড়দের জন্য মাঠে উপস্থিত সকলেই সমস্বরে বলে উঠলেন “ব্রাভো”।।

 

You May Share This

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.