দমদমে ট্রেনের জট ছাড়াতে নতুন পরিকল্পনা রেলের

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শর্বাণী দে,বেঙ্গল টুডেঃ

জটিল জট ছাড়ানোর অনেক চেষ্টা করেছেন রেল কর্তারা। কিন্তু কোনও অঙ্কেই যেন কাজ হচ্ছে না। ফলে, দিন দিন যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়ছে দমদম স্টেশনে। শেষ ভরসা হিসেবে আপাতত দমদম স্টেশনে ট্রেনের জট দ্রুত ছাড়াতে নতুন রুট রিলে ইন্টারলকিং সিস্টেমের উপরই ভরসা করছেন পূর্ব রেল কর্তৃপক্ষ। শিয়ালদহ শাখার দমদম জংশন স্টেশনে ট্রেনের জট পাকিয়ে যাওয়ার সমস্যা বহুদিনের। দমদম থেকেই ভাগ হয়েছে ব্যারাকপুর, বনগাঁ, ডানকুনি যাওয়ার লাইন। উল্টোদিকে শিয়ালদহ এবং কলকাতা স্টেশন হয়ে বিবাদী বাগের দিকে চক্ররেলের লাইন গেছে। অসংখ্য লোকাল ট্রেন, তার সঙ্গে মেল এক্সপ্রেস আর মালগাড়ির চাপ। এই জাঁতাকলে পড়ে যাত্রী সুরক্ষা বজায় রেখে দমদম স্টেশন থেকে বিভিন্ন শাখায় ট্রেন ঢোকানো, বের করাই কঠিন সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় রেলকর্মীদের কাছে। ফলে, দিনের বিভিন্ন সময়ে হয় স্টেশনে, নয় স্টেশনে ঢোকার মুখে সিগন্যালে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে লোকাল বা এক্সপ্রেস ট্রেন। বিরক্তি বাড়ে যাত্রীদের। ঠাসা ভিড়ে এই অপেক্ষা এক এক সময় দুর্বিষহ হয়ে ওঠে নিত্যযাত্রীদের জন্য। দমদমে কেন ট্রেনের জট পাকছে সেই কারণটা রেল কর্তারাও বুঝতে পারছেন। সমস্যার সমাধান হিসেবে বনগাঁ লাইনে ট্রেন যাতায়াতের জন্য দমদম স্টেশনের উপর দিয়ে উড়ালপুল গড়ার ভাবনা ছিল রেলের। অর্থ বরাদ্দও হয়ে গিয়েছিল। সেক্ষেত্রে দমদম স্টেশনে না এসেই উল্টোডাঙা এবং দমদম ক্যান্টনমেন্টের দিক থেকে বনগাঁ শাখার আপ এবং ডাউন ট্রেনগুলি দমদম স্টেশনের উপর দিয়ে উড়ালপুল ধরে যাতায়াত করার কথা ছিল। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দমদমের উপরে ট্রেনের চাপ অনেকটাই কম হত। কিন্তু জমির অভাবে সেই উড়ালপুল তৈরির ভাবনাই বাতিল করেছেন রেল কর্তৃপক্ষ। দমদমের জট ছাড়াতে ফের নতুন ভাবনাচিন্তা শুরু হয়।

পূর্ব রেলের পরিকল্পনা অনুযায়ী, দমদম জংশনের রুট রিলে ইন্টারলকিং সিস্টেম বা আরআরআই ব্যবস্থা নতুন করে সাজানো হবে। ১৮ই মে কলকাতায় এক বণিকসভার অনুষ্ঠানে এমনই দাবি করেছেন পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার হরিন্দ্র রাও। পূর্ব রেলের অ্যাডিশনাল জেনারেল ম্যানেজার এস কে দাশেরও দাবি, নতুন এই ব্যবস্থা চালু হলে দমদমে কিছুটা হলেও দুর্ভোগ কমবে যাত্রীদের।

রেলকর্তাদের দাবি, পুরনো ব্যবস্থার বদলে নতুন রুট রিলে ইন্টারলকিং সিস্টেম চালু হলে ট্রেনগুলিকে সিগন্যাল দেওয়ার জন্য কিছুটা হলেও সময় কম লাগবে। উদাহরণ হিসেবে তাঁরা বলছেন, এখন যদি কোনও ট্রেনকে সিগন্যাল দিতে ২ মিনিট সময় লাগে, নতুন এই ব্যবস্থায় তা কমে হবে ১ মিনিট।

তবে নতুন এই ব্যবস্থা চালু হলেও দমদমের সমস্যা যে পুরোপুরি মিটবে না, তা স্বীকার করে নিচ্ছেন রেলকর্তারা। পূর্ব রেল সূত্রের খবর, নতুন রুট রিলে ইন্টারলকিং ব্যবস্থার জন্য ইতিমধ্যেই টেন্ডার হয়ে গিয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক চললে এবছরের মধ্যেই কাজ শুরু হওয়ার কথা।

তবে নতুন এই ব্যবস্থা নিয়েও অন্য একটি আশঙ্কা রয়েছে রেলকর্তাদের। কারণ নতুন রুট রিলে ইন্টারলকিং ব্যবস্থা চালু করার অর্থ রেল লাইনের নীচেও কেবল পাততে হবে। যখন সেই কাজ হবে, তখন ট্রেন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতেই হবে।

প্রসঙ্গত দমদম জংশনে নতুন রুট রিলে ইন্টারলকিং ব্যবস্থা চালু করার সময়ে অন্তত ২-৩ দিনের জন্য শিয়ালদহ মেন শাখাতে ট্রেন চলাচল বিপর্যস্ত হয়ে পড়তে পারে বলেই আশঙ্কা করছেন রেল কর্তারা। যদিও, ভবিষ্যতের কথা ভেবে এছাড়া আর উপায় নেই বলেই মত তাঁদের।

সম্পর্কিত সংবাদ