নিজেদের ব্যর্থতা স্বীকার মন্ত্রীর

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সন্দীপ ঘোষ, ঝাড়গ্রাম:

জঙ্গলমহলের শাল মহুয়ার জঙ্গলে ফুটলো পদ্ম ফুল।চাপে শাসক দল তৃণমূল।নিজেদের দলের মধ্যে মনোমালিন্য,টিকিট বন্টনে জটিলতা,প্রশাসনের দুর্নীতি পরায়ন একাংশের মদতের ফলে খারাপ ফলাফল দাবী মন্ত্রী চুরামনি মাহাতর। গোটা জঙ্গলমহল জুড়ে থাবা বসিয়েছে শাসক বিরোধী দল গুলি। একদিকে গেরুয়া শিবির, অন্যদিকে আদিবাসী সমঞ্চয় মঞ্চ ( নির্দল)রা। এই দুই এর মাঝে পড়ে যথেষ্ট ব্যাক ফুটে শাসক শিবির। তবে ঝাড়গ্রাম জেলার পরিসংখ্যান অনুযায়ী তৃণমূল কংগ্রেস এগিয়ে। এবং তারপরেই স্থান করে নিয়েছে বিজেপি। ঝাড়গ্রাম জেলার মোট আটটি ব্লকে আটটি পঞ্চায়েত সমিতির মধ্যে ছটি পঞ্চায়েত সমিতি দখল করছে শাসক দল তথা তৃণমূল। আর বিজেপি দুটি পঞ্চায়েত সমিতি দখল করেছে। আটটি ব্লকের ষলোটি জেলা পরিষদের আসনের মধ্যে বিজেপি পেয়েছে তিনটি আসন। বাকি গুলিতে জয় পেয়েছে তৃণমূল। ঝাড়গ্রাম জেলার মোট ৭৯টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে বিজেপি পয়েছে পঁচিশটি। অনেক গুলি গ্রামপঞ্চায়েত অমৃমাংসিত রয়েছে। বেশ কিছু গ্রাম পঞ্চায়েতে বিজেপি এবং শাসক দল সমান জায়গায় রয়েছে। ঝাড়গ্রাম জেলায় গ্রামপঞ্চায়েতে ৮০৬টি আসনের মধ্যে ভোট হয়েছিল ৭৮০ টিতে। তৃণমূল পেয়েছে ৩৭৩,বিজেপি ৩২৯, সিপিএম ১৩, সিপিআই ১ এবং নির্দল ৬৩। পঞ্চায়েত সমিতির মোট ১৮৭ টি আসনের মধ্যে ভোট হয়েছিল ১৮৫ টি আসনে। ঝাড়গ্রাম জেলায় পঞ্চায়েত সমিতির আসনে তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ১১১টি আসন আর বিজেপি পেয়েছে ৬৫ টি আসন। বিজেপি জেলার সাঁকরাইল পঞ্চায়েত সমিতি ছিনিয়ে নিয়েছে শাসক দলের কাছ থেকে। সাঁকরাইল পঞ্চায়েত সমিতির ২১ টি আসনের মধ্যে এগারোটি পেয়েছে বিজেপি। দশটি পেয়েছে তৃণমূল। আবার সাঁকরাইল ব্লকে ৮৫ টি গ্রামপঞ্চায়েত আসনের মধ্যে বিজেপি পেয়েছে ৪৫ টি। আর গোপীবল্লভপুর এক ব্লকে বিজেপি পঞ্চায়েত সমিতি দখল করেছ। গোপীবল্লভপুর এক পঞ্চায়েত সমিতিতে মোট আসন রয়েছে ১৮। এর মধ্যে বিজেপি পেয়েছে ১২ টি। তৃণমূল পাঁচটি এবং একটি পয়েছে সিপিএম। জেলা পরিষদের দুটি আসনই ছিনিয়ে নিয়েছে গেরুয়া শিবির। এই ব্লকের সাতটি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে ৬টি পেয়েছে বিজেপি। একটি অমীমাংসিত রয়েছে। ঝাড়গ্রাম জেলার গোপীবল্লভপুর এক এবং সাঁকরাইল ব্লকে বিজেপি পায়ের তলায় জমি শক্ত করেছে। ঝাড়গ্রাম জেলায় এহেন বিজেপির উত্থানে শাসক দলের অন্দরে গোষ্ঠী কোন্দলই যে দায়ি এই ফলাফলের জন্য তা মনে করা হচ্ছে।পঞ্চায়েত স্তরে শাসক দলের কর্মীদের বক্তব্য দলের টিকিট না পেয়ে যারা নির্দল হয়ে ছিল তারা আদতে বিজেপিকেই ভোট দিয়েছে।এলকার যে সব লোক সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পে বাড়ি থেকে শুরু করে বিভিন্ন পরিষেবা পেয়েছে তারাও বিজেপিকে ভোট দিয়েছে বলে জানাচ্ছেন স্থানীয় নেতারা। মন্ত্রী,ঝাড়গ্রাম জেলা তৃণমূলের কার্যনির্বাহী সভাপতি চুড়ামনি মাহাতো নিজের এলাকা শালবনি গ্রামপঞ্চায়েত। এই শালবনিতে আট টি আসনের মধ্যে একটিও আসন পায়নি তৃণমূল প্রার্থী। সব আসনে জিতেছে বিজেপি। বিদয়ী জেলা পরিষদের সভাধিপতি এবং সহ সভাধিপতি সময় মান্ডি ,সোমা অধিকারী গোপীবল্লভপুর জেলা পরিষদের আসনে হেরেছেন। সামগ্রীকভাবে ঝাড়গ্রাম জেলায় তৃণমূলের ফল ভালো। কিন্তু জঙ্গলমহলে যেখানে বিজেপির অস্তিত্ব ছিলনা সেখানে বিজেপি যেভাবে এবার ভোট পাওয়ার নিরিখে এগিয়েছে তা ভবাচ্ছে শাসক দলকে। তৃণমূলে জেলা কার্যকরী সভাপতি তথা অনগ্রসর শ্রেণী কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী চুড়ামনি মাহাত নিজেদের পরাজয়ের বিষয়ে বলেন,দলে অনেটা ত্রুটি রয়েছে সেগুলো আগামীদিনে পূরণ করব। নিজেদের দলের মধ্যে মনোমালিন্য,টিকিট বন্টনে জটিলতা, প্রশাসনের দুর্নীতি পরায়ন একাংশের মদতের ফলে খারাপ ফলাফল। বিজেপির জেলা সভাপতি সুখময় সতপথী,বলেন আমরা আরো ভালো ফল আশা করেছিলাম। তৃণমূলের সন্ত্রাসের কারনে কিছু আসন আমরা পাইনি। তবে আগামীদিনে জঙ্গলমহল থেকে তৃণমূলের পতন শুরু হল।

সম্পর্কিত সংবাদ

Leave a Comment