বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের জন্য বাজেটে আলাদা বরাদ্দ চায় সিপিডি

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বেঙ্গলটুডে প্রতিনিধি, ঢাকা:

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের জন্য আগামী অর্থবছরের বাজেটে বরাদ্দ দিতে হবে। তবে তা যেন দীর্ঘ মেয়াদী আত্মীকরণ না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। পাশাপাশি মানবিকতার পাশাপাশি তাদের প্রত্যাবর্তনের জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা আরও বাড়িয়ে তাদের ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে। কারণ রোহিঙ্গাদের দীর্ঘমেয়াদী অবস্থান বর্তমানে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে যাওয়া বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা কষ্টকর হয়ে উঠবে।

১৩ মে নগরীর আগ্রাবাদে হোটেল সেন্টমার্টিনে ‘রোহিঙ্গা সংকটের অর্থনৈতিক প্রভাব ও আসন্ন বাজেট’ শীর্ষক নাগরিক সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন। সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) এবং সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক)-টিআইবি, চট্টগ্রাম মহানগর যৌথভাবে এই সংলাপটি আয়োজন করে। ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য আরও বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের কারণে স্থানীয় জনগণও ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। উজাড় হচ্ছে বনায়ন, বিঘ্নিত হচ্ছে পরিবেশ। তাই আগামী বাজেটে এ বিষয়গুলো মাথায় রেখে আলাদা আলাদাভাবে বরাদ্দ দিতে হবে। আর রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্সনের জন্য কূটনৈতিক তৎপরাতা বাড়ানোর জন্যও বরাদ্দ দেওয়া যেতে পারে।’

তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা দীর্ঘমেয়াদে থাকলে তার প্রভাব পড়বে অর্থনীতিতেও। কারণ বিদেশ থেকে যে সাহায্য আসছে তা আরও কমে যেতে পারে। সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিরেটাস অধ্যাপক ড. আলমগীর মোহাম্মদ সিরাজুদ্দীন, নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও মিয়ানমারে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মেজর (অব.) মো. এমদাদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসটিসি) উপাচার্য ডা. প্রভাত চন্দ্র বড়ূয়া, সনাক-টিআইবি চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি অ্যাডভোকেট আখতার কবির চৌধুরী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

এছাড়াও সংলাপে শিক্ষাবিদ, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, উন্নয়নকর্মী, সাংবাদিক, ছাত্রসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন পেশার নাগরিকরা সংলাপে অংশ নেন। রোহিঙ্গা সংকটের ফলে বাংলাদেশে সৃষ্ট সমস্যার ধরণ ও অর্থিনীতিতে এর প্রভাবসমূহ তুলে ধরেন ড. ফাহমিদা খাতুন। তিনি জানান, চুক্তি অনুযায়ী প্রতিদিন ৩০০ জন করেও যদি রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্সন করা হয় তাহলে সাত বছর সময় লাগবে। প্রতিবছর তাদের জন্য খরচ হবে চার দশমিক চার বিলিয়ন ডলার। গত সেপ্টেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত বিদেশি সাহায্য এসেছে ৩২২ মিলিয়ন ডলার। এবং মার্চ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত তাদের জন্য প্রয়োজন আরও ৯৫০ মিলিয়ন ডলার। রোহিঙ্গাদের কারণে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে স্থানীয় জনসাধারণও। যা তাদের আয় ও জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলছে।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের কারণে বনের প্রায় ৭৪১ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। পানির লেয়ারও কমে যাচ্ছে। দেখা দিচেছ পানির সংকট। তাই এসব সংকট সমাধানের জন্য দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা নিতে হবে সরকারকে। সংকট সমাধানের সুপারিশ তিনি বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্সনের জন্য যে চুক্তি করা হয়েছে তা বাস্তবায়নের জন্য কূটনৈতিক তৎপরাতা বাড়াতে হবে।

সম্পর্কিত সংবাদ

Leave a Comment