Thursday, October 20, 2022
spot_img

বিজেপির নতুন সংকল্প প্রতিবাদ, প্রতিরোধ, প্রয়োজনে প্রতিশোধ

সন্দীপ ঘোষ, ঝাড়গ্রাম:

বিজেপির নতুন সংকল্প প্রতিবাদ, প্রতিরোধ, প্রয়োজনে প্রতিশোধ। ১১ই মে ঝাড়গ্রাম জেলার গোপীবল্লভপুর এক ব্লকের শাশড়া উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র সংলগ্ন একটি মাঠে এক জনসভায় হুশিয়ারী দিলেন বিজেপি রাজ্য নেতা মুকুল রায়। এদিন তিনি বক্তব্য রাখতে গিয়ে তৃণমূলের সরকারকে কটাক্ষ করে বলেন, মদ বিক্রিতে বাংলা দেশে এক নম্বর। নারী নির্যাতনে দেশে অন্যতম। সুপ্রীম কোর্ট ভোটের রায় ঘোষনা করার পরেই মুকুল বাবু এদিন নির্বাচনী প্রচারে আসেন। পঞ্চায়েত নির্বচানের পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি ও জেলা পরিষদের প্রার্থীদের হয়ে জেলার বিভিন্ন ব্লকের নির্বাচিত প্রার্থীদের হয়ে ভোট প্রচারে আসেন। এদিন মুকুল বাবু সরাসরি বলেই দিলেন আগে প্রাতিবাদ, প্রতিরোধ, প্রয়োজনে প্রতিশোধ নেওয়ার কথা বলেন বিজেপির নেতা কর্মীদের। এর সাথে শাশড়ার প্রচার সভাতেও মুকুল রায় জেলা পরিষদের আসন বিজেপি জিতলে ১৮ বছর বয়স্ক যুবক, যুবতীদের স্মার্ট ফোন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এদিন মুকুল বাবু বিজেপির প্রচারে এসে তাঁর বক্তিতায় প্রথম থেকেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমনের নিশানা করেছিলেন। তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে বলেন আমি গদ্দার। আমি অস্বচ্ছ হলে প্রমান করতে পারলে রাজনীতি ছেড়ে দেবো। পাশাপাশি অন্যান্য মন্ত্রীদের ও তুলধনা করেন তিনি। মুকুল রায়ের জনসভার শেষে তৃণমূলের এক বুথ সভাপতির নেতৃত্বে একশো জন কর্মী সমর্থক বিজেপিতে যোগদান করেন।

এছাড়া এলাকার তিনটি স্বসহায়ক দলের মহিলারা বিজেপিতে যোগদান করেন।এদিন বিজেপির প্রচার সভায় মুকুল রায় বক্তব্য শুরুই করেন, “এবার বাংলা চল পাল্টাই”।

তিনি বলেন, “বিজেপির উদ্যোগের ফলে সুপ্রিম কোর্ট বলেছে যে যে জায়গায় প্রার্থী দেওয়া যায়নি সেই জায়গা গুলিতে ফল ঘোষনা করা যাবে না তিন জুলাইয়ের আগে। পঞ্চান্ন হাজার কারখানা বন্ধ হয়েছিল। তা আর খুলবে না। বেকাররা চাকরিও পাবে না। হার্মাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলাম। তাড়াতে চাইলাম চোর এল ডাকাত। ২০১৩ সালে তৃণমূলের নেতৃত্বে পঞ্চায়েত ভোট হয়েছিল। তখন তৃণমূল ১১ শতাংশ আসনে প্রর্থী দিতে দেয়নি। আর এবার গ্রামপঞ্চায়েত আসনে ১৬ হাজার ২৫৪,পঞ্চায়েত সমিতিতে ৩৬৬৭ এবং জেলা পরিষদে ২০৬ আসনে প্রার্থী দিতে দেয়নি। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতার আসন গুলির ফল প্রকাশ কারা যাবে না। আমি বলব আমাদের সংকল্প প্রতিবাদ, প্রতিরোধ প্রয়োজনে প্রতিশোধ। জঙ্গলমহলে হার্মদের বিরুদ্ধে যারা সহযোগিতা করছিল সেই ছত্রধর আজ জেলে। আমারা জিতলে একশো দিনের কাজের প্রকল্পে মজুরি বাড়িয়ে দেব। কেন্দ্রর প্রকল্প গুলি নিজেদের নামে চালাচ্ছে। মিথ্যা কথা বলছে। জেতা দরকার এই জন্য যে যোজনা গুলি কেন্দ্র পাঠায় তা পঞ্চায়েতের মাধ্যমে। জিতল সেই যোজনা গুলি আপনাদের হাত দিয়ে পৌছে যাবে।”

এদিন সভামঞ্চে মুকুল রায়ের কাছে আর্জি আসে শাশড়া উপস্বস্থ্য কেন্দ্রটির শয্যা চালু করার। তিনি আরও বলেন আপনাদের বিকল্প কংগ্রেস, সিপিএম নয়। চোখে চোখে রেখে লড়াই করছে তার নাম বিজেপি। এদিন শাশড়া জনভায় উপস্থিত ছিলেন বিজেপির রাজ্য সহ সভাপতি বিশ্বপ্রিয় রায়চৌধরী, ঝড়াগ্রাম জেলা বিজেপির সভাপতি সুখময় শতপথি, বিজেপির রাজ্য সভাপতি তুষার ঘোষ, ঝাড়গ্রাম জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক অবনী ঘোষ সহ প্রমুখ। পাশাপাশি এদিন বেলিয়াবেড়া, শিলদা ও লালগড়ের রামগড়ে জনসভা করেন।

Related Articles

Stay Connected

0FansLike
3,533FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles