জঙ্গলমহলে কেন্দুপাতায় মিলছে দ্বিগুন দাম,তাতেই এগিয়ে ঘাস ফুল

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সন্দীপ ঘোষ, ঝাড়গ্রাম :

জঙ্গলমহল তথা ঝাড়গ্রাম জেলার অন্যতম অর্থকারী ব্যবসা হল কেন্দুপাতা। এক সময় মাওবাদীদের আমলে কেন্দু পাতার দাম বৃদ্ধির দাবীতে আন্দোলন গড়ে উঠেছিল। এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে অতি বামপন্থীরা সশস্ত্র আন্দোলনের পক্ষে জনমত তৈরী করেছিল। দালাল আর ফোড়েরা যেভাবে সাধারন খেটে খাওয়া মানুষকে বঞ্চিত করেছিল তাতে অনেকেই পরিস্থিতির শিকার হয়ে মাওবাদীদের দলে নাম লিখিয়ে ছিলেন। কিন্তু এক ধাক্কাতে রাজ্যে ক্ষমতার পালা বদলের পর জঙ্গলমহলে কেন্দু পাতার দাম দ্বিগুণ হয়েছে। বদলে গিয়েছে অতীতের সব চিত্র। এক সময় মাওবাদী দের সন্ত্রাস পর্বে এক চাটা কেন্দু পাতার দাম ছিল মাত্র ৩০ টাকা।

রাজ্যে ক্ষমতা পরিবর্তনের পর সেই এক চাটা কেন্দু পাতার দাম ৭০ টাকা। আর এতেই খুশি জঙ্গলমহলের মানুষজন। আর তাই পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রাক্কালে অরণ্য নির্ভর গ্রামের মানুষেরা একদিকে যেমন খুশি কেন্দু পাতার দাম দ্বিগুনের থেকে বেশী বাড়ার জন্য তেমনই তারা আশা করছেন সরকার যদি সরাসরি তাদের কাছ থেকে পাতা কেনার বিষয়ে আরও উদ্যোগী হয় তাহলে আরও লাভবান হবেন তারা। কেন্দু পাতা সংগ্রহকারী বর্তমান সরকারের আমলে সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় এসেছেন। সব মিলিয়ে জঙ্গলমহলে একটা বড় অংশের মানুষ আশা করছেন পঞ্চায়েত নির্বাচনে শাসকদল আবারও ক্ষমতায় এলে লাভবান হবেন তারাই। তাই স্বাভাবিক ভাবে শাসক দলের উপরেই ভরসা করছেন জঙ্গলমহলের মানুষজন।

কচি কেন্দু পাতা সারা বছরের মধ্যে ৩ মাসই পাওয়া যায়। গরমকাল শুরুর ৩ মাস ঝাড়গ্রাম জেলার বেলপাহাড়ী, জাম্বনী সহ জেলার বিভিন্ন ব্লকের মহিলারা জঙ্গলে গিয়ে কেন্দু পাতা তোলেন। এই ব্যবসার সঙ্গে মূলত জড়িয়ে থাকেন মহিলারাই। তারই জঙ্গলে গিয়ে কচি কেন্দু পাতা সংগ্রহ করেন। ১০ টা পাতা নিয়ে হয় এক বান্ডিল। ২০ টা বান্ডিল নিয়ে হয় এক চাটা। বর্তমানে এই ১ চাটার দাম ৭০ টাকা। যার দাম আগে ছিল ৩০ টাকা। জঙ্গলমহলের মহিলারা এই তিন মাস কেন্দু পাতা থেকে তাদের রোজগার উপার্জন করেন। দুটাকা কেজি চালের সাথে এই ব্যবসা গ্রামীন মহিলাদের অনেকটাই স্বচ্ছল করছে বলে তাদের দাবী।

সম্পর্কিত সংবাদ