Thursday, September 22, 2022
spot_img

তৃণমূলের প্রস্তাবককে গুলি চালানোর ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য গোপীবল্লভপুরের আঁধারিয়া গ্রামে

সন্দীপ ঘোষ, ঝাড়গ্রাম:

তৃণমূলের প্রস্তাবক কে গুলি চালানোর ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য গোপীবল্লভপুরের আঁধারিয়া গ্রামে। তৃণমূলের প্রস্তাবক, নির্বাচনী এজেন্টকে গুলি চালানোর ঘটনায় অভিযোগের আঙুল উঠেছে নির্দল প্রার্থীর দিকে। এই নিয়ে তৃণমূলের অন্দরে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে নির্দল প্রার্থী। ঘটনাটি ঘটে ৬ই মে রাত সাড়ে ১০ টা নাগাদ গোপীবল্লভপুর দুই ব্লকের তপসিয়া অঞ্চলের আঁধারিয়া এলাকায়।

জানা যায়, ঘটনার দিন রাতে নিজের বাড়িতে খাওয়ার সময় গুলিবিদ্ধ হন তপসিয়া গ্রামপঞ্চায়েতের আঁধারিয়া বুথের তৃণমূল প্রার্থী নিরঞ্জন দাসের প্রস্তাবক,নির্বাচনি এজেন্ট বিকাশ নায়েক। বিকাশ বাবুর পরিবারের অভিযোগ আঁধারিয়া বুথের নির্দল প্রার্থী ভবেশ পানির বিরুদ্ধে। বিকাশ নায়েকের ছেলে সুরজিৎ নায়েক সংবাদ মাধ্যমের সামনে সরাসরি অভিযোগ করেছেন ভবেশ পানি ও তার দলবল নিয়ে প্রায় ১৫-১৬ জন লোকেদের নিয়ে এদিন রাতে বাড়িতে চাড়াও হয়ে বিকাশ বাবুকে লক্ষ করে গুলি চালায়। গুলি লাগে তার হাতে। এদিন রাতে এই ঘটনার পরেই এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনা স্থলে পৌছে বিকাশ বাবুকে উদ্ধার করে ঝাড়গ্রাম জেলা সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করান। তপসিয়া অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি এবং আধারিয়া বুথের তৃণমূলের প্রার্থী নিরঞ্জন দাসও অভিযোগ তুলেছেন ভবেশ পানির দিকে।

তিনি বলেন, “বিকাশ নায়েক আমার নির্বাচনি এজেন্ট এবং প্রস্তাবক। আমার বিরুদ্ধে ভবেশ পানি দাঁড়িয়েছে। এলাকায় সন্ত্রাস তৈরির উদ্দেশ্যে ভবেশ পানি দলবল নিয়ে বিকাশ বাবুর উপর গুলি চালিয়েছে।” উল্লেখ্য তপসিয়া গ্রামপঞ্চায়েতে মোট আসন রয়েছে ১২ টি। এর মধ্যে তিনি আসনে তৃণমূল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় লাভ করেছে। আধারিয়া বুথটিতেও তৃণমূল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতে গিয়েছিল। এই আসনে মনোনয়ন করছিলেন তৃণমূলের পক্ষে ভবেশ পানি। কিন্তু কোর্টের নির্দেশে নির্বাচন কমিশন একদিন মনোনয়নের দিন বাড়তে শেষ দিনে এই আসনে তৃণমূলের টিকিট পেয়ে মনোনয়ন করেন তপসিয়া তৃণমূল অঞ্চল সভাপতি নিরঞ্জন দাস। ভবেশ পানি টিকিট না পেয়ে নির্দল হন। আর নির্দল হয়ে তিনি লড়ছেন।আধারিয়া আসনটিতে লড়াই এখন তৃণমূল বনাম নির্দল।

অন্যদিকে নির্দল প্রার্থী ভবেশ পানি বলেন, “আমি নির্দল হয়ে লড়ছি বলে আমার উপর মিথ্যা অভিযোগ চাপানো হচ্ছে। আমি কখনই এই ঘটনার সাথে জড়িত নই। আমি এখনো তৃণমূল কর্মী। আর সেই হিসেবে বুথ কমিটি এবং গ্রামবাসীরা আলোচনা করে আমাকে প্রার্থী হিসেবে মনোনিত করেছিল। তাই আমি তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা করেছিলাম।বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতেও ছিলাম। কিন্তু কিন্তু মনোনয়ন জমার শেষ দিনে নিরঞ্জন দাসকে দল থেকে প্রার্থী করা হল। আমি গ্রামবাসীদের সমর্থনে নির্দল হিসেবে লড়ছি। যাকে প্রার্থী করা হল তিনি তো এলাকার লোকও নন। সুবিধা অসুবিধায় গ্রামের লোকেরা তো তাকে পাবেন না। আমি কোন ভাবেই এই ঘটনায় জড়িত নই। নির্দল বলে আমাকে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হচ্ছে।” তবে এই ঘটনায় আবারও তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দল প্রকাশ্যে এসেছে।

এই বিষয়ে ঝাড়গ্রাম জেলা তৃণমূলের সভাপতি অজিত মাইতি বলেন,” ঘটনার কথা আমি শুনেছি। তবে ঠিক কি ঘটনা ঘটেছে তা আমি খোঁজ খবর নিয়ে দেখছি।”

Related Articles

Stay Connected

0FansLike
3,487FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles