ভাগাড়ের কাণ্ডের জাল কি এবার সিমান্ত লাগোয়া বনগাঁ শহরেও?

Spread the love
  • 19
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    19
    Shares

অরিন্দম রায় চৌধুরী ও শান্তুনু বিশ্বাস, বনগাঁঃ

ভাগাড় কান্ডে এবার অভিযানে বনগাঁ থানার পুলিশ এবং পৌরসভার স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকরা। ৫ই মে থানার অন্তর্গত বিভিন্ন এলাকায় যৌথভাবে হানা দিয়ে একাধিক রেস্তোরায় পচা বিরিয়ানি ও খাবার উদ্ধার করে, যার দরুন ২টি দোকান সিল করে দেয় বনগাঁ থানা।

মুলত ৪ঠা মে চিড়িয়াখানা, বর্ধমানের পর সিমান্ত লাগোয়া বনগাঁ শহরের বাটার মোড়, স্টেট ব্যাংক লাগোয়া এবং বনগাঁ চাকদা রোডের বিভিন্ন আবাসিক হোটেল ও রেস্টুরেন্ট থেকে উদ্ধার হয় পচা মাছ মাংস এমনকি একটি আবাসিক হোটেলের ফ্রিজ থেকেও উদ্ধার হয় পচা বিরিয়ানিও। এদিন মোট ৩টি এলাকার নামী হোটেল বনগাঁ থানা ও পৌরসভার পক্ষ থেকে সিল করে দেওয়া হয়। এরই পাশাপাশি নমুনা সংগ্রহ করে পরিক্ষা করতে পাঠানো হয়েছে বলে জানা যায়। যদিও অপরদিকে এই সব হোটেলের মালিকদের বক্তব্য, তারা ওই খাবার বিক্রি করেন না। ফ্রিজে রেখে ভুলে গিয়েছিলেন।

উল্লেখ্য বনগাঁ পৌরসভার অভিযানে গত ৫ই মে বনগাঁ পৌরসভার সম্মুখেই ২টি বড় হোটেল থেকে উদ্ধার হয় পচা মাংস, বাসি বিরিয়ানির মাংস। এছাড়া এর সাথে আরও বেশ কয়েকটি ছোট খাটো হোটেল থেকেও উদ্ধার করা হয় পচা খাবার এবং বহু দিনের পচা মাংস। এই বিষয় ফোনে যোগাযোগ করা হলে বেঙ্গল টুডের প্রতিনিধিকে কৃষ্ণা দেবী বলেন, “বর্তমানে এই সমস্ত ব্যাবসাইরা সাধারণ মানুষকে ছাগল মনে করে বসেছেন। যে যা দেবে তাই খাবে”। তিনি আরও বলেন, “এখন এই সমস্ত অসাধু ব্যাবসাইদের মধ্যে এক অদ্ভুত চিন্তা ধারার উদ্দ্রেক হয়েছে যে অল্পে মুনাফা করার অর্থাৎ মানুষকে সঠিক পরিশেবা না দিয়ে পয়সাটা নেওয়া। তারা মুনাফা করছেন ঠিকই কিন্তু সঠিক পরিষেবাটা দিচ্ছেন না”। কৃষ্ণা দেবীর মতে, “অধিক মুনাফা করার জন্য মানুষকে বাজে খাবার খাইয়ে দিনে দিনে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়াটা ঠিক নয়। এটা সবথেকে নৃশংস তম ঘটনা”। এই ঘটনায় কৃষ্ণা দেবী বেশ আশ্চর্যের সাথেই প্রশ্ন করেন, “এই ভাগাড় কাণ্ডের পরও কিভাবে এই সমস্ত দোকানের মালিকরা এই ঘটনা ঘটাল? এত সাহস তারা পেল কোথা থেকে”।

প্রসঙ্গত গত ৫ই মে-র অভিযানে যে সব হোটেল থেকে মানুষের অখাদ্য খাবার উদ্ধার করা হয়েছে, তাতে ছোট-বড় সব মিলিয়ে ৩থেকে ৪টে হোটেল সিল করা হয়। সেই সব হোটেলের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবী করেন বনগাঁ পৌরসভার উপ-পৌরপ্রদান কৃষ্ণা রায়। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে অপরদিকে উপ-পৌরপ্রধান সাধারন মানুষের উদ্যেশে বলেন, “বর্তমানে মানুষের মধ্যেও এক অদ্ভুত প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, নিজের বাড়ীতে রান্না না করে হোটেল থেকে খাবার কিনে খাওয়ার। এই প্রবণতা থেকে বিরত থাকতে হবে সাধারণ মানুষকে ও বাড়িতে তৈরি রান্না করা খাবারই খাওয়া উচিত, আসলে মানুষকে বুঝতে হবে আমার জীবনটা আমারই, তাই আমাকেই সেটাকে সুস্থ রাখতে হবে”।

বর্তমানে কলকাতার পর ভাগাড় কান্ডের জাল রাজ্যের প্রতিটি জেলায় যেভাবে ছড়িয়ে পড়েছে এর জেরে আতঙ্কে রয়েছে রাজ্যের খাদ্য রসিক বাঙালি। তবে বনগাঁ পৌরসভার এই কঠোর পদক্ষেপ যে এলাকার মানুষকে যথেষ্টই আশ্বস্ত করতে পেরেছে তা বলাই বাহুল্য।

সম্পর্কিত সংবাদ