সিপিআইএম ও বিজেপি কে কটাক্ষঃ মানস ভুঁইয়া

সিপিআইএম ও বিজেপি কে কটাক্ষঃ মানস ভুঁইয়া

সন্দীপ ঘোষ, ঝাড়গ্রাম:

৩৪ বছর ধরে যারা বাংলাকে শোষণ করেছে, ধ্বংস করে দিয়েছে, এখন সেই মার্কসবাদী কমিউনিটি পার্টীর গোডাউন থেকে প্রার্থী তুলে এনে পদ্মফুল চিহ্নে দাঁড় করিয়েছে বিজেপি। তাই এদেরকে একটিও ভোট দেবেন না। ৪ ঠা মে ঝাড়গ্রাম জেলার গোপীবল্লভপুর ১ নম্বর ব্লকের জগন্নাথপুরে তৃণমূলের প্রার্থীদের হয়ে ভোট চাইতে এসেছিলেন সাংসদ মানস ভুঁইয়া। এদিন জগন্নাথপুরে একটি রাজনৈতিক জনসভায় যোগ দিতে এসেছিলেন মানস বাবু।

তিনি বলেন, জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত এই সরকার মানুষের পাশে রয়েছে। মানস বাবু এদিন ওই সভা মঞ্চে দাঁড়িয়ে বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী যে ৪৭ টি প্রকল্প চালু করেছে তা আপনাদের কোনও রাজ্যে এই প্রকল্প গুলিকে চালু করেছে দেখাতে পারবেন? যদি দেখিয়ে দেন কথা দিলাম আমরা এখান থেকে ছেড়ে পালিয়ে যাব। কোনও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবো না। এক লক্ষ কুড়ি হাজার মানুষকে দু টাকা কেজি দরে চাল দিচ্ছেন। যা বাংলা ছাড়া অন্য কোনও রাজ্যে দেওয়া হয় না। সবুজ সাথী প্রকল্পের মাধ্যমে স্কুলের ছেলে মেয়েদের সাইকেল দেওয়া চলছে। আমরা সব বিভেদ ভুলে কে সিপিএম, কে কংগ্রেস, কে বিজেপি দেখা হয় না। আমাদের সরকার সবাইকে সাইকেল দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী সব ধর্মের মানুষজনদের এক সাথে নিয়ে থাকতে চাই। আর বিজেপি বিভেদের রাজনীতি করছে। আগের ইংরেজদের মতো করতে চাইছে দেশটাকে।

তিনি আরও বলেন, আমি কংগ্রেস থেকে বিধায়ক হয়ে যখন গোপীবল্লভপুরে, নয়াগ্রাম, জাম্বনী, লালগড়, রামগড়, বেলপাহাড়ী, বাঁশপাহাড়ীতে এসেছিলাম তখন দেখেছি এই এলাকার আদিবাসী ভাই বোনেরা জঙ্গল থেকে ইঁন্দুর মেরে এনে পুড়িয়ে খেত, জঙ্গলের লাল পিঁপড়ের ডিম খেয়ে জীবন যাপন করতো। তখন কোথায় ছিল সিপিএম, বিজেপি। রাতের বেলায় পুলিশের পোষাক পরে এলাকার কংগ্রেস, ঝাড়খন্ড পার্টীর নরেনের লোকজনদের মারধর করতো, মেরে মাটিতে পুঁড়ে রেখে দেওয়া হত। এই নির্বাচনে গোপীবল্লভপুরে ৮০ টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে মাত্র ২৪ টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে সিপিএম। তা হলে আর বাকি গুলো বিজেপি এখন সিপিএমের সাথে গোপনে আঁতাত আছে। ঝাড়গ্রাম জেলায় ৮০৬ টি গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রর্থী দিয়েছে তৃণমুল, বিজেপি দিয়েছে ৭২৬ তা সত্ত্বেও কি করে বলছে তৃণমূল সন্ত্রাস সৃষ্টি করেছে। এরা আসলে দুটাকা কেজি দরের চাল, কন্যাশ্রীর টাকা, সবুজ সাথী প্রকল্পের সাইকেল সহ বিভিন্ন প্রকল্প গুলিকে বন্ধ করে দিতে চাইছে। আবার সেই ছত্রিশগড় থেকে মাওবাদীদের নিয়ে এসে জঙ্গলমহলে অশান্তি করার চেষ্টা করছে। আগেকার সেই কালো দিন ফেরানোর চেষ্টা করছে। তাই বলছি একটাই প্রতিক, একটাই নেত্রী, একটাই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখে ভোট দেবেন।

এদিনের এই সভায় উপস্থিত ছিলেন, উপস্থিত নয়াগ্রামের দুলাল মুর্মু, পঞ্চায়েত নয়াগ্রাম সমিতির সভাপতি ও এবারের বিনপুরের জেলা পরিষদের প্রার্থী উজ্বল দত্ত, জেলা ছাত্র পরিষদের সভাপতি সত্যরঞ্জন বারিক, এবারের জেলা পরিষদের প্রার্থী সমায় মান্ডি ও সোমা অধিকারি সহ প্রমুখ। এদিন মানস বাবু,জগন্নাথপুরের সভা সমাপ্ত করে গোপিবল্লভপুর ১ ব্লকের শাসরা গ্রামের জনসভাতে যোগদান করেন।পর পরবর্তী সভা গোপিবল্লভপুর ২ ব্লকের বলদি গ্রামের জনসভায় যোগদান করার কথা থাকলেও অসুস্থতার কারনে ফিরে যান। বলদি গ্রামের সভার শূন্যস্থান পূরণ করেন ক্রেতা সুরক্ষা মন্ত্রী সাধন পান্ডে ও বিধায়ক সুকুমার হাঁসদা।

You May Share This
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *