তৃণমূল কংগ্রেসকে রাজনৈতিক ভাবে প্রত্যক্ষান করুনঃ শমিক ভট্টাচার্য

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সন্দীপ ঘোষ, ঝাড়গ্রাম:

২রা মে ঝাড়গ্রামের গোপীবল্লভপুর ২ নম্বর ব্লকের চরচিতা অঞ্চলের নোটা গ্রামে বিজেপি প্রার্থীদের হয়ে প্রচারে এসে তৃণমূলকে আক্রমন করল বিজেপির রাজ্য নেতা শমিক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, আমার কাছে বোমা, গুলি, বন্ধুক কিছু নেই আমি আপনাদের রক্ষা করতে পারবোনা। কিন্তু আমি আপনাদের এটাও বলবোনা কেউ আপনাকে মারবে আর আপনি চুপ করে থাকবেন। তবে এটা বলছি প্রতিশোধ আমাদের পথ নয়। দাতের বদলে দাঁত, চোখের বদলে চোখ, গনতন্ত্রের আইন ভেঙে গনতন্ত্র চলেনা, সভ্য সমাজ চলেনা, একটা সভ্য দেশ চলেনা। আপনাদের কাছে আবেদন তাই তৃণমূল গুলি চালাক বোম চালাক যাই করুক সমস্ত রাজনৈতিক পদক্ষেপে থেকে তৃণমূল কে প্রত্যক্ষাণ করুন। তৃণমূল কংগ্রেসের চোখে চোখ রেখে সরাসরি সমস্ত পদক্ষেপে না করুন। কোন নিছুতেই তৃণমূল কংগ্রেস কে রাখবেন না উন্নয়নে না, রাজনীতি তে না,পঞ্চায়েতে না, দলীয় পতাকাতে না। কোন মারামারি হিংসার প্রয়োজন নেই।

এদিন সভার শুরুতেই তিনি বলেন, আমি এখানে বক্ততা করতে আসিনি। এই প্রখর রোদে দাঁড় করিয়ে বক্ততা শোনাবো সেই অপরাধ করতে আসিনি। আমরা কি পেতে পারতাম সেটা বলতে এখানে এসেছি। পঞ্চায়েত নির্বাচনটা কি সেটা বলতে এসেছি। পঞ্চায়েত নির্বাচনের মানে একটাই রাজনৈতিক ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ করার। আজকে এই ভূমিহীন কৃষকদের কাছে কি পৌছে দিতে হবে সেটা এই গ্রামের মায়েরা, ভায়েরা ঠিক করবেন। আর বাংলার মুখ্যমন্ত্রী নবান্নে বসে কি ঠিক করতে চেয়েছিলেন যে এই ভোট প্রক্রিয়া মানি না। তিনি চেয়েছিলেন কোনও ভোট প্রক্রিয়া ছাড়াই নিজেদের ক্ষমতা কায়েম রাখতে।

এছাড়া আরও বলেন, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী চেয়েছিলেন কোনও পরিক্ষা না দিয়ে পাশ করতে। আর নেচে নেচে গলায় মালা পরিয়ে দিতে। পঞ্চায়েত নির্বাচনে ৩০ শতাংশ প্রার্থী নির্বচনে তাদের প্রার্থী পদ দাখিল করতে পারেনি। আসনে কোনও প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে ভয় পাচ্ছিলেন। তিনি বলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মানুষকে ভুল বুঝিয়ে মিথ্যে স্বপ্ন দেখিয়ে ছিলেন কোলকাতা লন্ডন হবে, দার্জিলিং সুইজারল্যান্ড হবে বলে। উল্টে আজ বাংলায় মানুষের কোনও নিরাপত্তা নেই সরকার মানুষের নিরাপত্তা দিতে ব্যার্থ। খুন, সন্ত্রাস সৃষ্টি করছে এই সরকার। মহিলাদের শ্লীলতাহানি করছে, গ্রামে গ্রামে সন্ত্রাস সৃষ্টি করছে যাতে করে পঞ্চায়েত ভোটে এলাকার মানুষজন প্রার্থী পদ দাখিল করতে না পারে। শতবাধা সত্ত্বেও আমাদের কর্মীরা নির্বাচনে প্রার্থীপদ দাখিল করেছে। টাকা দেবে মোদী আর ছাপ লাগাবে দিদি এটা হতে পারে না। আমরা ঘুষখোর সরকার চাই না। নির্বাচনের নামে প্রহসন চালাতে চাইছে এই সরকার। নির্বাচন কি হবে তার জন্য সেটা ঠিক করতে হচ্ছে হাইকোর্টকে। কদফায় ভোট হবে সেটাও এখনো আমরা জানি না। তৃণমূলের লাল চোখকে ভয় পাবেন না। তৃণমূলের নেতাদের চোখে চোখ রেখে মোকাবিলা করুন। কোনও সন্ত্রাস নয় রাজনৈতিক ভাবে তৃণমূলকে পরাজিত করতে হবে। সেটা আপনারাই পারেন।

অপরদিকে এদিনের সভায় প্রায় ৫০ জন তৃণমূল কর্মী বিজেপিতে যোগদান করেন। শ্রমিক ভট্টাচার্য ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, রাজ্য বিজেপির সম্পাদক তুষার ঘোষ, ঝাড়গ্রাম জেলার সাধারন সম্পাদক আবনি কুমার ঘোষ, যুব মোর্চা নেতা অনুরণ সেনাপতি সহ প্রমুখ।

সম্পর্কিত সংবাদ