Friday, August 19, 2022
spot_img

সত্যজিৎ রায়ের ৯৭তম জন্মদিন

ওয়েবডেস্ক, বেঙ্গল টুডেঃ

২রা মে বিখ্যাত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের ৯৭ তম জন্মবার্ষিকী। ১৯২১ সালে কলকাতা শহরে সাহিত্য ও শিল্প জগতে খ্যাতনামা এক বাঙালি পরিবারে তিনি জন্মগ্রহন করেন। তার বাবার নাম সুকুমার রায় এবং মায়ের নাম সুপ্রভা রায়। তিনি কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ ও বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। সত্যজিতের কর্মজীবন একজন বাণিজ্যিক চিত্রকর হিসেবে শুরু হলেও প্রথমে কলকাতায় ফরাসি চলচ্চিত্র নির্মাতা জঁ রনোয়ারের সাথে সাক্ষাৎ ও পরে লন্ডন শহরে সফররত অবস্থায় ইতালীয় নব্য বাস্তবতাবাদী ছবি লাদ্রি দি বিচিক্লেত্তে (ইতালীয় ভাষায় Ladri di biciclette, “বাইসাইকেল চোর”) দেখার পর তিনি চলচ্চিত্র নির্মাণে উৎসাহীত হন।

তিনি সবপ্রথম যে চলচ্চিত্রটির নির্মাণ করেছিলেন তার জন্য আজও বাঙালি তথা গোটা বিশ্বের কাছে জনপ্রিয়। তার প্রথম ছবি “পথের পাঁচালি”। আর এই ছবিটির জন্য তিনি ১১টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করেন, যাদের মধ্যে অন্যতম ছিল কান চলচ্চিত্র উৎসবে পাওয়া “শ্রেষ্ঠ মানব দলিল” অর্থাৎ (Best Human Documentary) পুরস্কারটি। পথের পাঁচালী, অপরাজিত ও অপুর সংসার – এই তিনটি চলচ্চিত্রকে একত্রে অপু ত্রয়ী বলা হয়, এবং এই চলচ্চিত্র-ত্রয়ী তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ কাজ হিসেবে বহুল স্বীকৃত। সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র নির্মাণের বাইরে তিনি ছিলেন একাধারে কল্পকাহিনী লেখক, প্রকাশক, চিত্রকর, গ্রাফিক নকশাবিদ ও চলচ্চিত্র সমালোচক। এর দরুন তিনি তার বর্ণময় কর্মজীবনে বহু পুরস্কার পেয়েছেন তবে এগুলির মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হল ১৯৯২ সালে পাওয়া ‘একাডেমি সম্মানসূচক পুরস্কারটি ‘(অস্কার), যা তিনি সমগ্র কর্মজীবনের স্বীকৃতি হিসেবে অর্জন করেন। অবশেষে ১৯৯২ সালে হৃদযন্ত্রের জটিলতা নিয়ে অসুস্থ হন সত্যজিৎ রায় এবং হাসপাতালে ভর্তি হন। মূলত সে অবস্থা থেকে তাঁর স্বাস্থ্য আর ভালো হয়নি। এমনকি মৃত্যুর কিছু সপ্তাহ আগে অত্যন্ত অসুস্থ ও শয্যাশায়ী অবস্থায় তিনি তাঁর জীবনের শেষ পুরস্কার একটি সম্মানসূচক অস্কার গ্রহণ করেন। এরপর ১৯৯২ সালের ২৩শে এপ্রিল সত্যজিৎ রায় মৃত্যুবরণ করেন।

প্রসঙ্গগত সত্যজিৎ রায় তাঁর জীবদ্দশায় প্রচুর পুরস্কার পেয়েছেন। তিনিই দ্বিতীয় চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব যাঁকে ‘অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়’ সাম্মানিক “ডক্টরেট ডিগ্রি” প্রদান করে। প্রথম চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব হিসেবে অক্সফোর্ডের ‘ডিলিট’ পেয়েছিলেন চার্লি চ্যাপলিন। ১৯৮৭ সালে ফ্রান্সের সরকার তাঁকে সেদেশের বিশেষ সম্মনসূচক পুরস্কার ‘লেজিওঁ দনরে’ ভূষিত করে। ১৯৮৫ সালে পান ভারতের সর্বোচ্চ চলচ্চিত্র পুরস্কার ‘দাদাসাহেব ফালকে’ পুরস্কার। ১৯৯২ সালে মৃত্যুর কিছুদিন পূর্বে একাডেমি অফ মোশন পিকচার আর্টস অ্যান্ড সাইন্সেস তাকে আজীবন সম্মাননাস্বরূপ ‘একাডেমি সম্মানসূচক পুরস্কার’ প্রদান করে। মৃত্যুর কিছুদিন পূর্বেই ভারত সরকার তাঁকে প্রদান করেন দেশের সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান ‘ভারতরত্ন’। সেই বছরেই মৃত্যুর পরে তাঁকে ‘মরণোত্তর আকিরা কুরোসাওয়া’ পুরস্কার প্রদান করা হয়। প্রয়াত পরিচালকের পক্ষে এই পুরস্কার গ্রহণ করেন ‘শর্মিলা ঠাকুর’।

 

Related Articles

Stay Connected

0FansLike
3,439FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles