আজ মান্না দে’র ৯৯তম জন্মদিন

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বেঙ্গলটুডে ডেস্ক, কলকাতাঃ

ভারত বললে ভুল হবে, সম্পূর্ণ উপমহাদেশের প্রখ্যাত এই সঙ্গীতশিল্পী মান্না দের জন্মদিন আজ (১ মে)। ‘কফি হাউজের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই’- গানটির সঙ্গে চিত্রকল্পে ভেসে আসে তার মুখ। এমন অসংখ্য গানের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়জুড়ে জায়গা দখল করে আছেন তিনি।

বাংলা, হিন্দি, মারাঠি, গুজরাটি, পাঞ্জাবি, অসমিয়াসহ বিভিন্ন ভাষায় অজস্র গান গেয়ে বিশ্বসঙ্গীত জগতে বিখ্যাত হয়েছেন। বৈচিত্র্যের বিচারে তাকেই হিন্দি গানের ভুবনে সর্বকালের সেরা গায়ক হিসেবে অনেকেই গণ্য করেন। ১৯৪৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘তামান্না’ চলচ্চিত্রে গায়ক হিসেবে তার অভিষেক ঘটে। রবীন্দ্রসঙ্গীতসহ প্রায় সাড়ে তিন হাজার গান গেয়েছেন এই কিংবদন্তি।

মান্না দে’র অসংখ্য জনপ্রিয় বাংলা গানের মধ্যে রয়েছে- “কফি হাউজের সেই আড্ডা”, “সবাই তো সুখি হতে চায়”, “যদি কাগজে লিখ নাম”, “পৌষের কাছাকাছি রোদ মাখা সেইদিন”, “কতদিন দেখিনি তোমায়”, “এই কূলে আমি”, “কথা দাও”, “খুব জানতে ইচ্ছে করে”, “আমি সারারাত”, “এ নদী এমন নদী”, “মাঝরাতে ঘুম”, “এই আছি বেশ”, “এইরাত যদি”, “কি এমন কথা”, “ক’ফোঁটা চোখের জল”, “সে আমার ছোটবোন”, “দীপ ছিল শিখা ছিল”, “যদি হিমালয়”, “শাওন রাতে”, “আমার ভালোবাসার রাজপ্রাসাদে”, “স্বপ্নে বাজেগো বাঁশি”, “তীর ভাঙা ঢেউ”, “না না যেও না”, “তুমি আর ডেকো না”, “সুন্দরী গো দোহাই দোহাই”।


জনপ্রিয় হিন্দি গানের মধ্যে রয়েছে- ইয়ারি হে ইমান মেরা ইয়ার মেরি জিন্দেগি, না মাক্স সোনা চান্দি, জিন্দেগি ক্যয়সি হে পাহেলি হায়, পেয়ার হুয়া ইকরার হুয়া, লাগা চুনরি মে দাগ, এ মেরি জোহরা জাবিন, চুনরি সামহাল গোরি, এক চতুর নার কারকে সিঙ্গার, ইয়ে দোস্তি হাম নেহি তোরেঙ্গে, মুড় মুড় কে না দেখ।

৬০ বছরের সঙ্গীত জীবনে অসামান্য অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ ভারতের সর্বোচ্চ সম্মাননা ‘পদ্মশ্রী’, ‘পদ্মবিভূষণ’ এবং ‘দাদা সাহেব ফালকে’ খেতাবসহ অসংখ্য খেতাব অর্জন করেন তিনি। ২০০৪ সালে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় ও ২০০৮ সালে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ডি-লিট সম্মাননা লাভ করেন।

২০০৫ সালে বাংলা ভাষায় তার আত্মজীবনী ‘জীবনের জলসাঘরে’ আনন্দ প্রকাশনী থেকে প্রকাশ হয়। পরে এটি ইংরেজিতে ‘মেমরিজ কাম এলাইভ’, হিন্দিতে ‘ইয়াদেন জি ওথি’ও মারাঠী ভাষায় ‘জীবনের জলসাঘরে’ নামে ভাষান্তর হয়। মান্না দে’র জীবনী নিয়ে ‘জীবনের জলসাঘরে’ নামে ২০০৮ সালে একটি তথ্যচিত্রও মুক্তি পায়।

এই শিল্পী ১৯১৯ সালের ১ মে কলকাতার একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর দক্ষিণাঞ্চলের কেরালার মেয়ে সুলোচনা কুমারনকে বিয়ে করেন মান্না দে। তাদের সংসারে শুরোমা (১৯৫৬) ও সুমিতা (১৯৫৮) নামে দুই কন্যাসন্তান জন্মগ্রহণ করেন। ২০১৩ সালের ২৪ অক্টোবর তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৯৪ বছর।

সম্পর্কিত সংবাদ