মুক্তি পেতে পারেন জনসাধারণ কমিটির নেতা ছত্রধর মাহাত, সেই সম্ভবনাই উজ্জ্বল হচ্ছে জঙ্গলমহলে

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সন্দীপ ঘোষ, ঝাড়গ্রাম:

মুক্তি পেতে পারেন জনসাধারণ কমিটির নেতা ছত্রধর মাহাত। সেই সম্ভবনাই উজ্জ্বল হচ্ছে জঙ্গলমহলে। ইতিমধ্যে আইনি জটিলতাকে মসৃণ করার কজ শুরু হয়েছে। প্রশাসনিক থেকে রাজনৈতিক সমস্ত মহলে শুরু হয়েছে গুঞ্জন। ইউপি এ মামলায় যাবজ্জীবন সাজা হয়েছে ছত্রধর মাহাতোর। ছত্রধর মাহাতোর ঘনিষ্ট মহল সূত্রে জানা যায়, সরকারের সঙ্গে ছত্রধর মাহাতোর মুক্তি নিয়ে কথা হয়েছে। সেই আলোচনা অনেকটাই ইতিবাচক হয়েছে। তবে ঠিক কবে ছত্রধর মাহাতো মুক্তি পেতে পারে তা নিয়ে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ছত্রধর মাহাতোর আইনজীবী কৌশিক সিনহা সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “এবিষয়ে আমি কিছু জানি না” অন্যদিকে ছত্রধর মাহাতোর স্ত্রী নিয়তী মাহাতো ফোনে বলেন, “ব্যস্ত আছি” এই বলে এড়িয়ে গিয়েছেন। ছত্রধরের মুক্তির ব্যাপারে এখুনি কিছু মন্তব্য করতে নারাজ সব মহলই।

উল্লেখ্য, জঙ্গলমহলে তথা তৎকালিন ঝাড়গ্রাম মহকুমা এবং পশ্চিমমেদিনীপুরে বাম আমলে ২০০৮ সালে পুলিশি সন্ত্রাশের বিরুদ্ধে ব্যাপক আন্দোলন শুরু হয়। ২০০৮ সালে ২রা নভেম্বর মেদানীপুরের শালবানির কাছে তৎকালিন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচাযের্র কনভয়ে মাওবাদীরা বিস্ফোরন ঘটায়। অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছিলেন বুদ্ধদেব বাবু। এরপর শুরু হয় জঙ্গলমহলের গ্রামে গ্রামে পুলিশি অত্যাচার। লালগড়ের পেলিয়াতে আদিবাসী মহিলা ছিতামনি মুর্মুর উপর পুলিশি অত্যাচার হয়। পুলিশের মারে ওই বৃদ্ধার একটি চোখ নষ্ট হয়ে যায়। এই ঘটনার পরই জঙ্গলমহল জুড়ে পুলিশের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হয়। তৈরি হয় পুলিশ সন্ত্রাশ বিরোধী জনসাধারনের কামিটি। একদিকে মাওবাদী অন্যদিকে পুলিশ সন্ত্রাশ বিরোধী জনসাধারনের কমিটি তৎকালিন বাম সরকার এবং তার পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যাপক আন্দো্লন শুরু করে। দলিলপুর চকে প্রথম মহিলাদের সামনে রেখে জনসাধারনের কমিটি পথ অবরোধের মাধ্যমে আন্দোলন শুরু করে। কমিটির সদর দফতর হয়ে ওঠে ছোট পেলিয়া। লালগড়ের আমালিয়া গ্রামের বাসিন্দা পাতা ব্যবসায়ী ছত্রধর মাহতোকে পুলিশ সন্ত্রাশ বিরোধী জনসাধারনের কমিটির আহ্বায়ক করা হয়। হার্মাদের অত্যাচার এবং এলাকায় অনুন্নয়ন নিয়ে পুলিশ সন্ত্রাশ বিরোধী জনসাধারনের কমিটি টানা আন্দোলন সংগঠিত করেছিল।

২০০৯ সালে ২৬শে সেপ্টেম্বর লালগড়ের ছোট পেলিয়া থেকে পুলিশ সাংবাদিকদের ছদ্মবেশে সাক্ষাৎকার নেওয়ার ছলে ছত্রধর মাহাতোকে গ্রেফতার করে। ছত্রধর মাহাতোর বিরুদ্ধে খুন, নাশকতা, সহ রাষ্ট্রোদ্রহিতার একাধিক মামলা রুজু করা হয়। তার বিরুদ্ধে ইউএপিএ ধারা মামলা রুজু হয়। ২০১৫ তে ইউএপিএ তে ছত্রধর মাহতোকে জাবজ্জীবন কারদন্ড দেয় আদালত। ছত্রধর মাহাতোর মুক্তির খবর ছড়ানোর পর ঝাড়গ্রাম সহ প্রশাসনের বিভিন্ন উচ্চমহলে রীতিমত আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে। তবে তার মুক্তির বিষয়ে এখুনি কিছু বলতে চাননা পরিবারের সদস্যরা। ছত্রধর মাহাত মুক্তির খবর বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত হওয়ার পর তার প্রিয়জন এলাকাবাসীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে খুশির হাওয়া।

সম্পর্কিত সংবাদ