মিয়ানমার সীমান্তের জিরো পয়েন্টে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে জাতিসংঘের প্রতিনিধিরা

Share Bengal Today's News
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ওয়েবডেস্ক, বেঙ্গল টুডেঃ

মিয়ানমার সীমান্তের তুমব্রু জিরো পয়েন্টের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন সফররত জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। ২৯শে এপ্রিল সকাল ৯ টা নাগাদ ২৬ সদস্যের এক প্রতিনিধি দল জিরো পয়েন্টে অবস্থান করা রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘুরে দেখেন এবং রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলেন।

জিরো পয়েন্ট পরিদর্শন শেষে প্রতিনিধি দলটি উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যান। এদিন বিকেলে তাদের ঢাকায় যাওয়ার কথাও রয়েছে। জাতিসংঘের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, সরকারি পদস্থ ও বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা।

২৮শে এপ্রিল বিকেলে কুয়েত এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে ইরাক থেকে সরাসরি কক্সবাজারে আসেন জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ৪০ সদস্যের প্রতিনিধি দলটি। এরপর তারা উখিয়ার ইনানীর রয়েল টিউলিপ হোটেলে গিয়ে বাংলাদেশ সরকারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় নিরাপত্তা পরিষদের এ দলের কাছে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জোরালো পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ জানিয়েছেন বাংলাদেশের কর্মকর্তারা। 


কক্সবাজারে ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রসচিব রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.) মো. খুরশেদ আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ৩ টি বিষয়ে আলাদা উপস্থাপনা তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে প্রথাগত ও অপ্রথাগত নিরাপত্তা বিষয়ে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের পক্ষে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুনিরুল ইসলাম আখন্দ, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার আবুল কালাম এবং প্রত্যাবাসনের পরিপ্রেক্ষিতে অধিকার ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অনুবিভাগ) তারেক মোহাম্মদ প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। বাংলাদেশের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধিরা রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখার আশ্বাস দিয়েছেন।

যদিও বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধিদের ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম। প্রতিনিধিদলের এক প্রশ্নের উত্তরে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে মিয়ানমারের ওপর চাপ দেওয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, মিয়ানমারে গণতন্ত্র এলে রোহিঙ্গা পরিস্থিতির উন্নতি আশা করেছিল বাংলাদেশ। রাখাইনে রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতিকে অস্বীকার যে কারও জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে না, সেটিও তিনি উল্লেখ করেন।

নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য আমেরিকা, রাশিয়া, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও চীন ছাড়া অস্থায়ী ১০ সদস্যের মধ্যে নেদারল্যান্ডস, সুইডেন, পোল্যান্ড, কুয়েত, বলিভিয়া, পেরু, কাজাখস্তান, ইথিওপিয়া ও গিনির প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে এসেছেন। আইভরি কোস্টের স্থায়ী প্রতিনিধি সম্প্রতি মারা যাওয়ায় সে দেশের কোনো প্রতিনিধি আসেননি। দলের অন্যরা হলেন জাতিসংঘের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা। জাতিসংঘে পেরুর স্থায়ী প্রতিনিধি এবং চলতি মাসে নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতি গুস্তাভো মেজা সুয়াদ্রা প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

সম্পর্কিত সংবাদ