একদিনে দুবার দাঁতাল হাতির সামনে পড়েও প্রানে বেঁচে ফিরলেন এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক

Share Bengal Today's News
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সন্দীপ ঘোষ, ঝাড়গ্রাম:

একদিনে দু দুবার হাতির সামনে পড়ে বাঁচার আশা না থাকলেও ভাগ্যের জোরে প্রানে বেঁচে ফিরলেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক। প্রথম বার পা পিছলে হাতির সামনে পড়ে এবং দ্বিতীয় বার প্রানে বাঁচতে কোনক্রমে উঠে ছুটে পালতে চেষ্টা করলেও হাতির শুঁড়ের আঘাতে ছিটকে পড়েন। বা হাত এবং বুকের পাজর ভাঙলেও বেঁচে গিয়েছেন ওই শিক্ষক। জামবনি ব্লকের ঘং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শুভেন্দু মাহাতো ঝাড়গ্রাম জেলা সুপারস্পেশালিটি হাসপাতেলের মেল সার্জিক্যাল বিভাগের বেডে শুয়ে এখনো বিশ্বাস করতে পারছেন না তিনি আদতে বেঁচে ফিরেছেন।

২৬শে এপ্রিল ঝাড়গ্রাম জেলার জামবনি ব্লকের বালিডিহা গ্রামের বাসিন্দা বছর ৩৫-এর শুভেন্দু বাবু দুপুর নাগাদ বিদ্যালয় সেরে বাড়ি ফিরেছিলেন। বালিডাহা গ্রাম থেকে মাত্র এক কিমি দূরে পাশের গ্রাম চুটিয়া গ্রামে আট নয় টি হাতির পাল ঢুকেছে এই খবরে গ্রামবাসীদের অনেকে দেখতে গিয়েছিল। শুভেন্দু বাবুও গ্রামের অন্যান্যদের সাথে হাতি দেখতে গিয়েছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য চুটিয়া গ্রামের জঙ্গল লাগোয়া একটি বাগানে আট নয় টি হাতি ঢুকেছিল। আর হাতি দেখতে অনেক দূরের লোকজনও ভীড় করেছিল। শুভেন্দু বাবু সাইকেল নিয়ে গিয়েছিলেন হাতি দেখতে। তিনি এবং গ্রামের অন্যান্যরা বেশ কিছুটা তফাতে দাঁড়িয়েই হাতি দেখছিলেন।

বালিডিহা গ্রামের বাসিন্দা সদা মাহাতো বলেন, “আমরা অনেকেই পাশের গ্রাম থেকে হাতি দেখতে গিয়েছিলাম। অনেকটা দূরেই দাঁড়িয়েছিলাম। হঠাৎই ওই দলের একটি হাতি ভয়ংকর ভাবে শুঁড় তুলে আওয়াজ করতে করতে আমাদের দিকে ছুটে আসে । সবাই পালায়। কিন্তু শুভেন্দু হাতির সামনে পড়ে যায়।”

হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে কাতরাতে কাতরাতে শুভেন্দু বাবু বলেন, “অনেকটা দূরেই দাঁড়িয়ে ছিলাম। হঠাৎই ওই দলের একটা হাতি আমাদের দিকে তেড়ে আসে। সবাই ছুটে পালায়। আমিও পালানোর চেষ্টা করি। কিন্তু পায়ের চপ্পল পিছলে গিয়ে হাতির সামনে পড়ে যাই। আমি দেখতে পারছিলাম নির্ঘাত মৃত্যু। হাতিটি এগিয়ে আসছে।ঘাবড়ে গিয়েছিলাম প্রচন্ড। বুঝি এই শেষে হয়ে গেল প্রানটা। এক বার সাহাস করে বাঁচার চেষ্টা করলাম। কোনক্রমে উঠে ডান দিক ধরে ছুটতে থাকি। বেশ কিছুটা ছোটার পর দেখি হাতি আমার একেবারে সামনে। প্রচন্ড একটা ধাক্কা অনুভব করি।ঝাপসা চোখে দেখি হাতিটা তখনো আমায় খুঁজছে। শুধু মনে আছে আমি জঙ্গলের শুকনো পাতায় লুটিয়ে পড়েছিলাম।”

প্রত্যক্ষদর্শী গ্রামবাসীরা জানান, দ্বিতীয় বার শুভেন্দু বাবু যখন ছুটে পালাচ্ছিলেন তখন হাতিটি তাকে নাগালে পেয়ে শুঁড় দিয়ে ধাক্কা মারে। ওই ধাক্কায় শুভেন্দু মাহাতো ছিটিকে গিয়ে শুকনো পাতার মাঝে পড়ে। হাতি তাকে খুঁজে না পেয়ে ফিরে যায়। তবে এদিন হাতির দলটি যথেষ্ট মারমুখি ছিল। হাতিটি রাগে উন্মত্য হয়ে পা দিয়ে ধুলো ছিটাচ্ছিল। আর সেই ধুলাতেই হাতিটি শুভেন্দু বাবুকে দেখতে পায়নি।

সম্পর্কিত সংবাদ