ধর্ম নয় মানবিকতা,একতার এক নজির

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সন্দীপ ঘোষ, ঝাড়গ্রামঃ

ধর্ম নয় মানবিকতা, একতার এক নজির তৈরি করেছেন সাবানা পারভিন। যদিও এলকায় রেশমা বলেই পরিচিত। তিনি ধর্মের সংকীর্ণতার উর্ধে গিয়ে নিজে উদ্যোগে গত কয়েক বছরে ধরে এলাকায় শীতলা পুজোর আয়োজন করে চলছেন। শুধু এতেই থেমে থাকেননি তিনি এলাকায় মহিলাদের একত্রিত করে ২০১৪ সাল থেকে এলাকায় এই শীতলা পুজোকে সর্বজনিন করে তুলেছেন। শীতলা পুজোকে কেন্দ্র করে তিন দিন ধরে এলাকার মানুষ জন ভোজনে সামিল হয়। তাঁর এই উদ্যোগে সামিল হয়ে এলকার মহিলারা প্রতি বছর মতে ওঠেন পূজোর ক’দিন। “আমরা সবাই” পরিচালিত শ্রীশ্রী শীতলা পুজোর প্রান ভোমরা তিনি। এযেন দূর্গা পুজোর আনন্দকেও হার মানায়।

ঝাড়গ্রাম শহরের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাছুরডোবা স্টেশন পাড়া। এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী সাবানা পারভিন ২০১৪ সালে নানা বাধা অতিক্রম করে উদ্যোগী হয়ে শুরু করে শীতলা পুজো। তার এই উদ্যোগে সামিল হন এলাকার মহিলারা। তারাও এগিয়ে আসেন রেশমার সাথে। শুরু হয়ে যায় শীতলা মাতার পুজো। ধর্ম এখানে কখোনই বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। তিনি মুসলিম। কিন্তু রেশমাকে কখোনই একথা শুনতে হয়নি। উপরুন্তু তার পাশে থেকে অন্যান্য মহিলারা সমান ভাবে পুজো পরিচালনায় এগিয়ে এসেছে। মানুষের আপদে, বিপদে তিনি সব সময় এগিয়ে আসেন। তার এই স্বভাবের জন্য এলাকার মানুষও তাকে খুবই ভালোবাসে।

২১শে এপ্রিল থেকে শুরু হয়েছে বাছুরডোবা স্টেশন পাড়াতে শীতলা পুজা। চলবে ২৩শে এপ্রিল পর্যন্ত। আর এই ৩ দিন এলাকার মানুষজনকে পেট ভর্তি খাবার খাওয়ানো হয়। প্রথম দুদিন ভাত এবং নিরামিশ আহার। শেষ দিন খিচুড়ি নিরামিশ তরকারি। রেশমা পুজোর উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি নিময় মেনে এলাকায় মাগনে বের হন। পুজো কমিটির সদস্যদের কাছ থেকে সংগ্রীহিত অর্থ দিয়ে আয়োজিত হয় এই পুজো অনুষ্ঠান। আয়োজনে কোন ঘাটতি দেখা দিলে রেশমা তা পূরণ করেন।

সাবানা পারভিন বলেন,” ২০১৪ সালে থেকে এই শীতলা পূজোর উদ্যোগ নিয়ে পূজো করে আসছি। পুজোর জন্য জমি পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিলেও কখোনই ধর্ম নিয়ে কোন সমস্যা হয়নি। কোন দিন আমাকে জাত বা ধর্ম নিয়ে কেউ কোন কথা বলেনি। এমনকি এলাকার মহিলাদের সব সময় পাশেই পেয়েছি।”

সম্পর্কিত সংবাদ

Leave a Comment