ঝাড়গ্রামের ৪০ বিঘা জমিতে অ্যালোভেরা চাষ করে বিকল্প রোজগারের পথ দিতে চলেছে বায়োডাইভার্সিটি বোর্ড

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সন্দীপ ঘোষ, ঝাড়গ্রামঃ

ঝাড়গ্রামের ৪০ বিঘা জমিতে অ্যালোভেরা চাষ করে ঔষধি বাগান গড়ে বিকল্প রোজগারের পথ দিতে চলেছে বায়োডাইভার্সিটি বোর্ড। ঝাড়গ্রাম জেলার নয়াগ্রাম ব্লকে ঔষধি বাগান তৈরী করে এলাকার মানুষের বিকল্প পদ্ধতিতে রোজগারের সন্ধান দেওয়ার ব্যবস্থা পরিকল্পনা রয়েছে। ঔষধি বাগান গড়ে তোলার দায়িত্বে যে সমস্ত মানুষজন যুক্ত থাকবেন তাদের উৎপাদিত ঔষধি বাজারদর হবার পর যা লাভ্যাংশ থাকবে তা দেওয়া হবে। এইভাবে নয়াগ্রামের মতো প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে ঔষধি বাগান তৈরী করে স্থানীয় মানুষদের যুক্ত করে রোজগারের পথ দেখাতে চাইছে বায়োডাইভার্সিটি বোর্ড। এই চল্লিশ বিঘা জমিতে কেবলমাত্র অ্যালোভেরা গাছই নয় থাকবে বিভিন্ন প্রজাতির ঔষধি গাছ। তবে অ্যালোভেরা বাজারে চাহিদা বেশী থাকার জন্য তার প্রাধান্য বেশী দিয়ে পঞ্চাশ শতাংশ জায়গাতে অ্যালোভেরা চাষ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামী বেশকিছু দিনের মধ্যেই গাছ লাগানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে। ঝাড়গ্রাম জেলার নয়াগ্রাম ব্লকের প্রত্যন্ত এলাকার ডাহি প্রাকৃতিক উদ্যানে প্রায় চল্লিশ বিঘা জমির উপর গড়ে উঠবে এই ঔষধি বাগান। ইতিমধ্যে ডাহি প্রাকৃতিক উদ্যানে চাষের জন্য জলের সু ব্যবস্থা করা হয়েছে। বর্তমানে ঐ ডাহি বাগানে তরমুজ এর চাষ চলছে, ফলন ও ভালো হচ্ছে। এই তরমুজ জমি থেকে উঠে গেলেই শুরু হবে ঔষধি গাছ লাগানোর কাজ।

উল্লেখ্য নয়াগ্রাম ব্লকের মুড়াকাটি, ধানশোলা, খাগড়িতে বন দফতরের উদ্যোগে চলছে ঔষধ গাছের বাগান। এতে লাভ্যাংশও খুব ভালো হচ্ছে বলে এবার ডাহি প্রাকৃতিক উদ্যানে ঔষধি চাষের জন্য উঠে পড়ে লেগেছে বায়োডাইভার্সিটি বোর্ড। এই ঔষধি বাগানের পঞ্চাশ শতাংশে অ্যালোভেরা লাগানো হলেও বাকী জায়গাতে হরীতকী, বহেড়া, আমলকী সহ বেশকিছু আয়ুর্বেদিক গাছ লাগানো হবে। অ্যালোভেরা গাছের বাজার দর যথেষ্ট। প্রশাধন শিল্প সহ বিভিন্ন ঔষধ তৈরীতে এই গাছের চাহিদা প্রচুর।

বায়োডাইভার্সিটি বোর্ডের নয়াগ্রাম ব্লকের চেয়ারম্যান তথা নয়াগ্রাম পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি উজ্বল দত্ত বলেন, “নয়াগ্রাম ব্লকে বন দফতরের তৈরী ভেষজ বাগান রয়েছে বেশ কয়েকটি। এইবার বায়োডাইভার্সিটি বোর্ড উদ্যোগ নিয়েছে নয়াগ্রামের ডাহিতে প্রাকৃতিক উদ্যানের একটি জায়গা নির্দিষ্ট করে ঔষধি গাছের বাগান তৈরীর জন্য। জমি প্রস্তুত হয়ে গেছে পাশাপাশি জলেরও ব্যবস্থা হয়ে গেছে। চল্লিশ বিঘা জমিতে হবে এই বাগান। একটি কমিটি গড়ে তোলা হবে যারা এই বাগানের দেখভাল করবে। ঔষধি গাছ বাজার দর হবার পর যা লাভ্যাংশ থাকবে তা ঐ কমিটির সদস্যরা পাবেন।” ঝাড়গ্রাম জেলার শেষ প্রান্তে নয়াগ্রামের মতো প্রত্যন্ত এলাকায় এই ঔষধি চাষ আগামী দিনে ব্যপক আর্থিক উন্নতির পথ দেখাবে।

সম্পর্কিত সংবাদ