নতুন বছরে নাতি নাতনিদের নতুন পোশাক কিনে না দিতে পারায় মানসিক যন্ত্রণায় দাদুর আত্মহত্যা

নতুন বছরে নাতি নাতনিদের নতুন পোশাক কিনে না দিতে পারায় মানসিক যন্ত্রণায় দাদুর আত্মহত্যা

শান্তনু বিশ্বাস, হাবড়াঃ

১৪ই এপ্রিল হাবড়া থানার অন্তর্গত কৈপুকুর উচু আমতলা এলাকায় আত্মঘাতী বছর ৫৫-এর এক ব্যক্তি। মৃতের নাম বিদ্যুৎ চ্যাটাজ্যী। পেশায় ইলেকট্রিক মিস্ত্রি।

স্থানীয় সুত্রে খবর, হাবড়া থানার অন্তর্গত কৈপুকুর উচু আমতলা এলাকার বাসিন্দা পেশায় ইলেকট্রিক মিস্ত্রি বিদ্যুৎ চ্যাটাজ্যীর দুই মেয়ে। স্থানীয় এলাকায় তার দুই মেয়েকে বিয়ে দেন তিনি। বিগত ৪ বছর আগে কিডনির অসুখের দরুন তার স্ত্রী মারা যান। তারপর থেকে একাই থাকতেন বিদ্যুৎ বাবু।

এছাড়া রোজ দুই মেয়ের বাড়িতে নিয়ম করে দুবেলা নাতিদের সাথে দেখাও করতেন তিনি। এমনকি ঘটনার দিনও তিনি সকালে ঘুম থেকে উঠে ছোট মেয়ের বাড়িতে গিয়ে দেখে তারা ঘুমাচ্ছে তাই দেখে ঘরের দরজার সামনেই একটি বল ও একটি চকলেট রেখে চলে যায়। ছোট জামাই ঘুম থেকে উঠে দরজার সামনে এই সমস্ত জিনিসপত্র দেখে বুঝতে অসুবিধা হয়নি তার শ্বশুড় মাশাই এসেছিল। কিন্তু কারও সাথে দেখা না করে, এভাবে বল ও চকলেট রেখে চলে গেলেন ? তাই সন্দেহের অবকাশ দূর করতে জামাই বিদ্যুৎ বাবুর ফোনে ফোন করতে থাকলে বিদ্যুৎ বাবু কিছুতেই ফোন ধরেনা। ফোন না তোলাতে সন্দেহ হলে মেয়ে জামাই বাড়িতে খুজতে এসে দেখে বাড়ির জানলা দরজা সব বন্ধ। এরপর তারা বাড়ির পিছন দিকে গিয়ে দেখেন বাগানে কাঠাল গাছে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলছেন বিদ্যুৎবাবু। এরপর সাথে সাথে তাকে হাবড়া হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। দেহ ময়না তদন্তের জন্য বারাসাতে পাঠানো হয়েছে।

পারিবারিক সুত্রে খবর, বেশ কয়েক দিন ধরে তার মানসিক পরিস্থিতি ঠিক ছিলনা। এমনকি কাজ কর্ম ঠিকমত হচ্ছিল না তাই নাতি দের পয়লা বৈশাখে জামা কাপড় কিনে দিতে পারবে না এমনটা জানিয়েছিল বলে জানা যায়। তাই সেই মানসিক যন্ত্রণায় এই আত্মহত্যা বলে অনুমান পরিবারের। আপাতত এলাকায় শোকের ছায়া বর্তমান।

You May Share This

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.