36 C
Kolkata
Saturday, April 20, 2024
spot_img

দক্ষিন রায়ের মৃত্যুতে বনদফতরকে দোষী করে জঙ্গলমহলে শোকের ছায়া

সন্দীপ ঘোষ, ঝাড়গ্রামঃ

দক্ষিন রায়ের মৃত্যুতে বনদফতরকে দোষী করে জঙ্গলমহলে শোকের ছায়া। খাঁচা খুলে অন্যত্র সরানো হচ্ছে। বনদফতর একটু নজর রাখলে হয়তো বাঁচিয়ে রাখা যেত বাঘ মামাকে। লালগড়ের বাসিন্দারা এক প্রকার মেনেই নিয়ে ছিলেন ডোরাকাটা থাকবে তার মতো করে গভীর জঙ্গলে। কিন্তু শিকার উৎসব কেড়ে নিল নীরিহ বাঘটির প্রান। দক্ষিন রায় আদৌও বুঝতে পারেনি এই ভাবে তার অন্তিম যাত্রা সাধিত হবে।

১৪ই এপ্রিল দক্ষিন রায়ের মৃত্যু মেনে নিতে পারছে না জঙ্গলমহলের জনতা। সবার মনে একটাই প্রশ্ন বনদফতর একটু সচেতন হলে হয় তো বা বাঁচানো যেত লালগড়ের রাজাকে। এদিনও লালগড়ে এক আতঙ্কের পরিবেশ। শোকাহত আপামর জনসাধারন। দেখলে মনে হবে এ যেন এক ভাঙা হাট। জঙ্গল থেকে গুটিয়ে নেওয়া হচ্ছে খাঁচা। ময়দান ছাড়ছেন বনকর্মীরা।

স্থানীয় বাসিন্দারা মানতে পারছেন না যেভাবে বাঘটিকে নৃসংশভাবে মেরে ফেলা হয়েছে। লালগড়ের বিভিন্ন গ্রাম মেখেলখেড়িয়া, মধুপুর, সহ মেদিনীপুরের চাঁদড়া, ধেড়ুয়া, বাঘঘোরা সহ বিস্তীর্ন গ্রাম গুলিতে এক থম থমে পরিবেশ। দক্ষিন রায়কে ঘিরে গত আড়াই মাস ধরে যেভাবে সরগরম থেকেছে লালগড় সহ লাগোয়া এলাকা গুলি সেই জায়গা থেকে এক দিনেই বদলে গিয়েছে পরিবেশ। জঙ্গলে আর ডোরাকাটার ভয় নেই। শুকনো পাতায় আর শোনা যাবেনা রাজকীয় বাঘের চলনের শব্দ। মিলবে না আর পায়ের ছাপ। ভীড় জমাবে না মানুষ জন। এক দিনেই বদল ঘটেছে অনেক। বাঘ আর নেই। তাও এদিন জঙ্গলে যেতে দেখা যায়নি এলাকার সাধারণ মানুষকে। পাতা, কাঠ কুড়াতে দেখা যায়নি এলাকার মানুষকে এতটাই বিষন্ন হয়ে পড়েছে মানুষজন।

লালগড়ের বিভিন্ন জঙ্গলে এদিন বাঘের জন্য পাতা খাঁচা গুলি থেকে ছাগল বার করে গুটিয়ে নেওয়া হয়েছে টোপ। লালগড়ের এলাকা জুড়ে এদিন শুধুই দেখা গিয়েছে সাধারণ মানুষ বাঘের মৃত্যুতে কতটা মর্মাহত। ভাঙাডালি গ্রামের বিরেন টুডু, লালগড়ের সঞ্জয় মাহাতোরা বলছিলেন যা হল তা ঠিক হল না। বনদফতর আরো একটু সতর্ক হলে হয়তো আটকানো যেত । বাঘটি বেঁচে যেত। বাঘ নিয়ে আতঙ্ক থাকলেও গ্রামবাসীরা কখনোই চায়নি বাঘকে মেরে ফেলা হোক। আমরা মেনে নিতে পারছি না আমাদের এলাকায় এসে জাতীয় পশুকে এইভাবে মেরে ফেলা হবে। আমাদের সবার মন খুব খারাপ।

এমনকি সুন্দরবন থেকে আসা বিশেষজ্ঞ দলের সদস্যরা রীতিমত মর্মাহত। নাম প্রকাশ না করে তারা বলছিলেন "আমাদের সন্তান হারানো মতো কষ্ট হচ্ছে। কিছুতেই মানতে পারছি না এইভাবে নৃসংশভাবে মেরে ফেলা হবে। বিশ্বাস করুন আমরা আপ্রান চেষ্টা করে ছিলাম। হাজার খানেক লোক আমাদের পেটে লাথি মেরে, ধাক্কা মেরে জঙ্গল থেকে বার করে দিয়েছে। জঙ্গলে ঢুকতে পারলে অবশ্যই বাঁচাতে পারতাম জাতীয় পশুটিকে।"

Related Articles

Stay Connected

17,141FansLike
3,912FollowersFollow
21,000SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles